ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

✍️বাংলাদেশের বহুমুখী খামারের অসুবিধাসমূহ কী কী ?

[ad_1]

✍️বাংলাদেশের বহুমুখী খামারের অসুবিধাসমূহ কী কী ?

উত্তর : বাংলাদেশের বহুমুখী খামারের অসুবিধাসমূহ নিম্নরূপ :

১. কৃষকের দক্ষতা হ্রাস : বহু ফসল উৎপাদন করা হয় বলে কৃষকের ফসল উৎপাদন দক্ষতা হ্রাস পায় । এর ফলে গড় উৎপাদন হ্রাস পায় । ঘটে না ।

২. উন্নত ধ্যানধারণার অভাব : বহুমুখী খামার সাধারণত জীবন নির্বাহী হয়ে থাকে । পরিবারের ভরণ পোষণের জন্যই এ ধরনের খামার পরিচালিত হয় । কৃষকদের মনে বাণিজ্যিক ধ্যানধারণা ও উন্নত জীবনযাপনের চিন্তাভাবনার বিকাশ .

৩. সফল পরিবেশের উপযোগী নয় : দেশের সফল অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বহুমুখী খামার পরিচালনা করা সম্ভব নয় ।

৪. উপকরণ সংগ্রহের অসুবিধা : বহু ফসলি খামারে বহুমুখী উপকরণ সংগ্রহ করতে হয় । এর ফলে উপকরণ সংগ্রহে সময় বেশি । এবং শ্রমিক বেশি লাগে ।

৫. উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে অসুবিধা : বহুমুখী খামারের উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে অসুবিধা হয় । কারণ এ ধরনের জমিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায় ।

৬. বাজারজাতকরণে অসুবিধা : বহুমুখী খামারে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে ব্যয় বেশি হয় । কারণ একাধিক ফসল একাধিক বাজারে পাঠাতে হয় । ক্রয় ফলে পরিবহন ও যাতায়াত ব্যয় বাড়ে । আবার সময়ও বেশি লাগে ।

✍️উন্নত দেশ এবং বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের কৃষি কাঠামোর পার্থক্য আলোচনা কর ।

উত্তর : উন্নত দেশসমূহের কৃষি কাঠামোর ও অনুন্নত দেশসমূহের কৃষি কাঠামোর মধ্যে সুস্পষ্ট রয়েছে । নিম্নে প্রধান প্রধান পার্থক্য আলোচনা করা হচ্ছে ।

১. অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশের কৃষিকে সনাতন কৃষি বলা হয় । পক্ষান্তরে , উন্নত দেশের কৃষিকে আধুনিক কৃষি বলা হয় ।

২. অনুন্নত দেশ কৃষিখাতে সর্বাধিক কর্মসংস্থান যোগায় । কিন্তু উন্নত উন্নত দেশ বিভিন্ন উৎপাদন খাতের মধ্যে কৃষি একটি উৎপাদন খাত মাত্র ।

৩. উন্নত দেশে কৃষি একটি ব্যবসা । চাষি মুনাফার উদ্দেশ্য কৃষিকাজ সম্পাদন করে । কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশে চাষি নিজে পরিবারের খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য কৃষিকাজ করে থাকে ।

৪. উন্নত দেশে কৃষক সাধারণত শিল্পখাতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ থেকে উচ্চতর আয়ের অধিকারী হয় । কিন্তু অনুন্নত দেশে কৃষক সাধারণত অতি অল্প আয়ের অধিকারী হয় এবং অন্যান্য খাতের নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের আর্থিক অবস্থা উন্নততর হয় ।

৫. কোন কোন অনুন্নত দেশে কৃষির মধ্যে ছোট আধুনিক বাণিজ্যিকভিত্তিক কৃষির উপখাত সৃষ্টি করে । দ্বৈততা বিরাজ করে । কিন্তু উন্নত দেশে সমগ্র কৃষিখাত বাণিজ্যভিত্তিক ।

৬. উন্নত দেশে কৃষক অন্যান্য ব্যবসায়ীর মতো ঝুঁকি নতুন উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করে । কিন্তু অনুন্নত দেশে কৃষক ঝুঁকিবিহীন যুগ যুগ ধরে পরীক্ষিত ও ব্যবহৃত উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে ।

৭. উন্নত দেশের কৃষি সমগ্র অর্থনীতির মধ্যে আত্মীকৃত হয়েছে । কিন্তু অনুন্নত দেশে কৃষিখাতে দেশের অর্থনীতির মধ্যে আত্মীকৃত হয় নি । মূল্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতির মধ্যে বিভিন্ন খাতে যেভাবে উপকরণের বিলিবণ্টন হয় সে বিলিবণ্টন ব্যবস্থার মধ্যে কৃষিখাত অন্তর্ভুক্ত নয় ।

✍️অর্থনৈতিক জোত কাকে বলে ?

