এ.সি পিগুর কল্যাণ তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী? ইসলামী ব্যাংকের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।

ভূমিকা

অর্থনীতিতে কল্যাণের ধারণা মানুষের জীবনমান ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ.সি. পিগু (A.C. Pigou) আধুনিক কল্যাণ অর্থনীতির অন্যতম প্রবর্তক। তিনি দেখিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের যথাযথ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদমুক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।

এ.সি. পিগুর কল্যাণ তত্ত্বের মূল বক্তব্য

এ.সি. পিগুর কল্যাণ তত্ত্বের প্রধান বক্তব্যগুলো হলো—

১. সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি: জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং তার ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।

২. রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা: বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে রাষ্ট্রকে কর, ভর্তুকি ও বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

৩. বাহ্যিক প্রভাব (Externalities): উৎপাদন বা ভোগের ফলে যদি অন্য ব্যক্তি বা সমাজ লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে রাষ্ট্রকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪. সম্পদের দক্ষ ব্যবহার: সমাজের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে যাতে সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।

৫. আয় বৈষম্য হ্রাস: ধনীদের তুলনায় দরিদ্রদের কাছে অতিরিক্ত আয়ের উপযোগিতা বেশি হওয়ায় আয়ের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে কল্যাণ বৃদ্ধি সম্ভব।

৬. কর ও ভর্তুকির ব্যবহার: ক্ষতিকর উৎপাদনে কর এবং উপকারী উৎপাদনে ভর্তুকি প্রদান করে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত।

ইসলামী ব্যাংকের বৈশিষ্ট্যসমূহ

ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

১. সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. শরিয়াহভিত্তিক পরিচালনা: সকল কার্যক্রম ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

৩. লাভ-লোকসান ভাগাভাগি: মুদারাবা ও মুশারাকা পদ্ধতিতে লাভ-লোকসান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়।

৪. হালাল বিনিয়োগ: শুধুমাত্র বৈধ ও শরিয়াহসম্মত খাতে বিনিয়োগ করা হয়।

৫. ঝুঁকি ভাগাভাগি: ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়েই ব্যবসায়িক ঝুঁকি বহন করে।

৬. সামাজিক কল্যাণমুখী: যাকাত, সদকা ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

৭. নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা: সকল লেনদেনে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়।

৮. সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন: প্রকৃত সম্পদ বা পণ্যভিত্তিক বিনিয়োগ করা হয়; কাল্পনিক বা জুয়ামূলক লেনদেন পরিহার করা হয়।

উপসংহার

এ.সি. পিগুর কল্যাণ তত্ত্ব সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংক সুদমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। উভয় ধারণার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ন্যায্যতা এবং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।