ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

সনেট কী ? সনেট হিসেবে কবি আল মাহমুদের ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ’ কবিতার সার্থকতা যাচাই কর ।

প্রশ্না সনেট হিসেবে কবি আল মাহমুদের ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ’ কবিতার সার্থকতা যাচাই কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : কবি আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম সার্থক স্রষ্টা । বিংশ শতাব্দীর জীবন – যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায় । আধুনিক সমাজ বাস্তবতার নিরিখে তিনি কবিতার বিষয়বস্তু নির্বাচনে সার্থকতা দেখিয়েছেন । তাঁর কবিতায় প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়েছেন তিনি । কবি আল মাহমুদ কিছুসংখ্যক সার্থক সনেট রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেছেন । ‘

সোনালী কাবিন : ৫ ‘ তাঁর লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সার্থক সনেট । : সনেট কাকে বলে : সনেট আধুনিক ইংরেজি গীতি কবিতার একটি অত্যাধুনিক সংস্করণ । ইতালীয় কবি প্রেত্রার্ক সনেটের জনক । ইতালীয় শব্দ সনেটো ( Sonneto ) থেকে ‘ সনেট ‘ শব্দটি উদ্ভূত । ‘ সনেটো ’ শব্দটির অর্থ মৃদু ধ্বনি । একটি অখণ্ড ভাবকল্পনা যখন চৌদ্দ অক্ষরের ( মাত্রার ) পঙক্তিতে এবং চৌদ্দ পঙক্তির সীমাবদ্ধতায় একটি বিশেষ ছন্দরীতির অনুষঙ্গে বাণীবদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হয় , তখন তাকে সনেট বলা হয় । বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত । সনেট কখনো কখনো চৌদ্দ মাত্রার সীমা অতিক্রম করলেও মাইকেল মধুসূদন তাঁর রচিত সনেটসমূহে এই মাত্রা অতিক্রম করেননি । পরবর্তীতে বাংলা ভাষায় যারা সনেট রচনা করেছেন তাঁরাও মধুসূদনকে অনুসরণ করেছেন । বাংলায় সনেটকে বলা হয় চতুর্দশপদী কবিতা । ॥

সনেটের গঠন : পূর্বেই বলা হয়েছে চৌদ্দ মাত্রা সম্বলিত চৌদ্দ পঙক্তির কবিতাই সনেট । চৌদ্দ পঙক্তি আবার দুই ভাগে বিভক্ত । এর প্রথম আট পঙক্তিকে বলা হয় অষ্টক ( Octave ) এবং শেষ ছয় পঙক্তিকে বলা হয় ষটক ( Sestet ) । এই পর্ব দুটি অনুচ্ছেদতুল্য । প্রথম আট পঙক্তি অর্থাৎ অষ্টকে একটি ভাবের মুখবন্ধ রচিত হয় এবং শেষ ছয় পঙক্তিতে অর্থাৎ ষটকে তার উপসংহার টানা হয় । এই দুটি পর্ব মিলে একটি অখণ্ড কবিতা সৃষ্টি হয় যাতে কবির অনুভূতির পূর্ণতার প্রাপ্তি ঘটে । সনেট মন্ময় কবিতাগোষ্ঠীর অন্তর্গত । সনেটের ছন্দ ও মিল : সনেট অন্তমিলের কবিতা । তবে এর অন্তমিল পয়ার ছন্দের মতো নয় । সনেটের অন্তমিল সাধারণত কখখক , কখখক ; গঘঙ , গঘঙ কিংবা কখখক , কখখক ; গঘ , গঘ , গঘ হয়ে থাকে । ইংরেজ কবি শেকস্‌পিয়র এই অন্ত মিলের নিয়ম না মানলেও ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ এবং মিল্টন এই নিয়ম মেনে চলেছেন । বাংলা ভাষায় যাঁরা সনেট রচনা করেছেন তাঁরা সকলেই একই নিয়ম অনুসরণ করেননি ।

সোনালী কাবিন : ৫ এর ছন্দ : কবি আল মাহমুদ তাঁর ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ‘ কবিতার ছন্দের ক্ষেত্রে মধুসূদনকে অনুসরণ না করে শেকসপিয়রকে অনুসরণ করেছেন । তাঁর এই কবিতার অন্তমিল নিম্নরূপ :

