ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি ও শিল্পখাতের আপেক্ষিক ভূমিকা আলোচনা কর ।

[ad_1]

✍️বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি ও শিল্পখাতের আপেক্ষিক ভূমিকা আলোচনা কর ।

উত্তর ভূমিকা : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণের জন্য কৃষি ও শিল্পখাতের আপেক্ষিক ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন । অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্য কৃষি ও শিল্পখাতের মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে ডাও নির্ণয় করা প্রয়োজন ।

ক . বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্পের আপেক্ষিক অবস্থান : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৭/৯৮ সালে বাংলাদেশের জি.ডি.পি. তে কৃষির অবদান ছিল ৩২ % এবং শিল্পখাতের অবদান ছিল ১১.২ % । অবশ্য শিল্পখাতে কি কি উপখাত অন্তর্ভুক্ত হবে সে সম্পর্কে পার্থক্যের কারণে কোন কোন সমীক্ষায় শিল্পখাতের জি.ডি.পি. তে অবদান প্রায় ১৬ % বলা হচ্ছে । অতএব শিল্পখাতের তুলনায় কৃষিখাতের জি.ডি.পি.তে অবদান বিগুণের বেশি । প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনা করলে দেখা যায় যে , ১৯৭৩-৯৩ সময়কালে কৃষিখাতের মূল্য সংযোজন বার্ষিক ২.৭ % হারে বৃদ্ধি পায় । পক্ষান্তরে , ঐ সময়কালে শিল্পখাতের মূল্য সংযোজন বার্ষিক ৩ % হারে বৃদ্ধি পায় , ঐ সময়ে সার্ভিস খাতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির হারের কারণে জি.ডি.পি. প্রবৃদ্ধির হার হয় বার্ষিক ৪ % ।

উপযুক্ত পরিসংখ্যান থেকে একথা বলা যায় যে , বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাতের আপেক্ষিক আকার ক্রমে হ্রাস পেলেও তা এখনো শিল্পখাতের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ । স্বাধীনতার পর জি.ডি.পি.তে কৃষির অবদান প্রায় ৬০ % ছিল যা হ্রাস পেয়ে ৩২ % হয়েছে । পক্ষান্তরে , জি.ডি.পি তে শিল্পখাতের অবদান স্বাধীনতার পরে প্রায় ৪ % ছিল যা হ্রাস পেয়ে ১২ % হয়েছিল । অতএব অর্থনীতির প্রত্যাশিত কাঠামোগত পরিবর্তন অনুযায়ী ক্রমে কৃষিখাতের অবদান হ্রাস পাচ্ছে এবং ধীরগতিতে শিল্পের অবদান বাড়ছে ।

খ . কৃষি ও শিল্পের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ । তাই এর অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমানে পরিবর্তনশীল । এ পর্যায়ে কৃষিখাত ও শিল্পখাত উভয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ । এ দুই খাত পরস্পর নির্ভরশীলতার সম্পর্কে আবদ্ধ ।

নিম্নে শিল্প ও কৃষিখাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্ণনা করা হলো :

কৃষির উপর শিল্পের নির্ভরশীলতা : বাংলাদেশে শিল্পখাতের উৎপন্ন দ্রব্যের বাজার প্রধানত কৃষিখাতের উপর নির্ভরশীল । বাংলাদেশের শিল্পজাত দ্রব্য প্রধানত অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপন্ন হয় । কৃষিভিত্তিক আয়ের অধিকারী মানুষই এ শিল্পজাত দ্রব্যের ক্রেতা । এ কারণে এক সমীক্ষাতে শিল্পখাতের মূল্য সংযোজন এবং অন্যান্য খাতের মূল্য সংযোজনের মধ্যে সহ সম্পর্কের সহগ প্রায় ০.৯৫ পাওয়া গেছে । বিগত প্রায় দুই দশকব্যাপী কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২.৭ % । কৃষিখাতের এ মন্থর প্রবৃদ্ধি শিল্পখাতের স্থবিরতার অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত হয়েছে ।

