ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

✍️বাংলাদেশের খাদ্য ও অর্থকরী ফসলের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও ।

[ad_1]

✍️বাংলাদেশের খাদ্য ও অর্থকরী ফসলের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও ।

উত্তর ভূমিকা : জনগণের খাদ্যের প্রয়োজন মিটানোর জন্য যে সকল ফসল উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে খাদ্যশস্য বলে । কৃষক যেসব ফসল খাদ্যের জন্য নয় বরং বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য উৎপাদন করে তাকে অর্থকারী ফসল বলা হয় ।

খাদ্য ও অর্থকরী ফসল : নিম্নে খাদ্য শস্য ও অর্থকরী ফসলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো ।

ক . বাংলাদেশের খাদ্য শস্য : বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্যগুলোর বিবরণ নিয়ে দেয়া হলো :

১. ধান : ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য । এদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত বিধায় ধানের চাহিদা বিশাল । বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী । বরিশাল , সিলেট , দিনাজপুর , খুলনা , কুমিল্লা , রাজশাহী , ময়মনসিংহ , নোয়াখালী ইত্যাদি জেলাতে অধিক পরিমাণে ধান উৎপাদিত হয় । দেশের মোট চাষযোগ্য জমির ৭৫ % ধান উৎপাদনে নিয়োজিত আছে । ২০০৯-১০ অথবছরে দেশে ২৬৭.৫৮ লক্ষ একর জমিতে মোট ৩২২.৫২ লক্ষ টন ধান উৎপাদিত হয় । এটা মোট খাদ্য শস্যের প্রায় ৯০ ভাগ ।

২. গম : বাংলাদেশের খাদ্যশস্য হিসেবে ধানের পরই গমের স্থান । ময়দা , আটা , লুজি ইত্যাদি আকারে গম ব্যবহার করা হয় । বাংলাদেশের কুষ্টিয়া , খুলনা , যশোর , বগুড়া , পাবনা , রংপুর , দিনাজপুর প্রভৃতি এলাকায় গম ভালো হয় । গম উৎপাদনে নিয়োজিত জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭.৩২ লক্ষ একর । ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২০ লক্ষ একর জমিতে ৯.৬৯ লক্ষ টন গম উৎপাদন যা মোট খাদ্যশস্যের প্রায় ৭ ভাগ ।

৩. ডাল : বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রায় নিয়মিত ভাতের সাথে ভাল খায় । দেশের প্রায় সর্বত্র ডাল উৎপাদিত হয় । ডালের মধ্যে মুগ , মসুর , কালাই , খেসারি , মটরসুটি , শিম , অড়হর ইত্যাদি । উল্লেখযোগ্য , মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় ৫ % ডাল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় । ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ১৩ লক্ষ একর জমিতে প্রায় ৫ লক্ষ টন জন উৎপাদন হয় ।

৪. তৈলবীজ : সরিষা , তেল , বাদাম , তিসি , নারকেল , রেড়ী ইত্যাদি । বাংলাদেশে প্রচুর উৎপাদিত হয় । ঢাকা , টাহাইল , খুলনা , ময়মনসিংহ , রাজশাহী , দিনাজপুর ইত্যাদি জেলায় অধিক তৈলবীজ উৎপন্ন হয় । কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন অনেক কম হওয়ার কারণে প্রতি বছর অনেক ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয় । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট চাষযোগ্য জমির ৩ % তৈলবীজ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় । ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১২ থেকে ১৩ লক্ষ একর জমিতে ৪ লক্ষ টন তৈলবীজ উৎপাদিত হয় ।

৫. গোলআলু : আলু একটি শীতকালীন ফসল । বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র আলুর চাষ হয় । তবে সিলেট , ঢাকা , রংপুর , বগুড়া , দিনাজপুর , পাবনা , রাজশাহী ইত্যাদি অঞ্চলে আলুর অপেক্ষাকৃত ভালো চাষ হয় । ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫ হাজার মে . টন আলু উৎপাদিত হয় ।

৬. শাক – সবজি : বাংলাদেশের সর্বত্র প্রচুর শাক – সবজি উৎপাদিত হয় । সম্প্রতি কিছু অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শাক সবজির চাষ আরম্ভ হয়েছে । বাংলাদেশে উৎপাদিত শাক- সবজির মধ্যে ঢেরস , পটল , করলা , ঝিঙ্গা , শিম , মুলা , ফুলকপি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