অষ্টক

কখ

কখ

গঘ

গঘ

ষটক:

ঙচ

ঙচ

ছছ

কবিতার আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্য : ‘ সোনালী কাবিন: ৫ ‘ কবিতাটি চৌদ্দ মাত্রার রীতিকে অনুসরণ না করে চৌদ্দ পঙক্তির রীতি অবলম্বন করে রচিত । কবিতাটিতে একটি অখণ্ড ভাৰ ফুটে উঠেছে । অষ্টক ও ষটক মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা নির্মিত হয়েছে । কবিতাটিতে ভাবের গভীরতা ও ভাষার ঋজুতা বিদ্যমান ।

ভাবের অখণ্ড প্রবাহ : ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ‘ কবিতায় প্রেম ও নিসর্গপ্রীতি সম্পর্কে কবির একান্ত অনুভূতি ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে আশ্রয় করে উপযুক্ত ও অপরিহার্য শব্দ সুষমায় অখণ্ডরূপে উপস্থাপিত হয়েছে । অষ্টক অংশে কবি তাঁর প্রেমভাবনা সম্পর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাবনার অবতারণা করেছেন । শরীরী প্রেমের প্রতি কবির আত্মনিষ্ঠ সমর্থন ও প্রেমের উদ্দামতা সম্পর্কে যে সরল স্বীকারোক্তি অষ্টকে ধ্বনিত হয়েছে , ষটকে এসে তার উপসংহার টানা হয়েছে । অষ্টক ও ষটক মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভাবের মীমাংসা হয়েছে ।

মূলবক্তব্য : নিসর্গপ্রীতি , প্রেমভাবনা ও আত্মবোধের এক অনাবিল ভাব সমন্বিত কবিতা ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ‘ । শরীরী প্রেমের স্বীকৃতি দিয়ে কবিতাটিতে বৈশ্বিক ভাবনার বিকাশ ঘটানো হয়েছে । প্রেমের অন্যতম প্রধান অবলম্বন যে শরীর এ কথা কবি নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন এই কবিতায় । কবি তাঁর দয়িতাকে প্রেম নিবেদন করেছেন লোকজ ভাষা ও সংস্কৃতির আলোকে । তিনি প্রেমের শিক্ষা নিয়েছেন নিসর্গ থেকে । তাঁর ভাষায়

“ নিসর্গের গ্রন্থ থেকে আশৈশব শিখেছি এ পড়া

প্রেমকেও ভেদ করে সর্বভেদী সবুজের মূল । ”

দেহকে দেহ দিয়েই জয় করতে চেয়েছেন কবি । তাঁর মতে সর্বকালের সকল শিল্পীর মধ্যেই আছে এই প্রবণতা । সনেট হিসেবে সার্থকতা : ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ‘ একটি সার্থক সনেট । এর পঙক্তিতে চৌদ্দমাত্রার রীতি না মানা হলেও তাতে কবিতার অঙ্গহানি ঘটেনি । এই কবিতায় আছে চতুর্দশ পঙক্তি । এর প্রথম আট পঙক্তি অর্থাৎ অষ্টকে বক্তব্যের সূচনা করা হয়েছে । এই অংশে প্রেম – ভাবনার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে । কবিতাটির শেষ ছয় পঙক্তি অর্থাৎ ষটকে বক্তব্যের উপসংহার টেনে ভাবকল্পনার অখণ্ডতা বজায় রেখেছেন কবি । দুই পর্ব মিলে একটি অখণ্ড গীতিকবিতা নির্মিত হয়েছে অনায়াসে । সুতরাং গঠনরীতি , ছন্দ , অন্তমিল ও ভাবকল্পনার সমন্বয়ে ‘ সোনালী কাবিন : ৫ ‘ একটি সার্থক সনেট ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে , কবি আল মাহমুদের কবি প্রতিভার এক অক্ষয় নিদর্শন ‘ সোনালী কাবিন: ৫ ’ কবিতাটি । ভাব , ভাষা , গঠনরীতি ও আঙ্গিকের বিচারে এটি একটি সর্বাঙ্গসুন্দর সার্থক সনেট ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!