ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

১৯৫৬ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর ।

অথবা , ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানের প্রকৃতি বর্ণনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : সংবিধান হলো যে কোনো দেশ বা জাতির রাষ্ট্রীয় জীবনের চলার পাথেয় । সংবিধানবিহীন রাষ্ট্র কর্ণধারবিহীন জাহাজের সমতুল্য । বাংলাদেশ ও পাক – ভারতের ইতিহাসে ‘৪৭ সালের পরবর্তীতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়নের জন্য একাধিকবার দাবি উত্থাপিত হয় । কিন্তু কোনো দাবিতে কাজ হয়নি । তাই ১৯৫৪ এর নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় । পাকিস্তানের গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ সংবিধানের খসড়া প্রস্তাব করা হয় । ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ এটা কার্যকর হয় । এটাই পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান নামে অভিহিত ।

১৯৫৬ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য : ১৯৫৬ সালের সংবিধান পর্যালোচনা করলে কতকগুলো বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় । যথা :

১. ইসলামি প্রজাতন্ত্র : ১৯৫৬ সালের সংবিধানে পাকিস্তানকে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হয় । এ সংবিধান অনুযায়ী মুসলমান ছাড়া অন্য কেউ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবেন না বলা হয় । এছাড়া এ রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদদ্বয়ের সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন । এ পাকিস্তানে আল কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি কোনো আইন পাস হবে না বলা হয় ।

২. জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস : ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী জনসাধারণকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার একমাত্র উৎস বলে ঘোষণা করা হয় । আইন প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনা সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের MOSA হাতে ন্যস্ত করা হয় ।

৩. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার : এ সংবিধান অনুযায়ী পাকিস্তানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয় । কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোতে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভার ব্যবস্থা করা হয় । এ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নামমাত্র রাষ্ট্র প্রধানে পরিণত হয় , প্রকৃত শাসনক্ষমতা দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার হাতে । এ মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে দায়ী থাকত ।

৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : এ সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয় । এছাড়া বিচার বিভাগকে সংবিধানের রক্ষকের ভূমিকা প্রদান করা হয় ।

৫. মৌলিক অধিকার : এ সংবিধানে কতকগুলো মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয় । আইনসভা কিংবা শাসন বিভাগ কোনো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করলে নাগরিকগণ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারত । কিন্তু জনস্বার্থ , শান্তি , নিরাপত্তা ইত্যাদির খাতিরে এবং জরুরি অবস্থায় সরকার মৌলিক অধিকার খর্ব কিংবা রহিত করতে পারত ।

৬. যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন : ১৯৫৬ সালের সংবিধানে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয় । যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো এ সংবিধানে পরিলক্ষিত হয় । এটা ছিল লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান । কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রীয় সরকার ও দু’প্রদেশে দুটি প্রাদেশিক সরকার ছিল । সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা , এর ব্যাখ্যা প্রদান এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সম্ভাব্য বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি সুপ্রিম কোর্টও ছিল । সংবিধান পরিপন্থি কোনো আইন বা কাজকে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ বলে ঘোষণা করতে পারত ।

৭. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা : এ সংবিধানে পাকিস্তানে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রবর্তন করা হয় । এ ব্যবস্থা কেন্দ্র ও প্রদেশে বলবৎ ছিল । ৩০০ জন নির্বাচিত ও মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ১০ টি আসনসহ ৩১০ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনসভা গঠিত । উভয় প্রদেশের মধ্যে এ আসনসংখ্যা সমানভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয় ।

৮. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন : ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী পাকিস্তানের উভয় প্রদেশকে সংবিধানের আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপমুক্ত স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয় । সংবিধানে স্পষ্টাক্ষরে বলা হয়নি এমন বা অনুল্লিখিত বিষয়সমূহ প্রাদেশিক সরকারের এক্তিয়ারে রাখা হয় ।

৯. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষা : এ সংবিধানে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয় । এতে বলা হয় যে , সংখ্যালঘুরাও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে ।

১০. সংখ্যাসাম্য নীতি : এ সংবিধানে জাতীয় পরিষদে প্রতিনিধিত্বসহ অন্যান্য বিষয়ে পাকিস্তানের দুই প্রদেশের মধ্যে সংখ্যাসাম্য নীতি অনুসরণ করা হয় । তবে এ নীতি সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতীয়মান হয়নি ।

১১. রাষ্ট্রভাষা : এ সংবিধান অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয় ।

১২. লিখিত দলিল : ১৯৫৬ সালের সংবিধান একটি দীর্ঘ লিখিত দলিল । এতে একটি প্রস্তাবনা , ১৩ টি অংশ , ২৩৪ টি অনুচ্ছেদ ও ৬ টি তফসিল মোট ১০৫ পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে , ১৯৫৬ সালের সংবিধান ছিল পাকিস্তানের স্বার্থবাদী সরকারের এক ধরনের ভেলকিবাজি । এ সংবিধানে জনসাধারণের জন্য যে স্বায়ত্তশাসনের প্রবর্তন করা হয় তা ছিল উপলক্ষ মাত্র । বাস্তবে এ সংবিধানে কোনো স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তিত হয়নি । তবে পাকিস্তানের জনগণের ৯ বছরের দাবির কিঞ্চিত ফল হলো এ সংবিধান । এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের স্বার্থের দিকে লক্ষ রাখা হলেও পশ্চিমা সার্বিক দিক বিচারে শাসকচক্রের স্বার্থের দিকে বেশি লক্ষ রাখা হয় ।

এই বিষয়ের সকল প্রশ্ন পেতে এখানে ক্লিক করুন

যেকোনো পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন: Whatsapp +8801925492441

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!