উত্তর : কৃষির ফলন বৃদ্ধি করতে হলে কৃষি – খামারের আয়তন পরিমিত হওয়া বাঞ্ছনীয় । অর্থনৈতিক জোতের পরিমানের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদগণের মধ্যে মতবিরোধ আছে । তবে সাধারণত কৃষিজোতের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত যাতে নিয়োজিত শ্রম ও মূলধনের পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভবপর হয় । অর্থনৈতিক জোতের পরিমান কতটুকু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা মশকিল । একজন কৃষকের পক্ষে সর্বোত্তম সর্বাপেক্ষা লাভজনক ভাবে যতটুকু জমি চাষ করা সম্ভব এবং একটি সংসার স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে প্রতিপালনের জন্য যা যথেষ্ট , তাই আর্থিক জোত । ডঃ ম্যানের মতে , “ অর্থনৈতিকজোেত এমন একটি জমি যা একটি পরিবারের জন্য সন্তোষজনক বলে বিবেচিত ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ যোগ্যতা সক্ষম ।

” নির্বাহের উপযুক্ত স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করতে পারে । ”

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে , কোন একটি নির্দিষ্ট এককের মধ্যে অর্থনৈতিক জোতকে সীমাবদ্ধ করা যায় না । সকল জমির উর্বরতা সমান নয় , সর্বত্র জলসেচের সুবিধা সমান নেই এবং সর্বত্র কৃষি পদ্ধতি একরূপ নয় । সুতরাং অর্থনৈতিক জোতের পরিমাণ স্থির করার সময় এসব বহুবিধ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয় ।

✍️ শিল্পের উপর কৃষির নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : শিল্পের উপর কৃষির নির্ভরশীলতা :

১. শিল্পের প্রসারতা : কৃষি উন্নয়নের জন্য শিল্পের প্রসারতা আবশ্যক । কৃষির আধুনিকীরণের জন্য শিল্পের বিকল্প নেই । এ কারণে কৃষি উন্নয়নের জন্য দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন আবশ্যক ।

২. পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ : আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বেশির ভাগ বাণিজ্য কাঁচামালের মাধ্যমে হয় বিধায় পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য লাভ সম্ভব হয় না । তাই অনুকূল ভারসাম্যের জন্য আমাদের দেশে শিল্প বৃদ্ধি করা আবশ্যক ।

৩. কৃষি পণ্যের অপচয় রোধ : কৃষিপণ্যের অপচয় রোধের জন্য আমাদের বেশি পরিমাণে শিল্প স্থাপন করা উচিত উদ্বৃত্ত মালামালের অর্থনৈতিক ব্যবহারের জন্য আমাদের দেশে শিল্পের পরিমাণ বৃদ্ধি করা উচিত ।

৪. কাঁচামাল চাহিদা বৃদ্ধি : শিল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কাঁচামালের চাহিদা ও বৃদ্ধি পাবে । উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে কাঁচামালের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কৃষকেরা নিজ নিজ পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য লাভ করে অধিক উৎপাদনের উৎসাহ ফিরে পাবে ।

৫. আমদানি হ্রাস : কৃষিতে বেশি উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার আবশ্যক স্থানীয়ভাবে এসব উপকরণ তৈরি সম্ভব হলে আমদানি খাতে ব্যয় হ্রাস পাবে । কাজেই কৃষি উপকরণের আমদানি হ্রাস করার জন্য শিল্প খাতের উন্নতি করতে হবে ।

✍️ দারিদ্র্য বিমোচনে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম আলোচনা কর ।

