ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

বাংলাদেশে কৃষি যাত্রিকীকরণের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ আলোচনা কর ।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কৃষি যাত্রিকীকরণের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ আলোচনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে । আমাদের দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের যেসব অসুবিধা রয়েছে তা দূর করা কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয় । জোতের আয়তন ছোট বলে যন্ত্র ব্যবহার করার হে অসুবিধা তা সমতায় চাষ প্রবর্তন করে দূর করা যায় । সমবায় সমিতির মাধ্যমে মূলধন সমস্যারও সমাধান সম্ভব । বাংলাদেশের কৃষকদেরকে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারও শিক্ষা দিতে হবে । একথা অনস্বীকার্য যে , যন্ত্রপাতির ব্যবহার শিক্ষা দিতে যথেষ্ট সময় লাগবে , কিন্তু ভবিষ্যতে কৃষক একদিন এ যন্ত্রপাতির যথাযথ শিখবে ।

বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ : কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে বহু লোক বেকার হয়ে পড়বে । এক হিসাব মতে , বাংলাদেশে কৃষির ব্যাপক যান্ত্রিকীকরণ করা হলে শতকরা ৬০ ভাগ লোক কর্মচ্যুত হয়ে পড়বে । কিন্তু দেশে দ্রুত হারে শিল্পের সম্প্রসারণ হচ্ছে না বলে এসব কর্মচ্যুত ব্যক্তির জন্য অবিলম্বে শিল্পক্ষেত্রে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে না । সুতরাং আমাদের দেশে অবিলম্বে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ না করে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হিসেবে একে ধীরে ধীরে গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয় । এ কারণে পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণ না করে ছোট ছোট হালকা যন্ত্রপাতি , উন্নত সেচ ব্যবস্থা , কর্ষণযোগ্য পতিত জমি পুনরুদ্ধার এবং উন্নত বীজ ও সার ব্যবহার করে জমির উৎপাদন বৃদ্ধি করা দরকার । নিম্নে বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. ফসল বহুমুখীকরণ : আমাদের দেশে ৪৫.৯ লক্ষ হেক্টর এক ফসলি জমি আছে । জল সেচ ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে এসব জমিতে একাধিক ফসলের চাষ করা সম্ভব । উল্লেখ্য যে , আমাদের দেশের মোট আবাদযোগ্য জমির অর্ধেকই এক ফসলি জমি ।

২. ইরি ও বোরো ধানের উৎপাদন : ইরি ও বোরো এ দুটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল ধান । এ দু’প্রকার ধান উৎপাদনের জন্য জমিতে সবসময়ের জন্য যথেষ্ট পানি সেচের ব্যবস্থা করা অতি দুরূহ । তাই বিভি প্রকার ধান উৎপাদনের জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার অপরিহার্য ।

৩. অনাবাদি জমি চাষ : বাংলাদেশে প্রায় ৪০.৮ লক্ষ একর অনাবাদি জমি রয়েছে । এসব জমি চাষাধীনে আনতে হলে অবশ্যই কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্য নিতে হবে । যান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া অনাবাদি জমি চাষাধীনে আনা কঠিন । এছাড়া বাংলাদেশে এখনো অনেক অসমতল ও পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে , যেখানে বর্তমানে কোন ফসলই উৎপন্ন হয় না । এরূপ জমির পরিমাণ আমাদের দেশে প্রায় ২৬.৬ লক্ষ হেক্টর । এসব অঞ্চলের জমিকে যন্ত্রের সাহায্যে সমতল করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব ।

৪. বিল ও হাওর এলাকায় চাষাবাদ : বাংলাদেশে অনেক জেলায় বিল ও হাওর আছে যেখানে প্রায় সারা বছরই পানি জমে থাকে । দেশে এরূপ জলাভূমির পরিমাণ প্রায় ৩০.৭ লক্ষ হেক্টর । বিশেষ করে নেত্রকোনা , কিশোরগঞ্জ ও বৃহত্তর সিলেট জেলার হাওর এলাকায় এখনো হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত পড়ে আছে । শক্তিচালিত পাম্প ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে এসব এলাকায় প্রচুর শস্য উৎপাদন করা যায় ।

৫. বৃহদায়তন সমবায় খামার : বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকেরা ক্ষুদ্রায়তন কৃষিজাতের অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সমবায়ভিত্তিক বৃহদায়তন কৃষি খামার ব্যবস্থা প্রবর্তনে আগ্রহান্বিত । বাংলাদেশের অনেক এলাকায় সমবায় কৃষি খামার ব্যবস্থা চালু হয়েছে । এরূপ বৃহদায়তন কৃষি খামার হতে সর্বাধিক সুফল পেতে হলে অবশ্যই যান্ত্রিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে ।

৬. শুঙ্ক ঋতুতে চাষাবাদ : বাংলাদেশে শুষ্ক ঋতুতে জমি চাষের জন্য সহজেই কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যেতে পারে । কারণ এ সময় মাটি শুষ্ক ও নরম থাকে বলে কৃষি যন্ত্রপাতি সহজে ব্যবহার করা যায় ।

৭. বন্যা নিয়ন্ত্রণ : বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হলো বন্যা সমস্যা । বাংলাদেশে বন্যায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট হয় । বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা কৃষির যান্ত্রিকীকরণের মধ্যে পড়ে । সুতরাং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ , নদী খনন প্রভৃতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা আলোচনা করে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে , দ্রুত শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে কর্মচ্যুত কৃষকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বড় বড় ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে অবিলম্বে কৃষি বিপ্লব ঘটালে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হবে । এক্ষেত্রে কৃষির দ্রুত যান্ত্রিকীকরণ করতে চাইলে কৃষিতে কর্মচ্যুত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে । সুতরাং বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কৃষি পদ্ধতিতে পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণের পরিবর্তে উপর্যুক্ত আংশিক যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থা করাই বাঞ্ছনীয় ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!