সম্পূরক বাজেট কী?

রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় সম্পূরক বাজেট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যিক প্রক্রিয়া। কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ যখন বিশেষ প্রয়োজনে অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে, তখন এই সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়।

নিচে সম্পূরক বাজেটের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:


ভূমিকা

একটি অর্থবছরের শুরুতে সরকার যে সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে, তাকে মূল বাজেট বলা হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি বা নতুন কোনো প্রকল্পের কারণে কোনো নির্দিষ্ট খাতে মূল বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এই বাড়তি অর্থের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার যে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি উত্থাপন করে, তাকেই সম্পূরক বাজেট (Supplementary Budget) বলা হয়।


সম্পূরক বাজেট কী ও কেন?

মূল বাজেট পাসের সময় দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা করা হয়। তবে বছর চলাকালীন বিভিন্ন কারণে খরচের হিসাব পরিবর্তন হতে পারে। মূলত তিনটি কারণে সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়:

  • অতিরিক্ত ব্যয়: কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের জন্য মূল বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, তা যদি শেষ হয়ে যায়।
  • নতুন সেবার প্রয়োজনীয়তা: অর্থবছরের মাঝপথে যদি এমন কোনো নতুন জরুরি কাজ বা সেবার সৃষ্টি হয় যা মূল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
  • অপ্রত্যাশিত খরচ: যুদ্ধ, মহামারি বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে গিয়ে যখন বাড়তি অর্থের প্রয়োজন পড়ে।

সাংবিধানিক ভিত্তি

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পূরক বাজেটের বিধান রাখা হয়েছে। যদি দেখা যায় যে:

১. কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য চলতি অর্থবছরে অনুমোদিত অর্থ অপর্যাপ্ত।

২. ঐ বছরের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে (বাজেটে) অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কোনো নতুন কাজের জন্য অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতি সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দিতে পারেন এবং সংসদ থেকে তা অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়।


সম্পূরক বাজেট ও সংশোধিত বাজেট

অনেকে এই দুটিকে এক মনে করলেও সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। সংশোধিত বাজেটে শুধু বরাদ্দ কমানো বা বাড়ানোর একটি খসড়া তৈরি হয়। কিন্তু যখনই বাড়তি টাকা খরচের জন্য আইনি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তখন সেটি সম্পূরক অনুদান বা বাজেট হিসেবে সংসদে উত্থাপন করতে হয়। এটি পাশের প্রক্রিয়া অনেকটা মূল বাজেটের মতোই।


উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, সম্পূরক বাজেট সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি বড় প্রমাণ। এটি কোনোভাবেই মূল বাজেটের ব্যর্থতা নয়, বরং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখার একটি আইনি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, জনগণের করের প্রতিটি টাকা সংসদের অনুমতি নিয়েই খরচ করা হচ্ছে।