ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079

মানব সম্পদ উন্নয়ন কী ? বাংলাদেশে বর্তমান মানব সম্পদ উন্নয়নের অবস্থা বর্ণনা কর ।

প্রশ্নঃ মানব সম্পদ উন্নয়ন কী ? বাংলাদেশে বর্তমান মানব সম্পদ উন্নয়নের অবস্থা বর্ণনা কর ।

উত্তর ভূমিকা : জাতির গৌরবময় প্রাচীন ইতিহাস তথা বিশ্ব সংস্কৃতির উন্নয়নের গতি ধারার সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশের শিক্ষা , স্বাস্থ্য , জীবনযাত্রার মান , কারিগরি দক্ষতা ও বাসস্থান ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে মানব উন্নয়ন সূচক নির্ণয় করা হয় । দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক ও ভৌত উভয় প্রকার উৎপাদনশীল সম্পদ সৃষ্টি করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক খাতে ব্যাপক ব্যয় । সরকার বিগত কয়েক বছরে সামাজিক খাত উন্নয়নের জন্য সরকারি ব্যয়ের শতকরা ২০ ভাগের অধিক হারে অর্থ বরাদ্দ করে আসছে ।

মানব সম্পদ উন্নয়ন : উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বস্তুগত মূলধনের প্রয়োজনীয়তা যেমন সীমাহীন তেমনি মানব সম্পদের উন্নয়ন অতি জরুরি । মানব সম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ মাত্র । মানব সম্পদের উন্নয়নই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি । নিম্নে মানব সম্পদ উন্নয়নের সংজ্ঞা দেয়া হলো :

মূলত একটি দেশের সমগ্র শ্রমশক্তিকে মানব সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় । কোন দেশের মূলধন , ভূমি ও জলভাগ ইত্যাদি যেমন তার সম্পদ , ঠিক তেমনি শ্রমশক্তিকে মানব সম্পদ বলা হয় । মানুষ শৈশব হতে শিক্ষা , প্রশিক্ষণ সেবা ও খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে সুযোগ্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে । এর ফলে তার কর্মদক্ষতা , যোগ্যতা ও অন্যান্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । সুতরাং আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি , কোন দেশের শ্রমশক্তি যখন শিক্ষা , স্বাস্থ্যসেবা , প্রশিক্ষণ , মানসম্মত বাসস্থান , চিকিৎসা ও মননশীলতা ইত্যাদির মাধ্যমে তার দক্ষতা , কর্মক্ষমতা ও সৃজনশীলতা ইত্যাদি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয় তখন তাকে মানব সম্পদ উন্নয়ন বলে ।

বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে । বর্তমানে দেশের সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডার মূল অঙ্গীকার হচ্ছে মানব সম্পদ উন্নয়ন । এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ধীরগতিতে হলেও মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটছে ।

বাংলাদেশে মানব সম্পদ উন্নয়নের অবস্থা :

১. জনসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি : জনসংখ্যা অধিক বৃদ্ধিজনিত কারণে দেশের নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে । বাসস্থান , খাদ্য ও চিকিৎসা ইত্যাদির অপ্রতুলতা মানব উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে । তাই অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি মানব সম্পদ উন্নয়নের প্রতিবন্ধকস্বরূপ ।

২. দক্ষতার অভাব : দেশের উৎপাদনশীলতা শ্রমিকের কর্মদক্ষতার উপর নির্ভর করে । উন্নত দেশে জিনিসের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান সবকিছুই বাংলাদেশ থেকে অনেক ভালো । দক্ষতার অভাবে উন্নত চিন্তা ও মননশক্তি প্রস্ফুটিত হয় না । ফলে মানব উন্নয়ন দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

৩. নিম্ন মাথাপিছু আয় : বর্তমানে বাংলাদেশের জনসাধারণের মাথাপিছু আয় ৭৫১ মার্কিন ডলার যেখানে সুইডেনের মাথপিছু আয় ৪০,০০০ মার্কিন ডলার । মাথাপিছু আয় নিম্নতর হওয়ার কারণে এদেশের মানব সম্পদ অনুন্নত ।

