ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

প্লেটো বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকগণ কিভাবে দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জন করবেন ?

উত্তর ৷ ভূমিকা : মহামতি প্লেটো ছিলেন গ্রিক পণ্ডিতপ্রবর দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য । প্লেটোর চিন্তাধারা ছিল বৈপ্লবিক । তাঁর গ্রন্থসমূহ চিন্তাক্ষেত্রে আলোড়ন সৃষ্টি করে । তাঁর ‘ দি রিপাবলিক ’ দি লজ ’ ও ‘ দি স্টেটম্যান ‘ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । প্লেটোর মতে আদর্শ রাষ্ট্রের লক্ষ্য উত্তম জীবন । তিনি বিশ্বাস করতেন দার্শনিক রাজাই ( Philosopher king ) আদর্শ রাষ্ট্রের কর্ণধার ।

আদর্শ রাষ্ট্রের শাসকগণের দার্শনিক রাজার গুণাবলি অর্জন : প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্র ন্যায়ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল । তাঁর মতে , জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত ন্যায়ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব ।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো দার্শনিক রাজার শাসন । প্লেটো যে রাষ্ট্রের চিত্র অঙ্কন করেছেন তা গতানুগতিক বা আধুনিক রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী । তিনি তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের শাসনভার দার্শনিক শ্রেণীর হাতে অর্পণ করেছেন । এ দার্শনিক শ্রেণী সক্রেটিসের ‘ Virtue is knowledge ‘ এই গুণে গুণান্বিত [ T তারা সৎ ও মহৎ । তারা ন্যায় বা পুণ্য কি , তা বুঝেন । একমাত্র দার্শনিকেরাই জনগণের মনস্তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারেন । প্রশাসনের পক্ষে এটি অপরিহার্য । জনগণের মনের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে না পারলে শাসনকার্য পরিচলনা করা সম্ভব নয় । দার্শনিক রাজার আদর্শে জনগণ অনুপ্রাণিত হবে । রাষ্ট্রের লক্ষ্যই হলো সৎ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা এবং এটা দার্শনিক রাজার পক্ষেই সম্ভব ।

প্লেটো দার্শনিক রাজার দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন , দার্শনিক রাজা শাসনভার তুলে নেয়ার পূর্বে আদর্শ রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা অঙ্কন করে নিবেন । আর এরূপ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কেবল স্বর্গেই বিদ্যমান । তিনি লক্ষ্য রাখবেন যেন রাষ্ট্রের মধ্যে দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য পাশাপাশি অবস্থান না করে । রাষ্ট্রের আয়তন একেবারে ছোট আবার খুব বড়ও হবে না । দার্শনিক রাজা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দিবেন ।

সমালোচনা : প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে সমস্ত গুণাবলি সম্পন্ন দার্শনিক রাজার সন্ধান করেছেন তা বাস্তবে পাওয়া অসম্ভব । দার্শনিক রাজার শাসনকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে । কিন্তু আইনবিহীন শাসন স্বৈরাচারের নামান্তর ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় , প্লেটো তাঁর শিক্ষা গুরু সক্রেটিসের ‘ Vritue is knowledge ‘ নীতিকে বাস্তবে রূপদান করতে গিয়ে আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য একজন আদর্শ দার্শনিক রাজার সন্ধান করেছেন । বাস্তবে তিনি এ শাসকের সন্ধান পান নি বা পরবর্তীকালেও এরূপ শাসকের দর্শন লাভ সম্ভব হয় নি । তবে J. P. Suda বলেন , “ দার্শনিক রাজার শাসন তত্ত্বের হাজারো ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এটি সত্য যে , প্লেটোর সকল মৌলিক দর্শনের মধ্যে দার্শনিক রাজার শাসন সর্বাপেক্ষা মৌলিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ।

প্রশ্নঃ প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণাকে তুমি কি কাল্পনিক মনে কর ?

উত্তর ৷ ভূমিকা : মহান রাষ্ট্রদার্শনিক প্লেটো ছিলেন রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম দিকপাল । প্লেটোর হাত দিয়েই রাষ্ট্রচিন্তা সর্বপ্রথম একটি সমন্বিত বিষয় হিসেবে রূপ লাভ করে । প্লেটো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল এবং রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি তার আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা অঙ্কন করেন । প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্র ছিল একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা । আমি প্লেটোর রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কাল্পনিক বলে মনে করি । নিম্নে তার কারণগুলো উল্লেখ করা হলো :

কাল্পনিক হিসেবে প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্র : নিম্নে কাল্পনিক হিসেবে প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্রের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো : ১. বাস্তবায়ন সম্ভব নয় : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র বাস্তবে রূপায়ণ অসম্ভব । তার দার্শনিক রাজার সন্ধান পাওয়া একটি অবাস্তব কল্পনা । ফলে প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্র কল্পনাজগতের ভ্রমণকারী বলে গণ্য হয় ।

২. অভিজাততান্ত্রিক : প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি অভিজাতদের পক্ষপাতিত্ব করেছেন । তিনি তার আদর্শ রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কোন সুযোগ রাখেন নি । ফলে আদর্শ রাষ্ট্র ছিল একটি কল্পিত রূপরেখা ।

৩. ন্যায়ধর্ম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা : প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়ধর্ম । কিন্তু তিনি তার আদর্শরাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের নামে শ্রেণীভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন । এখানে তিনি বিশেষ শ্রেণীর সুযোগসুবিধা প্রদান করেন ।