৭.ফলমূল : বাংলাদেশে আম , জাম , কাঁঠাল , কলা , কমলা , পেঁপে , পেয়ারা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের ফলমূল উৎপন্ন হয় । সাধারণত অপরিকল্পিতভাবে বসত বাড়িতে ফলমূল উৎপন্ন হয় । তবে ঢাকা , ময়মনসিংহ , রাজশাহী ইত্যাদি অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদিত হয়ে থাকে । ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রায় ৩ লক্ষ টন আম এবং ৪ লক্ষ টন ৯২ লক্ষ টন অন্যান্য ফল উৎপাদিত হয় ।

৮. বার্লি : বাংলাদেশে অল্প পরিমাণে বার্লি উৎপাদিত হয় । ১৯৯৬-৯৭ সাথে রায় ০.২৩ লক্ষ একর জমিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন বার্লি উৎপাদিত হয় । পক্ষান্তরে , ২০০৯-১০ অর্থবছরে ০.০২ লক্ষ একর জমিতে ১ হাজার মেট্রিক টন বানি উৎপাদিত হয় । ভুট্টা বাংলাদেশে বর্তমানে স্বল্প পরিমাণে ভুট্টার চাষ হচ্ছে । রাজশাহী , পাবনা , দিনাজপুর , টাঙ্গাইল , ময়মনসিংহ , কুমিল্লাতে কিছু কিছু অঞ্চলে ভুট্টার চাষ হয় । ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২.৮ লক্ষ একর জমিতে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয় ।

৯. মসলা : আমাদের খাদ্যশস্যের অন্যতম একটি অংশ নানা প্রকার মসলা , রসুন , পিঁয়াজ , ধনিয়া , আদা , হলুদ মরিচ , জিরা , তেজপাতা , লবঙ্গ ইত্যাদি নানা প্রকার মসলা উৎপন্ন হয় । ২০০৯ – ১০ অর্থবছরে প্রায় ৫.৫ লক্ষ টন মসলা উৎপন্ন হয় ।

খ . বাংলাদেশে অর্থকরী ফসলের বর্ণনা : কৃষক যেসব ফসল খাদ্যের জন্য নয় বরং বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ উপাজনের জন্য উৎপাদন করে তাকে অর্থকরী ফসল বলা হয় । বাংলাদেশে পাট , তামাক , ইক্ষু , চা , তুলা , রেশম , রবার ইত্যাদি অর্থকরী ফসল ।

নিম্নে প্রধান অর্থকরী ফসলগুলোর বর্ণনা দেয়া হলো :

১. পার্ট : পাট বাংলাদেশে প্রধান অর্থকরী ফসল । বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ । ঢাকা ময়মনসিংহ , জামালপুর , টাঙ্গাইল , পাবনা প্রভৃতি অঞ্চলে ভালো পাট চাষ হয় । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় ৪ % পাট উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় । ২০০৯-১০ অর্থ বছরে প্রায় ১৩ লক্ষ একর জমিতে প্রায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হয় । ২০১০ সালে ফসলে কাঁচা পাট রপ্তানি করে প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয় ।

২. চা : চা বাংলাদেশে দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল । সিলেট , চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চা উৎপাদিত হয় । বাংলাদেশে ১৫৬ টি চা বাগান আছে । ১৯৯৪-৯৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৫.১৬ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হয় । ২০০৯ ১০ অর্থ বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার একর জমিতে প্রায় ৬২ হাজার টন চা উৎপন্ন হয় ।

৩. ইক্ষু : ইক্ষু বাংলাদেশের তৃতীয় অর্থকরী ফসল । ইক্ষু থেকে চিনি ও গুড় উৎপন্ন হয় । এছাড়া ইক্ষুর ছোবড়া থেকে কাগজ ও হার্ডবোর্ড তৈরি করা হয় । যশোর , ঢাকা , ময়মনসিংহ ইত্যাদি অঞ্চলের ভূমি ও আবহাওয়া ইক্ষু উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী । এছাড়া দেশের সর্বত্র প্রায় ইক্ষুর উৎপাদন কিছু কিছু হয় । ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫.৫ লক্ষ একর জমিতে প্রায় ৮০ লক্ষ টন আখ উৎপন্ন হয় ।

