ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079

বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে অর্থনীতিবিদদের ভূমিকা আলোচনা।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে অর্থনীতিবিদদের ভূমিকা আলোচনা ।

উত্তর ভূমিকা : দারিদ্র্য দূরীকরণে অর্থনীতিবিদরা নানামুখী ভূমিকা পালন করে । সমাজজীবনের নানা ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় জনগণকে সক্ষম করে গড়ে তোলা এবং দেশে মাথাপিছু আয়সহ সার্বিক বিডিপি উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে । নিয়ে অর্থনীতিবিদদের ভূমিকা আলোচনা করা হলো :

১. সঞ্চয় বৃদ্ধি : সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমেও দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব । এক্ষেত্রে আমরা অর্থনীতিবিদ আখতার হামিদ খানের কুমিল্লা মডেলের কথা বলতে পারি , যেখানে আমের দরিদ্র কৃষকগোষ্ঠী সঞ্চয়ের মাধ্যমে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন করতে সক্ষম হয় ।

২. প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার : আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে । যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস , কয়লা , তেল ও চুনাপাথর প্রভৃতি । এসব প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করতে পারে । বস্তুত গ্যাস , বিদ্যুৎ ও কয়লা প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করে শিল্পোন্নয়ন করা সম্ভব , যেখানে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে , সাথে সাথে বেকার সমস্যা দূর হবে ।

৩. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ : জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বাংলাদেশের দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ । বিপুল জনসংখ্যা আমাদের সকল উন্নয়ন প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিচ্ছে । একই সাথে এটি আমাদের অর্থনৈতিক ক্রমাবনতির কারণও বটে । এজন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধকল্পে প্রচলিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে অধিক কার্যকরী করে তোলা আবশ্যক । সেক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদরা সকল জনসাধারণকে অধিক জনসংখ্যার কুফল এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে ।

৪. সামাজিক জরিপ ও গবেষণা : দারিদ্র্য একটি মারাত্মক সমস্যা । এ সমস্যা থেকে উত্তরণে অর্থনীতিবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে । বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো দরিদ্রতার কারণ , প্রকৃতি , প্রভাব , ব্যাপকতা এবং দরিদ্র শ্রেণীর সংখ্যা সম্পর্কে বাস্তব তথ্যসংগ্রহ করা । বস্তুত অর্থনীতিবিদরা খুব সহজেই এ জরিপ ও গবেষণা পর্যালোচনার মাধ্যমে দরিদ্রতা দূরীকরণ করতে পারে ।

৫. কৃষি উন্নয়ন : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ । এদেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি হলো কৃষি । এজন্য এদেশে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন অপরিহার্য । এর ফলে আমাদের দেশে দারিদ্র্য বিমোচন করা অনেকাংশে সম্ভব হবে । মূলত কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি , উন্নত রাসায়নিক সার এবং ভালো বীজ প্রভৃতি প্রয়োজন ।

৬. একটিরশিল্পের প্রসার : গ্রামীণ দক্ষ ও কারিগরদের সংগঠিত করে স্থানীয় কাঁচামাল ও চাহিদানির্ভর কুটিরশিল্প স্থাপন করার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যেতে পারে । আর এর মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস করা সম্ভব । ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হস্তচালিত এবং বিভিন্ন হাতের কারুকার্য খচিত ব্যবহারিক দ্রব্য উৎপন্ন করার কথা বলা যেতে পারে , যার দ্বারা তারা তাদের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সক্ষম হয়েছে ।

৭. শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন : বলা হয় যে , শিক্ষাই সকল জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি । আর এ শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য একজন অর্থনীতিবিদ সমাজে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে । যেমন- কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রচলনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারে এবং এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও দরিদ্রতা লাঘব হবে ।

৮. সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতি প্রণয়ন : সমাজকর্মীদের জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতি প্রণয়ন করতে পারে এবং এ জাতীয় নীতির ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সৃষ্টি করে পর্যায়ক্রমে এ সমস্যা হ্রাসের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে ।

৯. যুবসমাজের অংশগ্রহণ : যুবসমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় । কারণ যুবসমাজ একটা দেশের মানব সম্পদরূপে বিবেচিত হয় । আমাদের দেশের যুবসমাজকে দারিদ্র্য দূরীকরণের উৎপাদন খাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করাতে হবে । আর এ অংশগ্রহণের ফলে বেকার সমস্যা দূর হবে , দূর হবে দরিদ্রতা , কেটে যাবে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা , ফিরে আসবে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা , অর্থনীতিবিদরা দেশের সকল যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ।

১০. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা : বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল সম্পদ নষ্ট হয়ে যায় । বস্তুত খরা , জলোচ্ছ্বাস , বন্যা ও নদী ভাঙন প্রভৃতির ফলে প্রতি বছর বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে । যদিও এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরে , তথাপি সতর্কতামূলক প্রাক দুর্যোগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব । আর এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে ।

উপসংহার : উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে , দরিদ্রতা বাংলাদেশের একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি । দারিদ্র্য কেবলমাত্র একটি সমস্যা নয় , এটি আরো বহু সমস্যার সৃষ্টিদাতা । এ সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি সচেতন জনসমষ্টি ও সুশীল সমাজ বিশেষ করে অর্থনীতিবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!