ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

কৃষি ও শিল্পের আপেক্ষিক গুরুত্ব আলোচনা কর ।

প্রশ্নঃ কৃষি ও শিল্পের আপেক্ষিক গুরুত্ব আলোচনা কর ।

উত্তর। ভূমিকাঃ সংকীর্ণ অর্থে কৃষি বলতে ভূমি কর্ষণ করে ফসল ফলানোকে বুঝায় । কিন্তু ব্যাপক অর্থনীতিতে ‘ কৃষি ‘ কথাটি ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে । অর্থনীতির আলোচনায় মাটি চাষ করে ফসল উৎপাদন , ফলমূল উৎপাদন , শাকসবজি উৎপাদন ও পশুপালন প্রভৃতি সকল বিষয়ই কৃষির অন্তর্ভূক্ত । কৃষি অর্থনীতিবিদ আর . এল . কোহেন এর মতে , পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন শিল্প হলো কৃষি । আজও কৃষি পৃথিবীর বৃহত্তম শিল্প । কৃষি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অর্থাৎ দুই – তৃতীয়াংশ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস । কৃষির উন্নয়নের ফলশ্রুতিতেই অনেক দেশ শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হতে পেরেছে । একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা ব্যাপক । বাংলাদেশ প্রধানত কৃষিনির্ভর ।

কৃষি ও শিল্পের আপেক্ষিক গুরুত্ব: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ । কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড । এদেশের প্রায় শতকরা ৫০ জন মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল । বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের শতকরা প্রায় ২০ % ভাগ আসে কৃদ্ধি হতে । এজন্য অনেকে মনে করেন যে , শিল্প অপেক্ষা কৃষির উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত । তাঁদের মতে , উদ্বৃত্ত কৃষিজ্ঞাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশ হতে শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করা হয় । কৃষির সাথে সাথে শিল্পের উপরও গুরুত্বারোপ করা উচিত । কৃষিকে অবহেলা করে যেমন শিল্পোন্নয়ন সম্ভব নয় , কৃষির সাথে শিল্পকে অবজ্ঞা করে কৃষির উন্নতিও আশা করা যায় না । বস্তুত কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল । সুতরাং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হলে শিল্পের ভূমিকাকে কিছুতেই খাটো করে দেখা যাবে না , বরং দেশের দীর্ঘকালীন উন্নয়নের স্বার্থে কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কৃষির তুলনায় শিল্পকেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে । নিয়ে বাংলাদেশে কৃষি ও শিল্পের আপেক্ষিক গুরুত্ব আলোচনা করা হলো ।

প্রথমত , বাংলাদেশ শিল্পোন্নয়নের চেয়ে কৃষির অগ্রগতির হার অত্যন্ত কম হয় । কারণ কৃষি উন্নয়ন কৃষক ও কৃষি জমি এ দু’য়ের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল এবং এ দুটির উপর হলে দেশের সামাজিক পটভূমির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করা প্রয়োজন । অতএব শিল্পের উন্নয়নের চেয়ে কৃষির উন্নয়ন কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল ।

দ্বিতীয়ত , বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র কৃষিপণ্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় । বিদেশের বাজারে কৃষিপণ্যের দাম উঠানামা করে । ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে । পক্ষান্তরে , আমরা যদি নানাপ্রকার শিল্পজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারি , তাহলে বৈদেশিক বাণিজ্যে আমাদেরকে এ ধরনের অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হতে হবে না ।

তৃতীয়ত , কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এর কোন বিকল্প নেই । কৃষিকাজে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি প্রয়োগ করার ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় । কিন্তু শিল্পোন্নয়ন ছাড়া কৃষির আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি , রাসায়নিক সার প্রভৃতি উৎপাদন করা অসম্ভব ।

চতুর্থত , বাংলাদেশে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে কৃষির উপর যে চাপ পড়েছে তা রোধ করতে হলে এদেশে দ্রুত শিল্প উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য । দেশে দ্রুত শিল্পকারখানা স্থাপন করে এ বাড়তি জনসংখ্যাকে কৃষি থেকে সরিয়ে আনতে পারলে তা কৃষির জন্য মঙ্গলজনক হবে ।

পঞ্চমত , বাংলাদেশে কৃষির সাফল্য অনেকটা অনিশ্চিত । কারণ বন্যা , ঝড় , সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা অনেক সময় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় । কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে তেমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই । সুতরাং শিল্পকে বাদ দিয়ে শুধু কৃষির উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক ।

ষষ্ঠত , বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে । কিন্তু একটি নির্দিষ্ট স্তরের উপর কৃষির উৎপাদন বাড়ানো খুবই ব্যয়বহুল হবে । কারণ ঐ স্তরে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান , বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাকে চাষের অধীনে আনয়ন ইত্যাদির জন্য ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে । এসব প্রকল্পের জন্য যে সুবিশাল ব্যয়ের প্রয়োজন হবে , তাতে ঐ পর্যায়ে কৃষির চেয়ে শিল্পের আপেক্ষিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে । ফলে কৃষির চেয়ে শিল্পে বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত অধিকতর লাভজনক । সুতরাং কৃষিপ্রধান দেশ হলেও বাংলাদেশে শিল্পের গুরুত্বকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই ।

সপ্তমত , শিল্প বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষিজাত দ্রব্য বাজারজাতকরণে সাহায্য করে । এর ফলে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব হয় । ফলে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে ।

অষ্টমত , বাংলাদেশে কৃষির তুলনায় শিল্পের উন্নয়নের সম্ভাবনা অনেক দূর প্রসারিত হয়েছে । কৃষিতে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধি প্রযোজ্য । আধুনিক চাষাবাদের দ্বারা এ বিধির কার্যকারিতা স্বল্পকালের জন্য রোধ করা সম্ভব হলেও একে খণ্ডন করা যায় না । কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না ।

নবমত , বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়ন সাধন করতে হলে আমাদের ছোট ছোট কৃষিজোতগুলোকে ভেঙে বৃহদায়তন খামারের পরিণত করতে হবে । এসব বৃহদায়তন খামারগুলোতে যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রচলন করা হলে কৃষিক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে । এ উদ্বৃত্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য দেশে ব্যাপক শিল্প সম্প্রসারণের প্রয়োজন আছে সুতরাং শিল্পের সাহায্য ছাড়া আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন অসম্ভব ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল এবং উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ । কৃষির উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতেই অনেক দেশ শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হয় । সেই সাথে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিতে শ্রম নিবিড় প্রযুক্তির পরিবর্তে পৃঞ্জি নিবিড় প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়ন বা কল্যান নিশ্চিত হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!