ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

১৮৭০ সালের চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইনের স্বরূপ উল্লেখ কর।

অথবা, চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ এর বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
অথবা, চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ এর প্রকৃতি তুলে ধর।
অথবা, ১৮৭০ সালের চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন সম্পর্কে যা জান লিখ ।
অথবা, ১৮৭০ সালের চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইনের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
ভূমিকা :
ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনামল হতেই উপমহাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে। ব্রিটিশগণ এদেশের শাসন ক্ষমতা করায়ত্তের পর হতে উপমহাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। স্থানীয় শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিভিন্নমুখী পরিবর্তন সাধিত হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত
সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এর সুফল জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে ইংরেজ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং এসব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা আইন প্রণয়ন করে ।

১৮৭০ সালের চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইনের বৈশিষ্ট্য : স্থানীয় জনসাধারণকে তাদের নিজস্ব এলাকার সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে শাসনকার্যে অংশ গ্রহণের সুযোগ দানের নিমিত্তে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রতিষ্ঠাকল্পে ব্রিটিশ সরকার চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ প্রবর্তন করে। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :
১. এই আইনের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন ৫ জন গ্রামবাসীর একটি চৌকিদারি পঞ্চায়েত গঠন করতেন। তবে এ পঞ্চায়েতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৭ জন হতে পারত।
২.পঞ্চায়েত নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি নির্বাচন করতে পারতেন।
৩.পঞ্চায়েতের প্রধান কাজ ছিল চৌকিদারি কর আদায় করা এবং চৌকিদারের সাহায্য নিয়ে গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা দেখাশুনা করা।
৪. এই আইনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে একস্তর বিশিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত নামে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছিল । যদিও চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের সূচনা করে, তথাপি এ ব্যবস্থার কিছু উল্লেখযোগ্য ত্রুটি থাকায় এটি সাফল্যজনকভাবে কার্যকর হতে পারে নি। এই আইনের ত্রুটিসমূহ ছিল নিম্নরূপ :
১. পঞ্চায়েত সদস্যগণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মনোনীত হতেন। এক্ষেত্রে অনেক সময়ই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হয় নি।
২. নির্বাচনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ পঞ্চায়েত সদস্য হয়ে কর আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে জড়িত হতে পারত।
৩. পঞ্চায়েত সদস্যগণ সরকারি কর্মচারীর মতো দায়িত্ব পালন করতো।
৪. গ্রামের অধিকাংশ জনগণই পঞ্চায়েতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভে ব্যর্থ হতেন।
৫. সরকার কর্তৃক মনোনীত হয়ে পঞ্চায়েতের সদস্য হওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি এ সদস্যপদ গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হতো। তাছাড়া সময়মত স্থানীয় কর আদায়ে ব্যর্থ হলে পঞ্চায়েতদের শাস্তি ভোগ করতে হতো। পঞ্চায়েতগণ যদিও চৌকিদারদের নিয়োগ করতে পারতেন কিন্তু তাদের বরখাস্ত করতে পারতেন না। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই বরখাস্তের আদেশ দিতে পারতেন। এক্ষেত্রে চৌকিদারদের উপর পঞ্চায়েত সদস্যদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকত না।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, উপরোক্ত ত্রুটিসমূহের কারণে চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ সমালোচনার ফলে স্থায়ী হতে পারেনি। তথাপি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ আইন প্রণয়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!