প্রশ্নটির উত্তর লিখে দিন ভূমিকা ও উপসংহার সহ।

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র কী? পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্য দেখাও।

ভূমিকা

দারিদ্র্য একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দারিদ্র্য দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। অর্থনীতিবিদ র্যাগনার নার্কসে (Ragnar Nurkse) দারিদ্র্যের স্থায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র (Vicious Circle of Poverty) ধারণা প্রদান করেন। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে পুঁজিবাদসমাজতন্ত্র বিশ্বে বহুল আলোচিত দুটি ভিন্ন মতবাদ। উভয় ব্যবস্থার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও তাদের নীতি, কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতিতে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র (Vicious Circle of Poverty)

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি দেশ বা ব্যক্তি দারিদ্র্যের কারণে পর্যাপ্ত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে পারে না। ফলে উৎপাদনশীলতা ও আয় কম থাকে এবং আবারও দারিদ্র্য সৃষ্টি হয়। এভাবে দারিদ্র্য নিজেই নিজেকে টিকিয়ে রাখে।

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের ধাপগুলো হলো—

  1. নিম্ন আয়।
  2. নিম্ন সঞ্চয়।
  3. নিম্ন বিনিয়োগ।
  4. কম মূলধন গঠন।
  5. নিম্ন উৎপাদনশীলতা।
  6. পুনরায় নিম্ন আয় ও দারিদ্র্য।

এভাবে দারিদ্র্য একটি অবিরাম চক্রে পরিণত হয়, যাকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলা হয়।

পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্য

বিষয়পুঁজিবাদসমাজতন্ত্র
মালিকানাউৎপাদনের উপকরণের মালিকানা ব্যক্তিগতউৎপাদনের উপকরণের মালিকানা রাষ্ট্র বা সমাজের
মূল উদ্দেশ্যসর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনসামাজিক কল্যাণ ও সমতা প্রতিষ্ঠা
অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাজারব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিতরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত
মূল্য নির্ধারণচাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেসরকার বা পরিকল্পনা কমিশন নির্ধারণ করে
প্রতিযোগিতাঅবাধ প্রতিযোগিতা বিদ্যমানপ্রতিযোগিতা সীমিত বা অনুপস্থিত
ভোক্তার স্বাধীনতাতুলনামূলক বেশিতুলনামূলক কম
আয়ের বৈষম্যবেশি হতে পারেকমানোর চেষ্টা করা হয়
ব্যক্তিগত উদ্যোগউৎসাহিত করা হয়সীমিত বা রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত
সরকারের ভূমিকাসীমিতব্যাপক ও সক্রিয়
উদাহরণযুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যকিউবা, উত্তর কোরিয়া (প্রধানত সমাজতান্ত্রিক মডেল)

উপসংহার

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই চক্র ভাঙতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সঞ্চয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা সহজে বোঝা যায়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ এই দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে মিশ্র অর্থনীতি অনুসরণ করে টেকসই উন্নয়নের চেষ্টা করছে।