উত্তর : মৎস্য অধিদপ্তরের অধিকাংশ কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচনকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হচ্ছে । মৎস্য চাষ কার্যক্রম জোরদার করার জন্য রাজস্ব বাজেটের আওতায় ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির অধিনে অভীষ্ট জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে । এ ছাড়া সমন্বিত মৎস্য চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩ কোটি এবং অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে আরো ২.৫ কোটি সর্বমোট ৩০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে । মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য জনগোষ্ঠী তথা মৎস্যচাষি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে । বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্বখাত হতে ঋণ প্রাপ্ত সুফলভোগীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজারে উন্নীত হয়েছে । সুফলভোগদের মাঝে বিতরণকৃত ঋণের আদায়ের হার বেশ ফলপ্রসূ ।

✍️ কৃষি চাষাবাদ খামার ধারণা ও প্রকারভেদ আলোচনা কর ।

উত্তর : খামার বলতে সকল রকমের ভূমি ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে । পৃথিবীর বিস্তৃত এলাকা যেখানে কৃষি , শিল্প ও অন্যান্য সকল প্রকার উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয় সেসব ক্ষেত্রই খামার । খামারের আয়তন বড় কিংবা ছোট যে কোন ধরনের হতে পারে । তবে যে ভূমিতে কৃষি কাজ করা হয় তাকে কৃষি খামার বলে । কৃষি খামারের চাষাবাদের প্রকৃতি ও আয়তনের দিক দিয়ে এটাকে দুভাবে ব্যাখ্যা করা যায় । ক . জীবন নির্বাহী খামার ( Subsistance Farm ) : জীবন নির্বাহী খামার বা পারিবারিক খামার বা আত্মতোষণ খামার বলতে সে আয়তনের ভূখণ্ডকে নির্দেশ করে যেখানে উৎপাদনের সুষ্ঠু প্রয়োগের ফলে একর প্রতি যে ফসল উৎপন্ন হয় । এর আয় হতে ঐ ভূমি খণ্ডে নিয়োজিত কৃষক এবং তার পরিবার মোটামুটি জীবন নির্বাহে সক্ষম । অর্থাৎ জীবন নির্বাহের জন্য কৃষক যে ভূমি খণ্ডে ফসল উৎপাদন করে তাকে জীবন নির্বাহী খামার বলে ।

বাণিজ্যিক খামার ( Commercial Fram ) : বাণিজ্যিক খামার বা বিশেষায়িত খামার বলতে ঐ খামারকে নির্দেশ করে যেখানে উৎপাদনকারী বৃহদায়তন ভিত্তিক উৎপাদন কার্যক্রম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালনা করে । বাণিজ্যিক খামারের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে উদ্বৃত্ত সৃষ্টির মাধ্যমে অস্বাভাবিক মুনাফা সর্বোচ্চকরণ । এ ধরনের খামার অসংখ্য শ্রম নিয়োগ করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা করা হয় , যার ব্যবস্থাপনার ও পরিচালনার দ্বারা উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাতকরণ করা হয় । তা থেকেই মুনাফা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক সুবিধা বড় করে দেখা হয় ।

✍️ সবুজ বিপ্লব কী ?

উত্তর : সবুজ বিপ্লৰ : সবুজ বিপ্লব মূলত কৃষি উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত একটি ধারণা । বিপ্লব বলতে সাধারণত কোন কিছুর আমূল পরিবর্তনকে বুঝায় । কোন বস্তুর পরিমাণগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই তার গুণগত পরিবর্তন আসে । উচ্চ ফলনশীল ধান ও গমের বীজ কৃষি ক্ষেত্রে প্রবর্তনের কৃষি উৎপাদনে যে অভূতপূর্ব ইতিবাচক লক্ষ্য করা যায় অর্থনীতিবিদগণ তাকেই সবুজ বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্কার এক সময়কার প্রশাসক William Gand ১৯৬৮ সালে ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির এক সভায়

” The Green Revolution : Accomplaments and Apprehecsions ” নামক বক্তৃতায় সবুজ বিপ্লব কথাটিকে একটি রাজনৈতিক শ্লোগান হিসেবে অভিহিত করেছেন । সবুজ বিপ্লব হলো কৃষি উৎপাদনের এক বিরাট পরিবর্তন । সবুজ বিপ্লব কথাটি সংকীর্ণ ও বিস্তৃত এ দু অর্থে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে । কোন কোন অর্থনীতিবিদ বিস্তৃত অর্থে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষিখাতের ব্যাপক পরিবর্তনের বিষয় অর্থাৎ খাদ্য ঘাটতি দূর করা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তনের বিষয়টি সবুজ বিপ্লব হিসেবে নির্দেশ করেছেন । আবার অনেকে সংকীর্ণ অর্থে এটাকে উচ্চ ফলনশীল ধান ও গমের উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর খাদ্য সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ।

✍️ সবুজ বিপ্লব কী ?কৃষিক্ষেত্র প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎসসমূহ কী কী ?

