ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাংলাদেশ শুধু এক সুবিশাল শহীদ মিনার হয়ে যাবে? এ প্রশ্নের আলোকে কবি শামসুর রাহমান বিরচিত ‘বার বার ফিরে আসে’ কবিতার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ কর

অথবা, “শামসুর রাহমানের ‘বার বার ফিরে আসে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও পণ-আন্দোলনের প্রেরণাদীপ্ত কবিতা”- এ উক্তির আলোকে কবিতাটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ ভূমিকা :
বাংলাদেশের কাৰ্যধারায় শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) একজন যুগসচেতন মননশীল আধুনিক কবি। তাঁর কবি কর্মের অনন্য ফসল বার বার ফিরে আসে বাংলাদেশের অগ্নিঝরা এক অস্থির সময়ের পটভূমিকায় বিরচিত একটি দেশাত্মবোধক কবিতা। কবিতাটি কবির ‘দুঃসময়ের মুখোমুখি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কবিতায় কবি উনিশ শ’ বায়ান্ন থেকে উনিশ শ’ একাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাব্যিক সুষমায় তুলে ধরেছেন। ঊনসত্তরের শহীদ আসাদের রক্তাপ্লুত শার্ট এ কবিতার পটভূমি নির্মাণ করেছে। নিম্নে বার বার ফিরে আসে’ কবিতার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করা হলো।
পটভূমি : বাংলাদেশ নামের আমাদের এ প্রিয় দেশটি প্রাচীনকাল থেকে বিদেশি শাসক কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হয়ে আসছে। এদেশের মানুষ যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে তখনই শোষকেরা চালিয়েছে নিষ্ঠুর নির্যাতন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে এ ভূখণ্ডটি পাকিস্তান নামক একটি দেশের প্রদেশে পরিণত হয়। ব্রিটিশের বদলে পাঞ্জাবিরা আমাদের দণ্ড-মুণ্ডের কর্তা হয়ে বসে। তারা প্রথমেই আমাদের মাতৃভাষা বাংলার উপর আঘাত হানে। মার খাওয়া বাঙালিরা গর্জে উঠে। উনিশ শ’ বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে এ দেশের দামাল ছেলেরা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে ভাষার মর্যাদা আদায় করে। এখান থেকেই শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান : বায়ান্ন সালে রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সে আন্দোলন স্বায়ত্তশাসন তথা স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসনের ছয় দফা জাতির সামনে তুলে ধরেন। কোটি কোটি দেশপ্রেমিক মানুষ ছয় দফার সমর্থনে রাজপথে নামে। আন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে পাকিস্তানি শাসকেরা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। শেখ মুজিবের মুক্তি ও ছয়দফা বাস্ত বায়নের লক্ষ্যে উনিশ শ’ ঊনসত্তরের প্রারম্ভে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ২০ জানুয়ারি শোষকদের গুলিতে নিহত হন আসাদ। আসাদের রক্তমাখা শার্টকে পাতাকা বানিয়ে শুরু হয় মিছিল। ঊনসত্তরের শহীদ আসাদের এ রক্তমাখা শার্টই আলোচ্য কবিতার পটভূমি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : কবি শামসুর রাহমানের ‘বার বার ফিরে আসে’ কবিতাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। এদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণের বার বার রাজনৈতিক মার খাওয়ার ঘটনার উপর কবি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বার বার আমরা মার খেয়েছি, বার বার আমাদের শার্ট রক্তরঞ্জিত হয়েছে, বার বার আমাদের উপর মৃত্যুদণ্ড নেমে এসেছে এবং বার বার শত্রুরা আমাদেরকে হত্যা করতে চেয়েছে। কবি বলেছেন-


“আমাকেই হত্যা করে ওরা, বায়ান্নোর রৌদ্রময় পথে,
আমাকেই হত্যা করে ওরা
ঊনসত্তরের বিদ্রোহী প্রহরে
একাত্তরে পুনরায় হত্যা করে ওরা আমাকেই।”


এ হত্যার রাজনীতির প্রেক্ষাপটেই কবি রচনা করেছেন এ কবিতা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা কিনেছি আমাদের স্বাধীনতা। কবি সে রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা ভুলতে পারেননি। স্বাধিকার আদায়ের যুদ্ধে শহীদদের প্রত্যয়ী মুখ ও রক্তাক্ত শার্ট এখনো তাঁর স্মৃতিতে বার বার ফিরে আসে। ত্রিশ লক্ষ শহীদদের মাজার সমৃদ্ধ এ দেশটা মনে হয় এক বিশাল শহীদ মিনার।
সামাজিক প্রেক্ষাপট : এ দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের যেমন ভূমিকা ছিল, তেমনি সমাজের দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষেরাও সর্বোচ্চ ত্যাগের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে। এদেশের সাধারণ মানুষ শোষণহীন নতুন সমাজ গড়ার মানসে হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক সমাজব্যবস্থার প্রতি বিতৃষ্ণা হয়ে তারা যে যতটুকু পেরেছে দেশের জন্য ত্যাগ করেছে। তার জন্য এক মায়ের চোখের অশ্রু শুকাতে না শুকাতে আর এক মায়ের বুক খালি হয়েছে। এক বধূর কপাল ভাঙতে না ভাঙতেই আর এক বধূকে বৈধব্যবরণ করতে হয়েছে। এক পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচা মাটি শুকাতে না শুকাতে আর এক পিতাকে কবর খুঁড়তে যেতে হয়েছে। এভাবেই দেশটা বিশাল শহীদ মিনারে পরিণত হয়েছে।
গণচেতনা : কবি শামসুর রাহমান ‘বার বার ফিরে আসে’ একটি গণচেতনাসমৃদ্ধ কবিতা। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের একটি রক্তমাখা জামা জাতীয় জীবনের এ গণ চেতনার সৃষ্টি করেছিল। কবি গণজোয়ার সৃষ্টিতে এ রক্তাপ্লুত শার্টের যে ভূমিকা ছিল তা এভাবে প্রশ্ন করেছেন এ কবিতায়-


“বার বার ফিরে আসে রক্তাপুত শার্ট
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বার বার রক্তাপুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বার বার
বার বার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।”


একটি রক্তমাখা জামা সারা দেশে যে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল তারই ফলশ্রুতিতে এসেছিল স্বাধীনতা। কবি এ গণচেতনার কাব্যিক মানচিত্র অঙ্কন করেছেন এ কবিতায়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ‘বার বার ফিরে আসে’ কবিতাটিতে কবি শামসুর রাহমান এদেশের লক্ষ শহীদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রশ্ন করেছেন- এভাবে শহীদ হতে হতে বাংলাদেশটা কি এক সুবিশাল শহীদ মিনারে পরিণত হবে? এ কবিতার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবির এ প্রশ্নটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!