জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ও অনার্স পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (Special Needs) শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র (Answer Scripts) সাধারণ শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের সাথে না মিলিয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে লাল কালিতে চিহ্নিত করে প্যাকেজ ও সিলগালা করা হয়।
এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও প্রশাসনিক নিয়ম রয়েছে:
১. শ্রুতিলেখক (Scribe/Writer) সহায়তার ভিন্নতা
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই শারীরিকভাবে লিখতে না পারায় বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে শ্রুতিলেখক (অন্য কোনো শিক্ষার্থী) দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ান। সেক্ষেত্রে উত্তরপত্রের হাতের লেখা ও পরীক্ষার্থীর তথ্যের ধরণ কিছুটা ভিন্ন হয়।খাতা আলাদা প্যাকেজ করা থাকলে মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক বুঝতে পারেন যে এটি শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে লেখা হয়েছে।
২. অতিরিক্ত সময় ও বিশেষ বিবেচনার হিসাব
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অটিস্টিক, ডাউন সিন্ড্রোম বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময় (সাধারণত প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০-১৫ মিনিট বা মোট ৩০ মিনিট অতিরিক্ত) পান। উত্তরপত্র আলাদা থাকলে প্রধান পরীক্ষক বা নিয়ন্ত্রক দপ্তর নিশ্চিত হতে পারেন যে অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার নিয়মটি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা।
৩. সহানুভূতিশীল ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তরপত্র যখন পরীক্ষকদের (Examiners) কাছে পাঠানো হয়, তখন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদা করার কারণে সেটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ পায়। পরীক্ষক যাতে তাদের শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরপেক্ষ ও সংবেদনশীলতার সাথে খাতা মূল্যায়ন করতে পারেন, সেজন্য এই পৃথক ব্যবস্থাপনা।
৪. সমাজসেবা অধিদপ্তরের সনদ ও প্রশাসনিক রেকর্ড
পরীক্ষার্থীর বিশেষ চাহিদার তথ্য (সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী কার্ড ও প্রবেশপত্রের কপি) আগেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হয়। কেন্দ্র থেকে আলাদা বান্ডিল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব এক্সামিনেশন বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা সহজেই তাদের রেকর্ড মিলাতে এবং ডাটাবেজে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।
প্যাকেজিংয়ের নিয়ম:
কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া থাকে যাতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেটের ওপর স্পষ্ট করে লাল কালিতে “Answer Sheet for Candidates with Disabilities” বা প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র লিখে সিলগালা করা হয় এবং তা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।