৪. তামাক : তামাক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল । তামাক প্রধানত সিগারেট ও বিড়ি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় । রংপুর , কুষ্টিয়া , দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে তামাক উৎপাদন হয় । রংপুরের ‘ মুতিহার ‘ দিনাজপুরের ‘ যাতি ‘ তামাকের বেশ কদর আছে । ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বাংলাদেশে একর জমিতে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন তামাক উৎপাদন হয় ।

৫. তুলা : বাংলাদেশের স্বল্প পরিমাণে তুলা উৎপাদন হয় । সার্বিকভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মৃত্তিকা তুলা উৎপাদনের জন্য উপযোগী নয় । তবে শীত মৌসুমে চট্টগ্রাম , পার্বত্য চট্টগ্রাম , কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের কিছু অঞ্চলে তুলার চাষ হয় । ২০০৯ – ২০১০ অর্থ বছরে ৭ হাজার একর জমিতে প্রায় ৭ হাজার মে . টন তুলা উৎপাদন হয় ।

৬. রেশম : তুঁত গাছের পাতা গুটি পোকার খাদ্য । বাংলাদেশে রাজশাহী , বগুড়া , ময়মনসিংহ , কুষ্টিয়া , যশোর ফরিদপুর , সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলে রেশম উৎপন্ন হয় । বাংলাদেশে বৎসরে প্রায় ৪ হাজার মে . টন রেশম উৎপন্ন হয় । ২০০৯ – ১০ অর্থ বছরে প্রায় ২.৫ হাজার একর জমিতে ৪.৫ হাজার মে . টন রেশম উৎপন্ন হয় ।

৭. রাবার : সম্প্রতি বাংলাদেশে রাবার চাষ আরম্ভ হয়েছে । সিলেট , চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় রাবার উৎপাদন হচ্ছে । বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার একর জমিতে বছরে প্রায় সাতশত মে . টন রাবার উৎপন্ন হয় ।

উপসংহার : বাংলাদেশের খাদ্য শস্য ও অর্থকরী ফসলের অবদান অনস্বীকার্য । খাদ্য শস্য ও অর্থকরী ফসলে বাংলাদেশ যদি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারে তাহলে দেশের কৃষিনীতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে ।

✍️বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষিনীতি কেমন হওয়া উচিত । ফসল বহুমুখী করণের পক্ষে যুক্তি দেখাও ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরিস্থিতি কৃষিনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে । নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে দেখা গেছে যে , ধানের মূল্য পড়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা দুরূহ কাজ হয়ে গেছে । সরকারের গুদামে সংগৃহীত ধানের পরিমাণ কোন কোন বছর এত বেশি হয়েছে যে , ‘ কা . বি . খা . ’ ও ভি . জি . এফ কর্মসূচিতে দানের গমের পরিবর্তে সংগৃহীত চাল ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করা হয়েছে । সরকার চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হয়েছে ।

ভবিষ্যৎ কৃষিনীতি কেমন হওয়া উচিত : এ পরিস্থিতি কৃষিনীতির মধ্যে নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে ।

১. চাহিদা ব্যবস্থাপনা কৃষিনীতি : বাংলাদেশের কৃষি নীতির মধ্যে বিগত দিনে যোগান ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ছিল । বর্তমানে চাহিদা ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে । অর্থাৎ এখন কিছু কিছু কৃষি পণ্যের পর্যাপ্ত চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে । বিশেষত চালের বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা যেন সৃষ্টি হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে ।

২. ফসল বহুমুখীকরণ : কৃষির উন্নয়নের জন্য খাদ্যশস্য ছাড়াও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে মনযোগ দিতে হবে । অর্থাৎ ফসল বহুমুখীকরণ নীতি অবলম্বন করতে হবে । এতে কৃষক তার খাদ্যশস্য ছাড়া অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং ক্ষতি এড়াতে পারবে । অধিকন্তু কৃষিখাতে অন্যান্য ফসলের আয় থেকে খাদ্যশস্যের চাহিদা সৃষ্টি হবে ।

