ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

সংস্কৃতি মানে জীবনের Values সম্বন্ধে ধারণা”- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ অবলম্বনে উপর্যুক্ত মন্তব্যটি বিচার কর।

অথবা, সংস্কৃতির সাথে জীবনের সম্পর্ক কী তা ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধ অনুসরণে আলোচনা কর।
অথবা, সংস্কৃতি বলতে কী বুঝ? মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধ অনুসরণে এ প্রশ্নের উত্তর দাও।
অথবা, জীবনের Values সম্বন্ধে ধারণা কী? এর সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক কী তা মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংস্কৃতি কথা প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা কর।
অথবা, “কালচার মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতনা— সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি”- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধ অবলম্বনে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরা৷ ভূমিকা :
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব মোতাহের হোসেন চৌধুরী। প্রগতিশীল এবং মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধ মুক্তচিন্তার প্রতিফলনে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর একটি অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত সৃষ্টি। এ প্রবন্ধে তিনি সংস্কৃতি কি?- তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে সংস্কৃতি হলো জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা। তিনি মনে করেন সংস্কৃতি জীবনেরই আর এক নাম। জীবনের বাইরে সংস্কৃতির কোন অস্তিত্ব নেই। জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলাই সংস্কৃতি বা কালচারের লক্ষ্য।
সংস্কৃতি : ‘সংস্কৃতি’ শব্দটি ইংরেজি ‘Culture’ শব্দের প্রতিশব্দ। সংস্কৃতি বা কালচারের সংজ্ঞা অত্যন্ত ব্যাপক। কারো মতে, জীবনকে প্রকাশের নাম সংস্কৃতি। কেউ মনে করেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সভ্যতার নির্যাস। আবার কেউ বলেছেন, সংস্কৃতি হলো প্রগতি ও পূর্ণতা লাভের একটি সচেতন কর্মপ্রয়াস। প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মতে সংস্কৃতি মানে জীবনের values অর্থাৎ মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা। শিক্ষিত ও মার্জিত লোকের ধর্মই সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির কাজ : সংস্কৃতি মানুষের ভিতরে একটা নিজস্ব জীবনদর্শনের জন্ম দেয়। সমাজ মানুষকে সৃষ্টি করে। মানুষ নিজেকে গড়ে তোলে শিক্ষাদীক্ষা ও সৌন্দর্য সাধনার সাহায্যে। মানুষকে বিশেষভাবে গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষকে বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে শেখায়। প্রকৃতি ও মানব সংসারের মধ্যে অসংখ্য শিকড় প্রবেশ করিয়ে রস টেনে নিয়ে সংস্কৃতি মানুষকে বাঁচায়। প্রগতি, সভ্যতা ও ধর্মের চর্চার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বুক মিলিয়ে গভীরভাবে বাঁচার নাম সংস্কৃতি । সংস্কৃতি মানুষকে উদার, কর্তব্যপরায়ণ ও প্রেমিক করে তোলে।
সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য : ধর্ম আর সংস্কৃতি এক নয়। ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি আর সংস্কৃতি শিক্ষিত ও মার্জিত লোকের ধর্ম। সংস্কৃতি মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতনা; সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে ধারণা। সাধারণ মানুষ ধর্মের মাধ্যমেই তা পেয়ে থাকে। ধর্ম মানে জীবনের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু সংস্কৃতিবান মার্জিত মানুষ সংস্কৃতির মাধ্যমেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে। বাইরের ধর্ম নয় ভিতরের সূক্ষ্মচেতনাই তাদের চালক।
