ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

বর্তমান যুগে প্লেটোর রিপাবলিক এর মূল্যায়ন আলোচনা কর ।

অথবা , বর্তমান যুগে প্লেটোর রিপাবলিক এর রাষ্ট্রদর্শন পর্যালোচনা কর ।

অথবা , বর্তমান যুগে প্লেটোর রিপাবলিক এর বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : মহান দার্শনিক প্লেটো রচিত ‘ দি রিপাবলিক ‘ ( The Republic ) বিশ্ব সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ । এ গ্রন্থের মাধ্যমে প্লেটো রাষ্ট্রনীতির যে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন , তা আজও বিশ্বে বিরল অবদান বলে স্বীকৃত আছে । গ্রিক নগরসভ্যতার সাথে প্লেটো ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন । সমাজ ও রাজনীতির সাথে ছিল তার বাস্তব সম্পর্ক । গ্রিক নগররাষ্ট্রের ক্রান্তিলগ্নে প্লেটো যে সমস্যা কণ্টকাকীর্ণ জীবনের মধ্যে বাস করেছেন , মূলত রিপাবলিক হচ্ছে তা থেকে মুক্তির প্রয়াস । গ্রিক নগররাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা যখন অভিজাততন্ত্র , কতিপয়তন্ত্র , স্বৈরতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের চক্রাবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল , তখন আদর্শ রাষ্ট্রের নীল নকশারূপে ‘ The Republic ‘ শাসকদের সামনে আবির্ভূত হয় নতুন দিনের আলো নিয়ে ।

বর্তমান যুগে প্লেটোর ‘ Republic ‘ এর মূল্যায়ন : প্লেটোর সমগ্র ‘ রিপাবলিক ‘ গ্রন্থটি দশটি পুস্তকে বিভক্ত । গ্রন্থটির অষ্টম ও নবম পুস্তকের একাংশে আদর্শ রাষ্ট্রের বিচ্যুতি হিসেবে প্লেটো কতকগুলো রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । সেসব রাষ্ট্র গ্রিক রাষ্ট্রসমূহেরই উদাহরণ । তবে শুধু গ্রিক সমাজকে নিয়েই রিপাবলিক গ্রন্থে আলোচনা হয় নি , এ আলোচনায় আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থারও ইঙ্গিত রয়েছে । আবার রাজনীতি ও সামাজিক বিষয়সমূহের আলোচনা করা হয়েছে দ্বিতীয় , তৃতীয় ও চতুর্থ পুস্তকে । এসব পুস্তকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রের প্রাথমিক গঠন , সমৃদ্ধতর রাষ্ট্র , শাসকের আবশ্যকীয় গুণ , রাষ্ট্রের নাগরিকদের শ্রেণীবিভাগ , শাসকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রভৃতি । এসব আলোচনা কোন দৃষ্টান্তের বিস্তারিত বর্ণনার উপর ভিত্তি করে হয় নি । এসব বিষয়ের অন্তর্গত নীতির উপরই প্লেটো জোর দিয়েছেন । গ্রন্থের বাকি অংশ ছিল প্রধানত ন্যায় , শিক্ষা , দর্শন , কাব্য এবং আত্মার অমরতা বিষয়ক আলোচনা ।

এজন্য Rousseau ( রুশো ) বলেছেন , ” Republic কে রাজনৈতিক গ্রন্থ না বলে শিক্ষা সম্পর্কিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ বলা যেতে পারে । ” একথা ঠিক বর্তমান যুগেও প্লেটোর ‘ Republic ‘ গ্রন্থ থেকে অনেক কিছু জানার বা শিক্ষার আছে । তাই প্লেটো সম্পর্কে জ্ঞান লাভেরও সার্থকতা রয়েছে । একইরকম প্রশংসা করে লেখক উইল ডুরান্ট ( Will Durant ) বলেন , “ প্লেটোর সংলাপ বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ এবং সমস্ত সংলাপের মধ্যে রিপাবলিক হচ্ছে সর্বোত্তম । রিপাবলিক একখানি সামগ্রিক তত্ত্বগ্রন্থ । বলা চলে এ গ্রন্থে সমগ্র প্লেটো একখানি গ্রন্থের আকার লাভ করেছেন । আবার প্লেটোর রিপাবলিক এর সার্থক ইংরেজি অনুবাদক অধ্যাপক বেঞ্জামিন জোয়েট ( B. Jowet ) বলেন , রিপাবলিক ’ অবশ্যই প্লেটোর শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ ।

রিপাবলিকের মধ্যে আমরা প্লেটোর দৃষ্টির যে বিস্তার দেখতে পাই এবং সংলাপ নীতির উৎকর্ষের যে চরম সাফল্য রিপাবলিক এ অর্জিত হয়েছে এর নিদর্শন অপর কোন সংলাপে নেই । জগৎ এবং জীবনের জ্ঞানের এমন ব্যাপ্তি চিন্তার ক্ষেত্রে শুধু এক যুগের নয় সকল যুগের নতুন এবং পুরাতনের এ সম্মিলন অপর কোন সংলাপে আমরা দেখি না । The Republic হচ্ছে প্লেটোর সকল সংলাপের কেন্দ্রবিশেষ । রিপাবলিককে কেন্দ্র করেই অপর সকল সংলাপ গ্রথিত হয়েছে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , প্লেটোর ‘ Republic ‘ নীতিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কিত একটি একক গ্রন্থ । এখানে ‘ মানুষকে চিন্তা করা হয়েছে রাষ্ট্রের সভ্য হিসেবে , আর রাষ্ট্রকে চিন্তা করা হয়েছে একটি নৈতিক সংগঠন হিসেবে । ‘ রিপাবলিক ’ মূলত বাস্তব উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত একটি গ্রন্থ ; ‘ Republic ‘ মনের দর্শন । তবে তা কেবল মনকে বিশ্লেষণ করার জন্য নয় মানুষকে সতর্ক করা ও পরামর্শ দেয়ার জন্যও । এ গ্রন্থে প্লেটো মানুষের মুক্তির জন্য সত্যকে অনুসন্ধান করেছেন । সুতরাং প্লেটো সম্পর্কে জ্ঞান লাভের আবশ্যকতা বর্তমান যুগেও রয়েছে একথা বলা যায় ।