১. বাংলাদেশের শিল্পখাত কাঁচামালের জন্য কৃষিখাতের উপর নির্ভর করে । যেমন – পাট , চিনি , কাগজ ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল সরাসরি কৃষিখাত থেকে আসে ।

২ . শিল্পখাত শ্রমের যোগানের জন্য কৃষিখাতের উপর নির্ভরশীল । বাংলাদেশে কৃষিখাতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োজিত আছে , যাদের ছদ্মবেশী বেকার বলা হয় । কিন্তু কৃষির কাঠামোগত পরিবর্তন সাধিত হলেই এ অতিরিক্ত শ্রমশক্তি বিমুক্ত হয়ে শিল্পে স্থানান্তরিত হতে পারে ।

৩. শিল্পখাতের উন্নয়নের জন্য প্রচুর মূলধন প্রয়োজন । কিন্তু তার জন্য অর্থনীতির অন্য খাতে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি করা প্রয়োজন । বাংলাদেশে কৃষিখাতে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হলে তা শিল্পে বিনিয়োজিত হতে পারে । অতএব পুঁজির জন্য শিল্পখাতের উপর নির্ভরশীল ।

৪. শিল্পখাতের উন্নয়নের জন্য বিদেশ থেকে মূলধন দ্রব্য আমদানির উদ্দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন । এ বৈদেশিক মুদ্রা এ পর্যায়ে কৃষিজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব । অতএব বৈদেশিক মুদ্রার যোগানের জন্য শিল্পখাত কৃষিখাতের উপর নির্ভরশীল ।

৫. কৃষিখাত সমগ্ৰ অর্থনীতির জন্য খাদ্যের যোগান দেয় । শিল্পখাতে ব্যাপক হারে শ্রমিক নিয়োগ তখনই সম্ভব যখন খাদ্য সহজলভ্য হয় । খাদ্যের সহজলভ্যতা শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়ায় । অতএব কৃষি পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন হলেই শিল্প খাতে শ্রমিক নিয়োগ সম্ভব ।

শিল্পের উপর কৃষির নির্ভরশীলতা ;

১. কৃষিপণ্যের বাজার সৃষ্টি করে শিল্পখাত । শিল্পখাত চাঙ্গা হলে কৃষিপণ্যের বাজার বিস্তৃত হয় এবং কৃষক অধিক আয় করে । অতএব বাজার সৃষ্টির জন্য কৃষি শিল্পখাতের উপর নির্ভরশীল ।

২ . আধুনিক কৃষি উপকরণের যোগান দেয় শিল্পখাত । রাসায়নিক সার , কীটনাশক , শ্যালো , পাম্পের যন্ত্রাংশ , নিড়ানি যন্ত্র ইত্যাদি শিল্পখাতে উৎপাদিত হয় । অতএব কৃষিখাত আধুনিক উপকরণের জন্য শিল্পখাতের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল ।

৩ . কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত হয় শিল্পখাতে । যেমন- ধান প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য রয়েছে অসংখ্য রাইস মিল , তেমনি পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আছে পাটকল , চামড়ার জন্য আছে ট্যানারি ইত্যাদি ।

৪ . কৃষি উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত শ্রমে ভারাক্রান্ত কৃষিজাত থেকে শ্রমিকের অন্যত্র স্থানান্তর অত্যাবশ্যক । শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই কৃষিখাতের অতিরিক্ত শ্রমিক শিল্পে স্থানান্তরের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন সম্ভব হবে ।

উপসংহার : উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে , বাংলাদেশে কৃষি ও শিল্প অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত । এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি দ্বৈততা বলে পরিচিত । উভয় খাতের সমৃদ্ধি পরস্পর নির্ভরশীল । অতএব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্পের বর্তমান আপেক্ষিক অবস্থান এবং তাদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রেক্ষপটে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্প উভয় খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।

✍️কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল ” তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