উত্তর : প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উৎসসমূহ : কৃষি ঋণের উৎসসমূহ মূলত নিম্নোক্ত ছয় ধরনের । যেমন :

১. বাংলাদেশ ব্যাংক

২. রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ।

৩. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ।

৪. সমবায় ব্যাংক ও সমিতিসমূহ ।

৫. বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড ।

৬. গ্রামীণ ব্যাংক ।

✍️ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর ।

উত্তর : প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অসুবিধাসমূহ : প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের নিম্নোক্ত অসুবিধাসমূহ রয়েছে ।

১. প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সময়মতো পাওয়া যায় না । কৃষকের কোন ঋতুতে ফসল উৎপাদনের জন্য ঋণের প্রয়োজন হলে যে সময়ে ঋণ প্রয়োজন ঋণ পেতে সে সময় পার হয়ে যায় ।

২. গ্রামের ক্ষুদ্র ও দরিদ্র কৃষকরা অশিক্ষিত । প্রান্তিক পর্যায়ে ঋণ পেতে যে ফর্মালিটির প্রয়োজন হয় তা কৃষকরা বুঝে না । ফলে দালালদের সম্মুখীন হতে হয় ।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আমলাতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য কৃষকদের পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার ।

৪. সরকারি / প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের ঋণ দান পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল ও হয়রানিমূলক বলে কৃষক সহজে এ ধরনের ৫. অনেক সময় প্রতিষ্ঠানিক উৎসের কাছে বেশি পরিচিতির জন্য কোন জামানত দিতে হয় না । এ ক্ষেত্রে কৃষকরা অপ্রতিষ্ঠানিক ঋণ নিতে আগ্রহী হয় । করতে পারেন । ও অনেক ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষক রয়েছে যারা জামানত দিতে পারে না । তারা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার কথা চিন্তা ৭. প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সংগ্রহ করতে সময় ও ব্যয় পড়ে বেশি ।

✍️কৃষির যান্ত্রিককরণ ও আধুনিকীকরণ এর মধ্যে পাথ্যক্য লিখ ।

উত্তর : কৃষির যান্ত্রিককরণ ও আধুনিকায়নের পার্থক্য : কৃষির যান্ত্রিককরণ এবং আধুনিকায়নের মধ্যে আপাত মিল থাকলেও এ দুটি ধারণার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রযেছে । যেমন –

১. যান্ত্রিকীকরণ বলতে শুধু চাষাবাদের যন্ত্রের ব্যবহারকে বুঝায় । পক্ষান্তরে , আধুনিকায়ন কৃষিখাত বলতে চাষাবাদ ছাড়াও কৃষির অপরাপর সকল স্তরে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগকে বুঝায় ।

২. কৃষি যান্ত্রিকীকরণ মূলত কৃষি উন্নয়নের একটি আবশ্যিক দিক নির্দেশ করে । পক্ষান্তরে , কৃষির আধুনিকায়ন কৃষিখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের দিক নির্দেশ করে ।

৩. কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কৃষির আধুনিকায়ন নির্দেশ করে । আধুনিকায়নের একটি বিশেষ পর্যায় হলো যান্ত্রিকীকরণ । কিন্তু আধুনিকায়ন অবশ্যই যান্ত্রিকীকরণ নির্দেশ করে ।

৪. যান্ত্রিকরণের তুলনায় আধুনিকায়ন ধারণাটি অধিকতর ব্যাপক । প্রকৃতপক্ষে যান্ত্রিকীকরণ হলো আধুনিকায়নের একটি পর্যায় মাত্র । এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে , সাধারণভাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং আধুনিকরণের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয় না । আধুনিকায়ন এবং যান্ত্রিকরণকে একই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা হয় । অথবা বর্তমান আলোচনায় কৃষির আধুনিকায়নকে একই সাথে যান্ত্রিকীকরণ হিসেবেও বিবেচনা করা যায় ।

✍️উফশী প্রযুক্তি বলতে কী বুঝায় ?