প্রশ্নঃ প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন কর ।

অথবা , প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা কর ।

উত্তর ভূমিকা : গ্রিস রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা , দেশের যুদ্ধাবস্থা প্রভৃতির অবসানকল্পে প্লেটো তাঁর বিখ্যাত ‘ The Republic ‘ গ্রন্থে একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা দেন । প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁরই গুরু মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের মূলনীতি ‘ Virtue is knowledge ‘ এবং ‘ বা আদর্শ তাই বাস্তব ‘ প্রভৃতি নীতি দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণে প্রভাবিত হয়েছেন । মূলত প্লেটো তাঁর ‘ The Republic ‘ গ্রন্থে যে আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা দিয়েছেন তার মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্দর বা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য : প্লেটো তাঁর রিপাবলিকের মধ্যে যে আদর্শ রাষ্ট্রের চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তার মধ্যে নিম্নলিখিত কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য :

১. শ্রেণীভিত্তিক প্রতিষ্ঠান : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র একটি শ্রেণীভিত্তিক প্রতিষ্ঠান । এ রাষ্ট্রের অধিবাসীরা প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত । এ তিনটি শ্রেণী নিম্নরূপ :

ক . অভিভাবক শ্রেণী : প্লেটো তাঁর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসনভার অভিভাবক শ্রেণী অর্থাৎ দার্শনিক রাজাদের হাতে ন্যস্ত করতে চেয়েছেন । এ অভিভাবক শ্রেণী হচ্ছে সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী ।

খ . যোদ্ধা শ্রেণী : শ্রেণীবিন্যাসের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে যোদ্ধা শ্রেণী । এরা হচ্ছে সাহস এবং শক্তির অধিকারী । রাষ্ট্র রক্ষা এবং প্রজাদের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব এদের উপর ন্যস্ত ।

গ . উৎপাদক শ্ৰেণী : শ্রেণীবিভাগের নিম্নস্তরে রয়েছে শ্রমিক বা উৎপাদক শ্রেণী । রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে শ্রমিক শ্রেণী ।

২. শ্রমবিভাগ ও বিশেষীকরণ : প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রকে শ্রমবিভাগ ও বিশেষীকরণের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন । এখানে যোগ্যতার মাপকাঠিত্বে কর্ম নির্ধারিত হয় ।

৩. সাম্যবাদ : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রে অভিভাবক শ্রেণীর উপর সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে । তাদের কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং পরিবার থাকবে না । তারা কেবল রাষ্ট্র শাসনে মনোযোগী হবেন ।

৪. বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা : প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রে শিক্ষাব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ শিক্ষাব্যবস্থা হবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ।

৫. ন্যায়বিচার : ন্যায়বিচার হচ্ছে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । তাঁর মতে , একমাত্র আদর্শ রাষ্ট্রে সর্বোত্তম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত ।

৬. গণতন্ত্রের স্থান ছিল না : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের কোন স্থান ছিল না । তিনি মনে করতেন , জ্ঞান বুদ্ধিতে সবাই সমান হতে পারে না , তাই রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে সবাই মতামত দিতেও পারে না । এজন্য তিনি গণতন্ত্রকে মূর্খের শাসন হিসেবে অবহিত করেছেন ।

৭. আইনের অনুপস্থিতি : প্লেটো মনে করেন , আদর্শ রাষ্ট্রের দার্শনিক রাজাগণ যেহেতু সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী সেহেতু এখানে আইনের কোন প্রয়োজন নেই । প্লেটো বলেছেন , যখন শাসকগণ ন্যায়পরায়ণ থাকে , তখন আইন নিষ্প্রয়োজন আর যখন শাসকগণ দুর্নীতিপরায়ণ হন , তখন আইন অকার্যকর ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রতত্ত্বের পরিকল্পনা কল্পনা বিলাসমাত্র বা সম্পূর্ণরূপে সর্বাত্মক প্রকৃতির ; তথাপি এ তত্ত্বের কিছু গুণ লক্ষ্য করা যায় । আধুনিক যুগের ক্ষমতা পৃথকীকরণ নীতি প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র তত্ত্ব মতবাদের নিকট দায়ী । মোটকথা , বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতি সাধনে যেসব মনীষীর অবদান চিরভাস্কর , তাঁদের মধ্যে গ্রিক চিন্তাবিদ প্লেটোর তত্ত্ব অন্যতম । আর এ বিখ্যাত মনীষীর চিন্তাধারার মধ্যে আদর্শ রাষ্ট্র তত্ত্বটি অন্যতম ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!