ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

প্রশ্নঃ রুশোকে কী একজন সর্বাত্মকবাদী বলে অভিহিত করা যথার্থ হবে ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও ।

অথবা , রুশোকে কী একজন সর্বাত্মকবাদী হিসেবে অভিহিত করা যথার্থ হবে ? ব্যাখ্যা কর ।
অথবা , রুশো ছিলেন একজন সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক বর্ণনা কর । অথবা , রুশোকে কেন সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক বলা হয় ?
উত্তর ৷ ভূমিকা : জ্যা জ্যাক রুশোর রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রীয় ধারণা যে ” সাধারণ ইচ্ছাতত্ত্ব ” তা গণসার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত হলেও তার প্রকৃতি বিষয়ে মতামতের ঐক্য নেই । কেউ তাঁর ” General will ” কে সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের ” Will of the Nation ” এর সাথে মিলিয়ে দেখেছেন আবার কেউ কেউ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ” Public opinion ” এর সাথে সমার্থক বিবেচনা করেছেন । তাই অনেকের নিকট রুশো সর্বাত্মকবাদী আবার অনেকের নিকট রুশো গণতন্ত্রী । বার্ট্রান্ড রাসেল রুশোকে হিটলারের স্রষ্টা বলে অভিহিত করেছেন । প্রকৃতপক্ষে সর্বাত্মকবাদে স্বেচ্ছাচারী একনায়ক নিজের ইচ্ছাকে যেভাবে “ জনগণের ইচ্ছা ” বলে প্রচার করে না , রুশোর দর্শন সে শিক্ষা এবং সুযোগ কোনটিই দেয় না । তাই রুশোকে সর্বাত্মকবাদী বলা যুক্তিযুক্ত নয় ।

রুশোকে সর্বাত্মকবাদী বলা যথার্থ কি না : অনেক রাষ্ট্রচিন্তাবিদ রুশোকে সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক হিসেবে অভিহিত করেছেন । রুশোকে সর্বাত্মকবাদী বলা যথার্থ কি না তা নিম্নে আলোচিত হলো :

১. ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রসঙ্গে : রুশো ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ সুনিশ্চিত করেছিলেন । মানুষকে স্বাধীন হতে বাধ্য করে রুশো ব্যক্তিস্বাধীনতাকেই লঙ্ঘন করেছেন । যা সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রনায়কদের অমোঘ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে । এদিক থেকে রুশোকে সর্বাত্মকবাদী বলে আখ্যায়িত করা যথার্থ হবে ।

২. ব্যক্তিস্বার্থ বিরোধী : ব্যক্তিস্বার্থ বিরোধী হিসেবে রুশোকে সর্বাত্মকবাদী বলে অভিহিত করা যায় । রুশোর চিন্তাধারায় সামগ্রিক সমাজের স্বার্থ প্রতিফলিত হওয়ায় তা সমাজতন্ত্রকেই সমর্থন করেছে । সমাজতন্ত্র ব্যক্তিকে প্রাধান্য না দিয়ে রাষ্ট্রকেই প্রাধান্য দেয় , যা সর্বাত্মক ব্যবস্থার নামান্তর ।

৩. রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা : রুশোর মতে , সার্বভৌমত্ব সাধারণ ইচ্ছার উপর ন্যস্ত । সাধারণ ইচ্ছাকে চরম ক্ষমতাসম্পন্ন করে তিনি সর্বাত্মকবাদের পরিচয় দিয়েছেন । রুশোর মতে , রাষ্ট্রই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার আধার । রাষ্ট্রের সার্বভৌম শক্তি “ অসীম , চরম , চূড়ান্ত , হস্তান্তর অযোগ্য , অবিভাজ্য , অবিনশ্বর , প্রতিনিধিত্ববিহীন ” এসবই সর্বাত্মকবাদের পরিচয় বহন করে ।

৪. সাধারণ ইচ্ছা প্রসঙ্গে : রুশোকে সর্বাত্মকবাদী প্রমাণ করার জন্য তার সাধারণ ইচ্ছাতত্ত্বই যথেষ্ট । রুশোর সাধারণ ইচ্ছা ও সকলের ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে । আবার একে তিনি চিরস্থায়ী ও হস্তান্তর অযোগ্য ঘোষণা করেছেন । বস্তুত এসব কারণেই একনায়কগণ তাদের ক্ষমতা ও কার্যক্রমকে বৈধ করার জন্য রুশোর সাধারণ ইচ্ছাকে তাদের নিজেদের মতো ব্যবহার করেছেন ।

৫. সামাজিক ধর্ম : রুশো সামাজিক ধর্মতত্ত্ব মতে , এক অভিনব ধর্মতত্ত্ব রচনা করে । এ নতুন ধর্ম মানুষের ধর্মমতে আঘাত হেনেছে এবং এ ধর্ম প্রতিটি ব্যক্তিকে মানতে বাধ্য করায় তিনি সর্বাত্মকবাদের পরিচয় দিয়েছেন । তাছাড়া রুশোর সামাজিক ধর্ম সকল ধর্ম অনুশীলনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে , যা সর্বাত্মকবাদের বহিঃপ্রকাশ ।

৬. রাষ্ট্রই সর্বেসর্বা : রুশোর রাষ্ট্রদর্শন হলো জনগণ বিনাশর্তে তাদের সমস্ত ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে যৌথ ব্যক্তিত্ব বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পণ করেছে , যা সর্বাত্মক প্রকৃতির ।

৭. রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা যাবে না : রুশো বলেছেন , রাষ্ট্র কোন অন্যায় করতে পারে না । রাষ্ট্র ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করলেও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছুই করার নেই । কেননা রাষ্ট্র সর্বক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান । এটি সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ।

৮. সরকার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে : রুশো বলেছেন , “ সরকার কোন চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নি । বরং তা সার্বভৌম শাসকের আদেশের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে । ” তার এ মন্তব্য স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর । যার জন্য তাকে সর্বাত্মকবাদী বলে আখ্যায়িত করা যায় ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক রুশোর রাষ্ট্রদর্শন আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে । তার সাধারণ ইচ্ছাতত্ত্ব আপাতদৃষ্টিতে সর্বাত্মকবাদী মতবাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে । কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তার মতবাদ নৈতিকতা বিবর্জিত নয় । এছাড়া সামাজিক ধর্ম নিয়ে তাকে সর্বাত্মকবাদী বলা হলেও প্রকৃত অর্থে তিনি একজন জাতীয় চেতনা সৃষ্টিকারী ধর্মের দিশারি ছিলেন । সুতরাং সকল দিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা বলতে পারি , রুশোকে একজন সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক বলে অভিহিত করা যুক্তিসঙ্গত হবে না ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!