ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থার সমস্যাগুলো আলোচনা কর ।

[ad_1]

👉 বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থার সমস্যাগুলো আলোচনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি উন্নত ও অপরিসীম । দেশে সুষ্ঠু ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ঠিত ব্যাংক ব্যবস্থার গুরুত্ব করা হয় । বর্তমান আবার বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । ফলে বর্তমানে আমাদের ব্যাংক ব্যবসায়ে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক পাশাপাশি কাজ করছে , কিন্তু তাতেও আমাদের সমস্যার তেমন কিছু সমাধান হয় নি । এর প্রধান কারণ বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা অনুন্নত , অসংগঠিত ও ত্রুটিপূর্ণ ।

বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থার সমস্যাবলি বা ত্রুটিসমূহ : বিগত কয়েক দশকের ইতিহাসে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতা বা ত্রুটিসমূহ খুঁজে পাওয়া যায় । বর্তমানে দেশীয় ব্যাংক , বৈদেশিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ৪৮ টি ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে । ব্যাংক ব্যবস্থার এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ফলশ্রুতিতে এবং বর্তমানে বিরাজমান ব্যাংকিং কাঠামোর কারণে ব্যাংক ব্যবস্থাগুলোতে যে দুর্বলতা ও ত্রুটিসমূহের সৃষ্টি হয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

১. প্রতিযোগিতার অভাব : সুষ্ঠু ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালিত করতে হলে ব্যাংকসমূহের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় প্রতিযোগিতা থাকা দরকার । কিন্তু বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ইচ্ছামতো অতিরিক্ত রিজার্ভ রাখে । এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নগদ জমার হার পরিবর্তন নীতি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কার্যকর করা সম্ভব হয় না ।

২. সরকারি হস্তক্ষেপ : বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় ব্যাংকিং ব্যবসায়ের সিংহভাগই সম্পাদন করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক । কিন্তু এগুলো স্বাধীনভাবে লাভলোকসানের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে না । এসব ব্যাংক সরকারের নির্দেশে রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করতে বাধ্য হয় । ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে এবং সরকারকে বারংবার পুনঃমূলধনায়ন করতে হয় ।

৩. কৃষিঋণের অভাব : বাংলাদেশে শতকরা ৮৫ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে এবং কৃষিকাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িত । এদেশের অর্থনীতিও কৃষির উপর নির্ভরশীল । অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্তই হলো কৃষি উন্নয়ন । আমাদের জাতীয় আয়ের প্রায় এক – তৃতীয়াংশ কৃষি হতে আসে । কিন্তু আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিক্ষেত্রে ঋণদানের ব্যাপারে তেমন উৎসাহ দেখায় না । এতে আমাদের কৃষি উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ।

৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের অভাব : ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তেমন উৎসাহী নয় । কারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণগ্রহীতারা উত্তম জামানত প্রদান করতে পারে না । অবশ্য বর্তমান সরকার স্বল্প জামানতে যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণগ্রহীতারা ঋণ পায় , সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন ।

৫. ওলিগোপলিস্টিক কাঠামো : বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ওলিগোপলিস্টিক কাঠামো দেখা যায় । মোট ব্যাংকিং ব্যবসার সিংহভাগ সম্পাদন করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক । তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নীতিকে অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো অনুসরণ করে থাকে । এতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা হয় না । তারা প্রায় একই হারে সুদ প্রদান ও গ্রহণ করে । ফলে ওলিগোপলিস্টিক কাঠামো ব্যাংকিং প্রতিযোগিতার প্রধান অন্তরায় হয়েছে ।

৬. ব্যাংক প্রতিষ্ঠার স্বল্পতা : বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার স্বল্পতা নয়েছে । যদিও বর্তমানে বেসরকারি খাতে ব্যাংক স্থাপিত হচ্ছে কিন্তু এদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ শহরকেন্দ্রিক ।

৭. আমলাতন্ত্র : বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত রয়েছে । ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরকারি আমলার মতো যথাসময়ে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি ভোগ করে থাকেন । ব্যবসায়ী কৃতিত্বেও দক্ষতার সাথে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি তেমন সম্পর্ক রাখে না । তাই ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মতো বাজারের নীতি মেনে চলে না ।

৮. দক্ষ কর্মচারীর অভাব : ব্যাংকিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ ব্যাংক কর্মচারী প্রয়োজন । কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশে যথেষ্ট সংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভাব রয়েছে । এর ফলে সুষ্ঠুভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় না ।

৯. চলতি মূলধনের অভাব : বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থার অন্যতম ত্রুটি হলো চলতি মূলধনের অভাব । বেশিরভাগ তফশিলি ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধনের পরিমাণ অনুমোদিত মূলধনের তুলনায় অনেক কম । তারল্যের অভাব আমাদের দেশের ব্যাংকসমূহের ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করতে পারে না ।

১০. উচ্চপ্রকৃতি সুদের হার : সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে সুদের হার অনেক বেড়েছে । ২০০৭ সালে অগ্নিমের উপর প্রকৃত সুদের হার ছিল ১৪ % যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি । ফলে প্রান্তিক বিনিয়োগকারীরা অগ্রিম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তেমন উৎসাহ পাচ্ছে না ।

১১. খেলাফি ঋণ : বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ খেলাপি ঋণের সমস্যা বেসরকারি ব্যাংক অপেক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অনেক বেশি । ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিংশ এক শ্রেণীর অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করে । কিন্তু তারা সময়মতো সে ঋণ ফেরত দেয় না । এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ।

১২. সমন্বয়ের অভাব : বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবস্থার অন্যতম ত্রুটি হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব । বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে । এসব প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে ।

১৩. ব্যাংকিং অভ্যাসের অভাব : বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ব্যাংকিং অভ্যাসেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে । জনগণ এখনো নগদ টাকায় লেনদেন করতেই বেশি আগ্রহী , সহজে তারা ব্যাংকে যেতে চায় না । ফলে আমাদের ব্যাংকিং ব্যবসায় তেমন অগ্রগতি নেই বললেই চলে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে , বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় উপর্যুক্ত সমস্যাগুলো বহু মাত্রায় বিদ্যমান । উক্ত সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে এদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা হবে উন্নত ও স্বচ্ছ ।

[ad_2]

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!