উত্তর ভূমিকা : কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল । কৃষির উন্নয়নের দ্বারা শিল্প খাতের উন্নয়ন সম্ভব আবার শিল্প খাতের উন্নয়ন দ্বারা কৃষি খাতের উন্নয়ন সম্ভব । দুটি খাতই একে অপরের পরিপূরক । কৃষি উন্নয়ন বনাম শিল্প উন্নয়ন : কৃষি উন্নয়ন ও শিল্প উন্নয়ন যে কোন দেশের জন্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে । আর এ জন্যই শিল্পোন্নয়ন যেমন কৃষি উন্নয়নের উপর নির্ভরশীল তেমনই কৃষি উন্নয়নও শিল্পোন্নয়নের উপর নির্ভরশীল হয়ে দ্বৈত উন্নয়ন ধারায় উন্নয়নের গতি হওয়া উচিত ।

বিষয়টি একটি চক্রাকারে ছকে উল্লেখ করা হলো : দ্রব্য ও সেবার মূল্য শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা জনগণ বা আত্মতোষণ খাত শিল্পখাত কাঁচামাল ও শ্রমিক সরবরাহ কাঁচামালের মূল্য + মজুরি + সুদ + মুনাফা কৃষি উন্নয়ন বনাম শিল্পোন্নয়ন কৃষির উপর শিল্পের নির্ভরশীলতা ( Dependency of industry on agriculture ) : কৃষি ও শিল্প একে অপরের পরিপূরক । কৃষিতে উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রিকে রূপান্তরিত করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বা দ্রব্য তৈরি করাকে শিল্প বলে । যেমন- পাট উৎপন্ন করে তা থেকে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত দ্রব্য উৎপন্ন করাকে বুঝায় । তাই কৃষি উন্নয়ন ব্যাতীত শিল্প উন্নয়ন চিন্তা করা কঠিন ।

নিম্নে কৃষির উপর শিল্পের নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করা হলো :

১. কৃষি শিল্পের কাঁচামাল যোগান : কৃষি শিল্প কারখানায় কাঁচামাল যোগান দেয় । কৃষিজাত কাঁচামালের উপর নির্ভর করেই চিনি শিল্প , কাগজ শিল্প , পাট শিল্পগুলো গড়ে উঠেছে । কাজেই কৃষি প্রসারতার উপর শিল্পের প্রসারতা নির্ভর করে ।

২. কৃষিপণ্য রপ্তানি দ্বারা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি : কৃষিপ্রধান দেশগুলোর শিল্পোন্নয়নের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জন্য বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয় । সাধারণত এ যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় । এসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয় যা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সাহায্য করে থাকে । সুতরাং শিল্পোন্নয়নের জন্য কৃষির উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য ।

৩. কৃষি খাদ্যের যোগান , বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ ও শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি : এমন অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যাদের প্রতি বছর বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয় । এসব দেশে কৃষি উন্নয়ন দ্বারা দেশীয় খাদ্যের চাহিদা মিটাতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারে । এসব উদ্বৃত্ত অর্থ শিল্পে বিনিযোগ করে শিল্পকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব ।

৪. কৃষি উন্নয়ন শিল্পের শ্রমিক যোগান দেয় : কৃষি উন্নয়নের ফলে শিল্পের শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে । কারণ কৃষি উন্নয়নের ফলে শিল্পোন্নয়ন হয় , ফলে শিল্পে অতিরিক্ত শ্রমিক চাহিদা দেখা দেয় । এতে বেকারত্ব হ্রাস পায় । Prof. W. Arthur Lewie 1954 সালে তাঁর ‘ Economic Development with Unlimited Supplies of Labour ‘ , গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে , “ অনুন্নত দেশের অর্থনীতিতে অসীম শ্রমিক কৃষিখাত হতে শিল্পখাতে নিয়োগের মাধ্যমে অনুন্নত দেশের বিশেষ করে কৃষিপ্রধান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব ।

৫. কৃষি উন্নয়ন ও শিল্পজাত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করে : কৃষি উন্নয়ন ঘটলে কৃষকের মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে । ফলে গ্রামাঞ্চলে শিল্পপণ্যের চাহিদা ও যোগান বৃদ্ধি পাবে । সুতরাং শিল্পজাত পণ্যের বাজার বিস্তৃত করতে হলে কৃষি উন্নয়ন একান্ত আবশ্যক ।

