ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

‘ঐকতান’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্য সাধনার যে অসম্পূর্ণতার কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

উত্তরঃ ভূমিকা : বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ছিল অবাধ বিচরণ। সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণের ফলে তিনি হয়েছেন যুগোত্তীর্ণ। বিশ্বসাহিত্যের দরবারে নোবেল প্রাইজ এর মাধ্যমে কবি পরিচিতি লাভ করেন। জীবন সায়াহ্নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন তাঁর সাহিত্য মূল্যায়ন করেন, তখন তাঁর সাহিত্যের ত্রুটিগুলো ধরা পড়ে। ‘ঐকতান’ কবিতায় কবির এ অপূর্ণতাজনিত হতাশাই আমরা কবির কণ্ঠে শুনতে পাই।
‘ঐকতান’ এর পটভূমি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবন সায়াহ্নে যখন আত্মমূল্যায়নে ব্রতী হলেন তখন তিনি বেশ কিছু কবিতা লেখেন। এ কবিতাগুলো ‘নবজাতক’ ‘সানাই’, রোগ শয্যায়’ ‘আরোগ্য’ ‘জন্মদিনে’ প্রভৃতি কাব্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। জীবন সায়াহ্নে এসে মৃত্যুভাবনা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি তাঁর আত্মমূল্যায়নের প্রকাশ ঘটেছে। কবি শেষ জীবনে এসে রোমান্টিক প্রেমভাবনা ছেড়ে ধরার ধুলিতে নেমে এসেছেন। দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের কথা রবীন্দ্রসাহিত্যে প্রকাশ না ঘটায় কবি অনুতপ্ত হয়েছেন। পরিশেষে ধরার ধুলির কবি হতে চেয়েছেন তিনি।
কবির অসম্পূর্ণতাবোধ : জীবনসায়াহ্নে তাঁর সাহিত্যের সকল শাখা-প্রশাখা পল্লবিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের দরবারে স্থান করে নিলেও অসম্পূর্ণতাবোধ কবিকে পীড়া দিয়েছে। কবির এ অপূর্ণতাবোধের কয়েকটি দিক উল্লেখ করে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন—


‘আমার কবিতা, জানি আমি
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।


বিশ্ব সম্পর্কে বাস্তবজ্ঞানের অভাব : নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে বিশ্বসাহিত্যে স্থান করে নেন রবীন্দ্রনাথ। নিজের প্রতিভা সম্পর্কে কবির সন্দেহ ছিল না। কিন্তু বিশ্বায়ত সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলার নিভৃত কোণে তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে। তাই বিশ্বপ্রকৃতি, নিসর্গ জীবনবোধ, সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রাণিকূল ও সাগর মহাসাগর অনেক কিছুই কবির অগোচরে রয়ে গেছে। কবি এ সত্যটি সরলভাবে ব্যক্ত করেছেন-


‘বিপুল এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী।
মানুষের কত কীর্তি কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, রয়ে গেল অগোচরে।


রবীন্দ্র সাহিত্যে বিশ্বমাত্রিকতা : রবীন্দ্রনাথ জীবন সায়াহ্নে তাঁর সাহিত্যের যে দিকটিতে অসম্পূর্ণ রয়েছেন তাহলো বিশ্বমাত্রিকতা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বায়ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন। সাহিত্যে বহুমাত্রিকতা প্রকাশের যোগ্যতা আছে কি না এ নিয়ে তিনি সন্দিহান। কবির নেতিবাচক মনোভাব সুস্পষ্ট-


‘এই স্বরসাধনায় পৌছিল না বহুতর ডাক,
রয়ে গেছে ফাঁক।’


সর্বসাধারণের সাথে প্ত্যক্ষ সংযোগহীনতা : কবি সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করার জন্যই সর্বসাধারণের সাথে তাঁর সংযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কারণ সমাজে শ্রেণিগত বৈষম্য ছিল প্রবলভাবে। ফলে তিনি তাদের সাথে মিশতে পারেননি। সাহিত্যের এ সংযোগহীনতার কারণে তাঁর সাহিত্য সর্বজনীনতার ক্ষেত্রে দুর্বল। কবি বলেছেন-


‘পাইনে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার

বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার’


কৃত্রিম জীবনবোধ : অতিসাধারণ মানুষের সাথে সংযোগরক্ষা কবির পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। অনেক সময় কৃত্রিম যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কৃত্রিম সংযোগ কবিকে দারুণভাবে কষ্ট দিয়েছে। অনেকে কবির সমালোচনা করেছেন। কবি তাঁদের সমালোচনা মাথা পেতে নিয়েছেন-


তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথ

আমার সুরের অপূর্ণতা।


কবির কবিতা সর্বত্রগামী নয় :
সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর কবিতা সর্বত্রগামী হতে পারেনি। রোমান্টিকতার আবহে অনেক কিছু লিখা হলেও সাধারণ মানুষের জীবনের কথা লিখা হয়নি। কবির স্বীকারোক্তি-


‘আমার কবিতা, জানি আমি৷

গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী’-


আমার অভিমত : কবি তাঁর সাহিত্যের অপূর্ণতা সম্পর্কে নিজেই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর সাথে আমি সম্পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ না করলেও দ্বিমত পোষণের কোন অবকাশ খুঁজে পাইনি। আমি জানি বাংলা সাহিত্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর কাব্যকীর্তি বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্যের সকল শাখায় রোমান্টিকতার প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের কথা প্রকাশ পায়নি। তিনি যদি কল্পলোক ছেড়ে ধূলির ধরায় নেমে আসতে পারতেন তাহলে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজের জন্য তা মঙ্গলজনক হতো।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার শেষে বলা যায়, ‘ঐকতান’ কবিতায় কবির অনুতাপদগ্ধ স্বরূপটি প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় সাধারণ মানুষের প্রতি দায়ভার ব্যক্ত করেছেন তিনি। কবি নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর কবিতা সর্বত্রগামী নয়। তাঁর এ স্বীকারোক্তি মহৎ হৃদয়ের প্রমাণ। কবির এ জীবনবোধ প্রশংসনীয়।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!