৪. চারিত্রিক গুণাবলি : উন্নত চরিত্রের অধিকারী মানুষ কাজের প্রতি সচেতন ও কর্তব্যপরায়ণ হয় । কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কর্তব্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে । এ অভাববোধ দেশের সার্বিক উৎপাদন কমিয়ে দেয় । ফলে মানব উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

৫. আবহাওয়া : স্বাভাবিকভাবেই শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মানুষ থেকে অধিক পরিশ্রমী । শীতকালীন সময়ে অধিক কাজ করলে ক্লান্তি কম আসে । কিন্তু এদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে একটানা অধিক সময় কাজ করা যায় না ।

৬. চিকিৎসার অপ্রতুলতা : বাংলাদেশে রেজিস্টারকৃত ডাক্তার ৫৫,৩২৫ জন মাত্র , প্রতি ৩,০০০ জন লোকের জন্য ১ জন করে ডাক্তার । ডাক্তারের সীমাহীন স্বল্পতায় দেশের চিকিৎসা সেবার নিদারূণ চিত্র ফুটে উঠে । মানব সম্পদ উন্নয়নে চিকিৎসা সেবার স্বল্পতা একটি অন্যতম অন্তরায় ।

৭. জীবনযাত্রার মান : বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে । এজন্য তাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন । তাছাড়া তারা জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম উপাদান ভোগ করতে পারে না । ফলে তাদের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় ।

৮. দারিদ্র্যজনিত সমস্যা : কোন দেশের দরিদ্রতার কারণে মানুষের আয় কম । আয় কম বলে সঞ্চয় কম । সঞ্চয় কম বলে বিনিয়োগ কম । মূলত দরিদ্রতার দুষ্টচক্রে আবদ্ধ । দেশের শতকরা ৪৯ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে । তাই এ দেশের মানব সম্পদ উন্নয়ন নিতান্তই হতাশাব্যঞ্জক ।

৯. আয়ুষ্কাল : বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল ৫৭ বছর । মানুষের কর্মক্ষমতা আয়ুষ্কালের উপর নির্ভর করে । জাপানের গড় আয়ুষ্কাল ৭৫ বছর । এ হতাশাব্যঞ্জক আয়ুষ্কাল এদেশের অনুন্নত মানব সম্পদের ইঙ্গিত বহন করে ।

১০. পরিবেশগত সমস্যা : বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় । অতি সম্প্রতি বিশ্বে সামগ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে নিয়মিত বন্যা , জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশে আঘাত হানে । ফলশ্রুতিতে সামাজিক উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়ে দুর্যোগ কবলিত জায়গায় সরকারি বরাদ্দ বাড়াতে হয় । তাই মানব সম্পদ উন্নয়নের পথ বাধাগ্রস্ত হয় ।

১১. শিক্ষার অভাব : দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই । এ লক্ষ্যে কারিগরি ও প্রকৌশলগত জ্ঞানের প্রসার একান্ত আবশ্যক । কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত বিধায় দেশের মানব সম্পদ উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে ।

১২. জনস্বাস্থ্যের অনুন্নয়ন : বাংলাদেশে জনসাধারণ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নয় । স্বাভাবিকভাবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শ্রমিকের দক্ষতা বেশি হয় । কিন্তু এদেশে দারিদ্র্যের কারণে বেশিরভাগ মানুষ উপর্যুক্ত চিকিৎসা ও সমাজসেবা ইত্যাদি পায় না । তাছাড়া অধিকাংশ লোক গ্রামে বাস করে বিধায় তাদের স্বাস্থ্য ক্ষতিকর ও দুর্বল । ফলে তাদের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কম ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে , বাংলাদেশে মানব সম্পদ এখন অনুন্নত পর্যায়ে রয়েছে । কোন দেশের শ্রমশক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি । তা এ শ্রমশক্তিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে হলে যে কোন মূল্যে মানব সম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!