৩. শিল্পায়ন : বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর থাকবে এমন কথা বলা যায় না । বর্তমান কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হারের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায় যে , ধানের উৎপাদন ২০১০ সালে ৩২-৩৪ মিলিয়ন মে . টনে পৌঁছাবে । এ স্তরের ঊর্ধ্বে উৎপাদন বাড়াতে হলে বিশাল বন্যা নিয়ন্ত্রণ , পানি নিষ্কাশন ইত্যাদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে । এ ধরনের বিনিয়োগ এতই ব্যয়বহুল হবে যে , বাংলাদেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা হারিয়ে ফেলবে । ফলে বাংলাদেশ তখন কৃষি পণ্য রপ্তানির পরিবর্তে আমদানি করবে । অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ২০ বছর পর বাংলাদেশ খাদ্যশস্য নয় বরং অন্য পণ্য রপ্তানি করবে । অতএব কৃষির তুলানায় শিল্পের ও অন্যান্য খাতের আপেক্ষিক গুরুত্ব বেড়ে যাবে । এ ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে কৃষিনীতি প্রণয়ন করতে হবে ।

বাংলাদেশের ফসল বহুমুখীকরণের পক্ষে যুক্তি ফসল বহুমুখীকরণের পক্ষে যুক্তি :

কৃষি উন্নয়নের কৌশল হিসেবে ফসল বহুমুখীকরণের সুবিধাগুলো নিম্নরূপ :

১. চাহিদা সৃষ্টি : বাংলাদেশের অর্থনীতির মধ্যে কৃষি বৃহত্তম খাত । শিল্প বা সার্ভিস খাত এখনো যথেষ্ট প্রসার লাভ করে নি , আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশও সহজ নয় । অতএব কৃষি খাতের ভেতরেই কৃষি পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে । তাই শুধু ধান উৎপাদন করলে ধানের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকবে না , বরং কৃষি খাতে একাধিক ` ণ্য উৎপন্ন হলে পণ্যগুলো পরস্পরের চাহিদা সৃষ্টি করবে । অতএব বাংলাদেশে ফসলের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন ।

২. ভূমি ক্ষমতা সংরক্ষণ : একই জমিতে বছরের পর বছর একই ফসল উৎপাদন করলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা বিনষ্ট হয় । পক্ষান্তরে , বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করলে গুণাবলির ভারসাম্য বজায় থাকে । অতএব ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা সংরক্ষণের জন্য ফসলের বহুমুখীকরণ আবশ্যক ।

৩. সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা : ধান ছাড়া অন্যান্য ফসলের জন্যও পানি সেচের প্রয়োজন হয় । অতএব সেচ সেবার বাজারে দক্ষতা অর্জিত হবে যদি ফসলের বহুমুখীকরণ করা হয় । বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফসলের জন্য পানির চাহিদা সৃষ্টি হলে সেচ সেবার দক্ষ ব্যবহার সম্ভব হবে ।

৪. ঝুঁকি হ্রাস : এক ফসলের পরিবর্তে অনেক ফসল উৎপাদন করলে কৃষকের ঝুঁকি হ্রাস পায় । একটি ফসল বিনষ্ট হলেও অন্য ফসল থেকে কৃষকের আয় উপার্জনের সম্ভাবনা থাকে ।

৫. কৃষকের আয় বৃদ্ধি : ফসল বহুমুখীকরণের কারণে সারা বছর খামারে কোন না কোন ফসল থাকে । ফলে কৃষক অধিক আয় উপার্জন করে । এছাড়া একটি পণ্যের যোগান বেড়ে গিয়ে মন্দা সৃষ্টি হয় না বলে কৃষক ন্যায্য দাম পায় । ফলে কৃষকের আয় বাড়ে ।

৬. পুষ্টি : ফসল বহুমুখীকরণের ফলে মানুষ খাদ্যে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে । ফলে খাদ্য অধিক পুষ্টিকর ও সমৃদ্ধ হয় ।

উপসংহার : বাংলাদেশের কৃষিনীতি যাতে কৃষকদের পক্ষে যায় এবং ফসল বহুমুখীকরণ হয় তার জন্য সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ।

[ad_2]

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!