সংস্কৃতির স্বরূপ : জীবনকে অবলম্বন করেই সংস্কৃতির বিকাশ ও বিস্তার। জীবনের বাইরে তার কোন কর্মক্ষেত্র নেই। সংস্কৃতি মানুষকে পূর্ণতা দান করে- তাকে অমৃতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সংস্কৃতির সংস্পর্শে মানুষ নিজের বিবেককে জাগ্রত করে মনের মধ্যে বিশ্বপ্রেমের অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে দেয়। সংস্কারমুক্তি আর সংস্কৃতি এক কথা নয়। সংস্কারমুক্তি সংস্কৃতির একটা শর্ত মাত্র; তাও অনিবার্য শর্ত নয়। অনিবার্য শর্ত হচ্ছে মূল্যবোধ। সংস্কৃতির স্বরূপ হলো মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা।
সংস্কৃতি ও জীবনের মূল্যবোধ : মানুষ অমৃতের সন্তান। জীবনকে সঠিকভাবে পরিপূর্ণ করে তোলাই মানুষের দায়িত্ব। জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলতে হলে অন্তরের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত থাকতে হবে। মূল্যবোধহীন জীবনের চেয়ে অর্থহীন আর কিছু নেই। লোভ, লালসা, জিঘাংসা, শঠতা এগুলো মূল্যবোধহীনতার ফসল। জীবনে কামের যেমন প্রয়োজন আছে তেমনি ভোগেরও প্রয়োজন আছে। কিন্তু কামের চেয়ে প্রেম বড় এবং ভোগের চেয়ে উপভোগ বড় তা মনে রাখা প্রয়োজন সূক্ষ্মজীবনের প্রতি আকর্ষণ সংস্কৃতির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। সুতরাং জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণার নামই সংস্কৃতি।
সংস্কৃতি ও সংস্কারমুক্তি : অনেকে সংস্কারমুক্তিকেই সংস্কৃতি বলে মনে করে- উভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পায় না। কিন্তু তা সত্য নয়। সংস্কারমুক্তি সংস্কৃতির একটি শর্ত মাত্র। তাও অনিবার্য শর্ত নয়। অনিবার্য শর্ত হচ্ছে মূল্যবোধ। সংস্কারমুক্তি ছাড়াও সংস্কৃতি হতে পারে, কিন্তু মূল্যবোধ ছাড়া সংস্কৃতি অসম্ভব। মূল্যবোধহীন সংস্কারমুক্তির চেয়ে কুসংস্কারও ভালো। শিশ্লোন্দরপরায়ণতার মতো মন্দ সংস্কার আর কি হতে পারে? অর্থগৃধুতাও নেই। কিন্তু এসব মূল্যবোধহীন সংস্কারমুক্তিরই ফল। তাই শুধু সংস্কারমুক্তির উপরে আস্থা স্থাপন করে থাকা যায় না। আরো কিছু দরকার। কামের চেয়ে প্রেম বড়। ভোগের চেয়ে উপভোগ বড়- এ সংস্কার না জন্মালে সংস্কৃতি হয় না। সূক্ষ্ম জীবনের প্রতি টান সংস্কৃতির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু মূল্যবোধহীন সংস্কারমুক্তির টান সেদিকে নয়। তা স্থূল জীবনেরই ভক্ত।
লেখকের মন্তব্যের মূল্যায়ন : লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘সংস্কৃতি মানে জীবনের Values সম্বন্ধে ধারণা।’— তাঁর এ বক্তব্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে না। জীবনের বাইরে সংস্কৃতির কোন অস্তিত্ব নেই। সুতরাং সংস্কৃতিবান হতে হলে জীবনকে জানতে হবে। জীবনকে পরিপূর্ণভাবে জানাই সংস্কৃতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নিজের আত্মাকে প্রেমপুণ্যে পরিপূর্ণ করে তোলাই সংস্কৃতিবান মানুষের কাজ। আত্মাকে জানতে পারাই জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা লাভ। সুতরাং লেখকের বক্তব্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সংস্কৃতি মানুষের আত্মার ক্ষুধা নিবারণের প্রধান উপকরণ। নিজেকে উন্নত করতে হলে সংস্কৃতিচর্চার একান্ত প্রয়োজন। জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হলে সংস্কৃতিবান হতে হবে। সুতরাং, “সংস্কৃতি মানে জীবনের মূল্যবোধ সম্বন্ধে ধারণা।” লেখকের এ মন্তব্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!