ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব আলোচনা কর ।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব আলোচনা কর ।

উত্তর ভূমিকা : বর্তমান বাংলাদেশে কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে । শহরে ১৪.৬ % এবং গ্রামে ২৮.৬ % মানুষ নিরঙ্কুশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে । তাছাড়া গ্রামীণ জনসংখ্যার ৪৯.৩ % মানুষ কার্যত ভূমিহীন এবং এদের মধ্যে ৪৩.৮ % মানুষের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে । বস্তুত বাংলাদেশের আর্থসামাজিক জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী । আমাদের জীবনে এমন কোন দিক নেই , যা দারিদ্র্যের প্রভাবমুক্ত । প্রতিটি সমস্যার মাঝেই দারিদ্র্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক জীবনে দারিদ্র্যের প্রভাব : বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিশেষ বিশেষ দিকগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো :

১. বেকারত্ব : জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর কর্মসংস্থানের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে । কিন্তু অর্থাভাবে শিল্পায়নের গতি যেমন মন্থর তেমনি উন্নয়নমূলক কাজেরও প্রসার হচ্ছে না । এতে করে বেকার সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করছে ।

২. শিল্পে অনগ্রসরতাঃ দরিদ্রের প্রভাবে বাংলাদেশে শিল্পায়ন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে । বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম । ফলে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও মূলধন গঠনের হার অত্যন্ত কম । আর মূলধন কম বলে বিনিয়োগও কম । এরূপ চক্রাকারে ক্রিয়াশীল দরিদ্রের দুষ্টচক্রের প্রভাবে বাংলাদেশে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না ।

৩. অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি : দরিদ্রের নিষ্ঠুর চাপে অনেকের ন্যায় অন্যায় , বৈধ অবৈধ জ্ঞান লোপ পায় । তখন তারা মৌল চাহিদা মিটাতে যে কোন ধরনের কাজ করতে পারে । এতে করে সমাজে চুরি , ডাকাতি , খুন , হত্যা , রাহাজানি , ঘুষ , প্রতারণা ও পতিতাবৃত্তি প্রভৃতি অপরাধ ও অসামাজিক কাজ বৃদ্ধি পায় ।

৪. মৌল মানবিক চাহিদার অপুরণ : মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের সাথে মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িত । বাংলাদেশে শতকরা ৮০ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে । যে কারণে তারা অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , স্বাস্থ্য এবং চিত্তবিনোদনসহ কোন চাহিদাই সঠিকভাবে পূরণ করতে পারে না ।

৫. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ : বস্তুত দরিদ্রের কারণে দেশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বৃদ্ধি পায় । কেবলমাত্র দরিদ্র ব্যক্তিরাই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে । যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে এবং তাদের জীর্ণ আবাসিকতাই সুস্থ পরিবেশকে বিঘ্নিত করে ।

৬. দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র : দারিদ্র্যের অন্যতম প্রভাব হচ্ছে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র । এটা এমন কতকগুলো শক্তির সম্মিলিত রূপ , যেগুলো একটি অন্যটির সাথে ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দেশকে দরিদ্র করে রাখে । বস্তুত দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র এমন একটি ব্যবস্থা , যাতে উৎপাদন , আয়ব্যয় , ক্রয়ক্ষমতা , চাহিদা , সঞ্চয় , মূলধন গঠন , বিনিয়োগ ও জীবনমান সঞ্চয়ই সম্পদ ।

৭. পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি : বাংলাদেশে পারিবারিক কলহ সৃষ্টিতে দারিদ্র্যের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে । মূলত দারিদ্র্যের ফলে আমাদের পারিবারিক জীবনে দাম্পত্য কলহ , বিবাহবিচ্ছেদ , নারীনির্যাতন , যৌতুক প্রথা আত্মহত্যা , নিরাপত্তাহীনতা ও পারিবারিক ভাঙন প্রভৃতি বৃদ্ধি পায় ।

৮. স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতা : দারিদ্র্যের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ অন্ন , বস্ত্র ও বাসস্থান প্রভৃতির চাহিদা মিটাতে পারে না । ঠিকমতো খাদ্য না পেয়ে বহুলোক অর্ধাহারে ও অনাহারে দিন কাটায় এবং খাদ্য , পুষ্টিহীন খাদ্য খেতে তারা বাধ্য হয় । ফলে তাদের স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতা দেখা দেয় এবং বার্ধক্য , অকাল মৃত্যু , শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুহার তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় ।

৯. কৃষি উন্নয়ন ব্যাহত : কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক হচ্ছে দারিদ্র্য । দরিদ্রতার প্রভাবে দেশের কৃষক সমাজ আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারছে না । এমনকি অর্থাভাবে চাষাবাদের জন্য হালের বলদ পর্যন্ত যোগাড় করতে পারে না । ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ।

১০. অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা বৃদ্ধি : বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দরিদ্রতা । কেননা এদেশের দরিদ্র জনগণের আয়ের সিংহভাগ অন্নবস্ত্রের জন্য ব্যয় করে । দরিদ্র শ্রেণী শিক্ষার ব্যয়ভার বহনে অক্ষম হওয়ায় এবং সন্তানদের উপার্জনে সহায়তার কাজে নিয়োগ করে বিধায় স্কুলে পাঠাতে পারছে না । ফলে এদেশে নিরক্ষরতার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

১১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি : দারিদ্র্যের প্রভাবে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে । যেমন . প্রথমত , “ যত মানুষ তত রোজগার ” এ ধারণার বশবর্তী হয়ে দরিদ্র জনসাধারণ অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে । দ্বিতীয়ত , তারা বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন হিসেবে অধিক পুত্রসন্তান কামনার আশায় অধিক সন্তান নিয়ে থাকে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে , দারিদ্র্য বাংলাদেশের এক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি এবং এটি অনেক সামাজিক সমস্যার জন্মদাতা । WHO এর মতে , বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য । গত তিন দশকের প্রয়াসে বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির তীব্রতা হ্রাস পেলেও এখনো এর ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক । দেশের বিদ্যমান সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এ সমস্যা মোকাবিলা করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!