ভূমিকা:
অর্থনীতিতে কল্যাণ অর্থনীতি (Welfare Economics)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা ছিলেন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ Arthur Cecil Pigou (এ. সি. পিগু)। তিনি তাঁর কল্যাণ তত্ত্বে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। পিগুর মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সামাজিক স্বার্থ সব সময় এক নয়। তাই যেখানে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কর, ভর্তুকি এবং বিভিন্ন নীতিমালার মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করে সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাঁর এই তত্ত্ব আধুনিক কল্যাণ অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
মূল আলোচনা:
পিগুর কল্যাণ তত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো—কোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম তখনই সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে, যখন তা সমাজের সামগ্রিক মঙ্গল বৃদ্ধি করবে। তিনি সামাজিক কল্যাণকে অর্থনৈতিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন এবং বলেছেন যে, জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও তার ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
পিগুর মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রম সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন—কারখানার দূষণ, শব্দদূষণ ইত্যাদি। আবার কিছু কার্যক্রম সমাজকে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে, যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এসব ক্ষেত্রে তিনি নেতিবাচক বহিঃপ্রভাব (Negative Externality) কমাতে কর আরোপ এবং ইতিবাচক বহিঃপ্রভাব (Positive Externality) বাড়াতে ভর্তুকি প্রদানের পরামর্শ দেন।
এছাড়া তিনি আয়ের বৈষম্য কমিয়ে সম্পদের সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে আয় বৃদ্ধি পেলে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, পিগুর কল্যাণ তত্ত্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকারি হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায় এ তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আয় বৈষম্য হ্রাসের ক্ষেত্রে পিগুর কল্যাণ তত্ত্ব এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