উত্তর : উফশী প্রযুক্তি : কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি , উন্নত বীজ , পর্যন্ত পরিমাণে সার , কীটনাশক ও যান্ত্রিক সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগকে উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি বা সংক্ষেপ উফশী প্রযুক্তি বলা হয় । সংক্ষেপে উন্নত বীজ ও আধুনিক উপকরণের সাহায্যে কৃষি কাজ পরিচালনা করাকে উফশী প্রযুক্তি বলে ।

এ প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত ধারণাগুলো হলো :

১. গভীরভাবে ভূমি কর্ষণ ( কলের লাঙ্গলের সাহায্যে ) ,

২. উচ্চ ফলনশীল বীজ বপন ও ( সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ ) ,

৩. যন্ত্রের সাহায্যে ( অগভীর নলকূপ ) সেচকার্য পরিচালনা ,

৪. প্রয়োজনমতো কীটনাশক ও বাইনাশক এর ব্যবহার ,

৫. উন্নত যন্ত্রের সাহায্যে ফসল পরিচর্যা এবং নিড়ানি ,

৬. যন্ত্রের সাহায্যে ধান মাড়াই এবং

৭. জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি । উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো একযোগে কিংবা অধিকাংশ একত্রে প্রয়োগকে উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি বলে । অন্যভাবে বলা যায় যে , উফশী কোন একক প্রযুক্তি নয় । বরং কয়েকটি কৃষি উপকরণ মিলে উফশী প্রযুক্তি গঠিত হয়েছে । উল্লেখ্য উফশী প্রয়োগের মূল লক্ষ্য হলো একর প্রতি ফলন বাড়ানো এবং একই সাথে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা । আশার কথা এই যে , বাংলাদেশে গত দুই দশক ধরে উফশী প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জমির উৎপাদনশীলতা বিশ শতকের ৫০-৭০ দশকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।

✍️কৃষি প্রযুক্তি বলতে কী বুঝায় ?

উত্তর : কৃষি প্রযুক্তি : প্রযুক্তি বলতে উৎপাদনের উপকরণ ব্যবহারের কলাকৌশল ও পদ্ধতিকে বুঝায় । কাজেই কৃষি উপকরণ ব্যবহারের পদ্ধতি ও কলাকৌশলের প্রয়োগকে কৃষি প্রযুক্তি বলে । উৎপাদনের উপকরণ সাধারণত ৪ টি । যথা : ভূমি , শ্রম , মূলধন এবং সংগঠন । কৃষি উপকরণের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বিষয় হলো : চাষযন্ত্র , সেচযন্ত্র , সার , কীটনাশক , উন্নত বীজ ইত্যাদি । অতএব কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব উপকরণের সর্বাধিক দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহার ও প্রয়োগের কলাকৌশলকে কৃষি প্রযুক্তি বলা হয় । কোন দেশ যত দক্ষতার সাথে উপকরণের ব্যবহার করতে পারবে সে দেশের প্রযুক্তি তত উন্নত বলে বিবেচিত হবে ।

কৃষি প্রযুক্তির সাথে জড়িত তথা কৃষি উৎপাদনের সাথে জড়িত কয়েকটি স্তর হলো : ১. ভূমিকর্ষণ , সেচ ও তার প্রয়োগ ; ২. বীজ বপন ও চারা রোপণ ; ৩. নিড়ানি , পরিচর্যা , ৪. ফসল কাটা ও মাড়াই ৫. ফসল সংরক্ষণ / গুদামজাতকরণ ; ৬. শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ / বাছাইকরণ ও ৭. শস্য বাজারজাতকরণ । কাজেই ভূমি ‘ নর্মাণ কর্ষণ থেকে আরম্ভ করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রাপ্ত উপকরণের প্রয়োগ কৌশলই হলো কৃষি প্রযুক্তি । উন্নত গবেষণা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন করা যায় । নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে বিশ্বে নিয়ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটেছে । বাংলাদেশে ও নিরন্তর প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত রয়েছে । ১৯৫০-৬০ এর দশকে এই বাংলাদেশেই একর প্রতি ধানের ফসল ৫ থেকে ৭ মণ । তখন উন্নয়ন বীজ , সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছিল না । অথচ ১৯৯০ ২০০০ এর দশকের উন্নত বীজ , সার কীটনাশক ও সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ৪ গুণ থেকে ৬ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে ।

[ad_2]

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!