৬. কৃষি উন্নয়নে শিল্পের কাঁচামালের খরচ কম হয় : অধিক কৃষি উন্নয়ন ঘটলে কৃষিজাত কাঁচামালের মূল্য হ্রাস পাবে । ফলে শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের গড় খরচ কম পড়বে । এতে কম মূল্যে শিল্পপণ্য পাওয়া যাবে । ফলে ভোগ উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হবে । যার দ্বারা অতিরিক্ত বিনিয়োগ সম্ভব । শিল্পের উপর কৃষির নির্ভরশীলতা ( Depnedncy of agricultural on industry ) : কৃষির উপর যেমন শিল্প নির্ভরশীল তেমনি শিল্পের উপরও কৃষি নির্ভরশীল । শিল্পে উৎপাদিত সার , কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি বর্তমান সময়ে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । এসব দ্রব্য ব্যবহারের ফলে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

নিম্নে শিল্পের উপর কৃষির নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করা হলো :

১. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তন ও কৃষি উন্নয়ন : আধুনিক অর্থনীতিতে কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তন ছাড়া কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয় । কিন্তু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশের শিল্পোন্নয়নের উপর নির্ভর করে । এছাড়া রাসায়নিক সার , কীটনাশক ঔষধ ইত্যাদি প্রস্তুতের যন্ত্রপাতি , পানি সেচের যন্ত্রপাতির জন্য শিল্পের প্রয়োজন । কাজেই কৃষি শিল্পের উপর নির্ভর করে ।

২. শিল্প ও গ্রামীণ ছদ্মবেশী বেকারত্ব : কৃষি ক্ষেত্রে অধিক শ্রমিক সরবরাহ আছে বলে বেকারত্ব , ছদ্মবেশী বেকারত্ব বিদ্যমান রয়েছে । W. Artur Lewis , Fei and Ranis এর মতে , শিল্পের উন্নয়ন ও কারিগরি কৌশলিক উন্নয়নের ফলে শিল্পের প্রসারতা ঘটে । ফলে শিল্পক্ষেত্রে অধিক শ্রমিকের প্রয়োজন হয় । কাজেই শিল্পের উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে সমস্যা সমাধান করতে পারে ।

৩. শিল্প , কৃষিপণ্যের পূর্ণ ব্যবহার : শিল্পোন্নয়ন না হলে কৃষির উৎপাদিত পণ্য অপচয় , অপূর্ণ ব্যবহার ঘটে । অর্থাৎ সংরক্ষণের অভাবে অনেক পচনশীল পণ্য নষ্ট হয় । এ ক্ষেত্রে শিল্পের উন্নয়ন ঘটলে কৃষির কাঁচামাল , কৃষিজাত উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু ও সঠিক ব্যবহার দ্বারা কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনে নিশ্চয়তা দিতে পারে ।

৪. শিল্পোন্নয়ন ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি : অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যারা কৃষিপণ্য কাঁচামাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে । শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সহজ ।

৫. শিল্পোন্নয়ন কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি : শিল্পোন্নয়নের ফলে কৃষিজাত কাঁচামালের চাহিদা বৃদ্ধি পায় । এর ফলে কৃষকদের কাঁচামালের যোগান দেয়া বেড়ে যাবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে । এরূপ পরিস্থিতিতে তারা কৃষিতে অধিকতর বিনিয়োগ সমর্থ হবে । ফলে শিল্পোন্নয়নের দরুন কৃষি উন্নয়নের গতিবেগ ত্বরান্বিত হবে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে , কৃষি যেমন শিল্পের উপর নির্ভরশীল তেমনই শিল্পও কৃষির উপর নির্ভরশীল । একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কল্পনা করা যায় না । অর্থাৎ কৃষি ও শিল্প নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ । কৃষিতে উৎপাদিত দ্রব্য শিল্পে ব্যবহার করা হয় । আবার শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্য কৃষিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি ও শিল্প বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

[ad_2]

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!