ভারসাম্য ও অভারসাম্য প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য
ভূমিকা
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে ভারসাম্য (Balanced Growth) ও অভারসাম্য (Unbalanced Growth) প্রবৃদ্ধি তত্ত্ব দুটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারসাম্য প্রবৃদ্ধিতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে একযোগে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়, আর অভারসাম্য প্রবৃদ্ধিতে নির্বাচিত কিছু অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিনিয়োগ করে ধাপে ধাপে সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানোর কথা বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় উভয় তত্ত্বেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ভারসাম্য ও অভারসাম্য প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য
| ভারসাম্য প্রবৃদ্ধি | অভারসাম্য প্রবৃদ্ধি |
|---|---|
| ১. অর্থনীতির সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে একযোগে বিনিয়োগ করা হয়। | ১. কয়েকটি নির্বাচিত খাতে বিনিয়োগ করা হয়। |
| ২. সব খাতের সমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়। | ২. অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়। |
| ৩. বাজারে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখে। | ৩. চাহিদা ও জোগানের সাময়িক অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। |
| ৪. বাস্তবায়নের জন্য বিপুল মূলধন ও সম্পদের প্রয়োজন হয়। | ৪. তুলনামূলকভাবে কম মূলধন ও সম্পদ দিয়েও শুরু করা যায়। |
| ৫. উন্নত ও সম্পদসমৃদ্ধ দেশের জন্য বেশি উপযোগী। | ৫. উন্নয়নশীল ও স্বল্প মূলধনসম্পন্ন দেশের জন্য বেশি উপযোগী। |
| ৬. ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। | ৬. ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। |
| ৭. এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা রাগনার নার্কসে। | ৭. এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা অ্যালবার্ট ও. হার্শম্যান। |
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ভারসাম্য ও অভারসাম্য—উভয় প্রবৃদ্ধি তত্ত্বই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, সম্পদের প্রাপ্যতা এবং উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী উপযুক্ত তত্ত্ব নির্বাচন করা উচিত। উন্নয়নশীল দেশের সীমিত সম্পদের প্রেক্ষাপটে অভারসাম্য প্রবৃদ্ধি অধিক কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।
