বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের গঠন ও কার্যাবলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

ভূমিকা
​বাংলাদেশের আইনসভার নাম ‘জাতীয় সংসদ’। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এককক্ষ বিশিষ্ট এই সংসদ গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। মূলত জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সংসদ রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু।

​জাতীয় সংসদের গঠন
​বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মূলত ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়।

​সরাসরি নির্বাচিত সদস্য: ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।

​সংরক্ষিত মহিলা আসন: মহিলাদের জন্য সংসদে ৫০টি আসন সংরক্ষিত থাকে। সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের মাধ্যমে তারা আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হন।
​নেতৃত্ব: সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সংসদ পরিচালনা করেন।

​মেয়াদ: সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে এর মেয়াদকাল ৫ বছর।
​জাতীয় সংসদের কার্যাবলি

​১. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত:
সংসদের প্রধান কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন তৈরি করা এবং প্রচলিত আইনের সংশোধন বা পরিবর্তন করা। যেকোনো বিল সংসদে উত্থাপনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পাস হলে এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে তা আইনে পরিণত হয়।

​২. সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ:
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও আলোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

​৩. অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
রাষ্ট্রের সকল অর্থের অভিভাবক হলো জাতীয় সংসদ। বাজেট পাস করা, নতুন কর আরোপ বা কর মওকুফের ক্ষমতা কেবল সংসদেরই আছে। সংসদের অনুমোদন ছাড়া সরকার কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারে না।

​৪. সংবিধান সংশোধন:
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানের কোনো ধারা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে হলে সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটের প্রয়োজন হয়।

​৫. বিচার বিভাগীয় কাজ:
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন (Impeachment) করতে পারে। এছাড়া স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা বিচারকদের অপসারণের ক্ষেত্রেও সংসদের ভূমিকা রয়েছে।

​উপসংহার
​জাতীয় সংসদ হলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর মূল স্থান। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের জন্য সংসদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব প্রদান করে।