৪. আইনের শাসন : প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্রে আইনের শাসনকে অস্বীকার করে ব্যক্তির শাসনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন । আইনের শাসনকে অস্বীকার করে ব্যক্তির স্বৈরাচারী শাসনকে সমর্থন করেন , ফলে এটি একটি অবাস্তব রাষ্ট্রের রূপরেখা ।

৫. সাম্যবাদ : প্লেটো আদর্শরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি যে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন তা অভিনব এবং কাল্পনিক । পরিবার প্রথা উচ্ছেদ এবং সম্পত্তির মালিকানা শাসকশ্রেণীর জন্য না রাখা একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , প্লেটোর আদর্শরাষ্ট্রের মডেলটি ছিল একটি অবাস্তব কল্পনা । তিনি ছিলেন ভাববাদী দার্শনিক । তার আদর্শ রাষ্ট্র ছিল একটি নিছক রোমাঞ্চ । তার আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা ছিল একটি সমসাময়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকল্পে একটি ধারণা কাঠামো । বাস্তবে এ রাষ্ট্রব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় । ফলে তার আদর্শরাষ্ট্র ছিল একটি • কাল্পনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার রূপরেখা ।

প্রশ্ন প্লেটোর বর্ণিত শিক্ষাব্যবস্থার স্তরসমূহ আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর শিক্ষা ব্যবস্থা কাঠামো বর্ণনা কর ।

অথবা , প্লেটোর শিক্ষা ব্যবস্থা স্তর বিন্যাস কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া , যার দ্বারা একটি সমাজের ইউনিটসমূহ সামাজিক চেতনা ও প্রেরণায় ভরপুর করে তোলে এবং সামাজিক চাহিদাগুলো পরিপূর্ণ করে । এটি এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা ব্যক্তি অতি সহজেই সমাজে নিজেকে খাপখাইয়ে নিতে পারে এবং নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে প্রেরণা লাভ করে । প্লেটো ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন । প্লেটোর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের মূলভিত্তি ছিল শিক্ষাব্যবস্থা । প্লেটোর মতে , “ ভালো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোন উন্নতি সম্ভবপর । কাজেই শিক্ষাকে যদি অবহেলা করা হয় তবে রাষ্ট্র অন্য যা কিছুই করুক তাতে কিছুই আসে যায় না ।

প্লেটো বর্ণিত শিক্ষাব্যবস্থার স্তর : প্লেটো শিক্ষাব্যবস্থাকে দুটি প্রধান স্তরে বিভক্ত করেছেন । যথা :

১. প্রাথমিক শিক্ষা ও

২ . উচ্চতর শিক্ষা ।

১. প্রাথমিক শিক্ষা : প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার লক্ষ্য হবে শিশুর অন্তরে মহৎ ভাবমূর্তি সৃষ্টি করা । প্লেটোর মতে , প্রাথমিক শিক্ষার বয়ঃসীমা হবে শৈশব থেকে ২০ বছর পর্যন্ত । প্রাথমিক শিক্ষার উপাদান দুটি । যথা :

ক . সংগীতমূলক শিক্ষা : প্লেটো সংগীতমূলক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মা এবং মনের ইন্ধন যুগিয়েছেন । তিনি সংগীতমূলক শিক্ষার দ্বারা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ অবদান কবিতা , গান , গঠনমূলক শিল্প ইত্যাদির বিশদ ব্যাখ্যা ও গবেষণা করেছেন । এগুলো চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুরা প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করবে ।

খ . ব্যায়ামমূলক শিক্ষা : এ পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীগণ শারীরিক ব্যায়াম বা দেহচর্চার মধ্য দিয়ে নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মসংযম আয়ত্ত করতে শিখবে এবং তৎসঙ্গে মানবোচিত গুণাবলির উৎকর্ষ সাধন করতে শিখবে ।

২. উচ্চতর শিক্ষা : প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চতর শিক্ষা তিনটি স্তরে বিভক্ত । যথা :

ক . ২০ থেকে ৩০ বছর : এ সময় গভীরভাবে গণিত , জ্যামিতি , সংগীত ও জ্যোতিশাস্ত্র শিক্ষা করতে হবে । শিক্ষা শেষে একটি বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চতর শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচিত করা হবে ।

খ . ৩০ থেকে ৩৫ বছর : এ পর্যায়ে উচ্চ দর্শনের জ্ঞান অর্জন অন্তর্ভুক্ত থাকবে । এর আগে উচ্চতর দর্শন শিক্ষা দেয়া হবে না । কেননা পরিণত বয়স ছাড়া উচ্চতর দর্শন গ্রহণ একটু জটিল হয়ে যায় ।

গ . ৩৫ থেকে ৫০ বছর : এ পর্যায়ে বাস্তব কর্মসাধনার কৌশল শিক্ষা দেয়া হবে । এ সময়ের শিক্ষার্থীগণ রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করবে । এ বয়সে শিক্ষার্থীদের উপর রাষ্ট্রের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে সুশাসন পাওয়া সম্ভব হবে ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , প্লেটো তৎকালীন সমাজব্যবস্থার উপর নির্ভর করে তাঁর শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন । তাই তাঁর তত্ত্বে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতেই পারে । তবুও তাঁর প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থা যে একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা এবং ‘ রিপাবলিক ’ গ্রন্থ যে শিক্ষার উপর লিখিত উত্তম গ্রন্থ এটি বেশিরভাগ দার্শনিকই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!