পরিসংখ্যানের অংক করার সময় আয়তলেখ (Histogram) অঙ্কনের জন্য অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমা (Continuous Class Boundary) বের করা অপরিহার্য। কারণ আয়তলেখের স্তম্ভগুলোর মাঝে কোনো ফাঁক থাকে না।
নিচে সহজ নিয়মে অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমা বের করার পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. বিচ্ছিন্ন ও অবিচ্ছিন্ন শ্রেণির পার্থক্য বোঝা
সাধারণত উপাত্তে যখন একটি শ্রেণির উচ্চসীমা এবং পরবর্তী শ্রেণির নিম্নসীমার মধ্যে ব্যবধান থাকে (যেমন: ১০-১৯, ২০-২৯), তখন তাকে বিচ্ছিন্ন শ্রেণি বলে। আয়তলেখের জন্য এই গ্যাপ পূরণ করে আমাদের ১০.৫-১৯.৫, ১৯.৫-২৯.৫ এর মতো অবিচ্ছিন্ন মান তৈরি করতে হয়।
২. অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমা বের করার সূত্র ও নিয়ম
যদি শ্রেণির ব্যবধান ১ হয় (যেমন ১৯ এর পর ২০), তবে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করুন:
- নিম্নসীমা থেকে ০.৫ বিয়োগ: কোনো শ্রেণির ছোট মান বা নিম্নসীমা থেকে 0.5 বিয়োগ করতে হবে।
- উচ্চসীমা সাথে ০.৫ যোগ: ওই শ্রেণির বড় মান বা উচ্চসীমা সাথে 0.5 যোগ করতে হবে।
গাণিতিক উদাহরণ:
ধরুন আপনার কাছে একটি বিচ্ছিন্ন শ্রেণিবিন্যাস আছে:
| শ্রেণি (বিচ্ছিন্ন) | অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমা গণনা | অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমা |
| ১১ — ২০ | (১১ – ০.৫) এবং (২০ + ০.৫) | ১০.৫ — ২০.৫ |
| ২১ — ৩০ | (২১ – ০.৫) এবং (৩০ + ০.৫) | ২০.৫ — ৩০.৫ |
| ৩১ — ৪০ | (৩১ – ০.৫) এবং (৪০ + ০.৫) | ৩০.৫ — ৪০.৫ |
৩. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
আয়তলেখ আঁকার সময় X অক্ষ বরাবর এই অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিসীমাগুলো বসানো হয়। যেহেতু প্রথম শ্রেণির শেষ মান (২০.৫) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির শুরু মান (২০.৫) একই হয়ে যায়, তাই গ্রাফ কাগজে অঙ্কিত আয়তক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে না।
টিপস: যদি আপনার উপাত্তে শ্রেণির ব্যবধান ১ না হয়ে অন্য কিছু হয় (যেমন: ১০-১৯.৫, ২০.৫-৩০), তবে দুই শ্রেণির মধ্যবর্তী যে গ্যাপ থাকবে তাকে ২ দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত মান নিম্নসীমা থেকে বিয়োগ এবং উচ্চসীমার সাথে যোগ করতে হবে।
আপনি কি আপনার কোনো নির্দিষ্ট অংকের সমাধান পেতে এই নিয়মটি প্রয়োগ করতে চান? চাইলে আমি আপনাকে গ্রাফের ছক তৈরিতে সাহায্য করতে পারি।


