ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে স্বল্প মাথাপিছু আয়ের কারণগুলো বর্ণনা কর ।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে স্বল্প মাথাপিছু আয়ের কারণগুলো বর্ণনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : বাংলাদেশে স্বল্প মাথাপিছু আয় বিরাজমান । পৃথিবীর নিম্ন মাথা পিছু আয়ের দেশের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ বাংলাদেশ । বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম । এদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত কম । ফলে তাদের জীবনযাত্রার মানও খুবই নিচু । নিম্নে বাংলাদেশের জনগণের স্বল্প মাথাপিছু আয়ের কারণসমূহ বর্ণনা করা হলো :

. অনুন্নত কৃষি : বাংলাদেশে এখনো মান্ধাতার আমলের চাষাবাদ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে । আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগেও আমাদের দেশের কৃষকরা লাঙল – জোয়ালের সাহায্যে চাষাবাদ করে । যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার খুবই কম । ফলে আমাদের কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনের পরিমাণ অত্যন্ত কম ।

২. শিক্ষার অভাব : বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ নিরক্ষর । অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারণে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কম । ফলে তাদের আয়ও কম ।

৩. সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব : সুষ্ঠু ও বাস্তব পরিকল্পনার অভাবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি খুবই মন্থর । অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের বিগত পাঁচশালা পরিকল্পনাগুলোর সাফল্য রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক ।

৪. প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহার : বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথ ব্যবহার এখনো সম্ভবপর হয় নি । মূলধন , দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিবিদ্যার অভাব আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদসমূহের পরিপূর্ণ ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । ফলে বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম ।

৫. বেকার সমস্যা : বাংলাদেশ বেকার সমস্যায় জর্জরিত । ব্রিটিশ আমলে এদেশে কোন উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে নি । পাকিস্তানি আমলে সামান্য কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বটে । তবে চাহিদার তুলনায় সেগুলো কম ।

৬. জনসংখ্যার চাপ : বাংলাদেশে জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে । ২০০৯-১০ সালের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৯০ জন লোক বাস করে । বর্তমানে জনসংখ্যা বছরে শতকরা প্রায় ১.৩২ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । ফলে জনগণের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না ।

৭. মূলধনের অভাব : বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কম ফলে জনগণের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও অত্যন্ত কম । ফলে আমাদের দেশে মূলধন সৃষ্টির হার স্বল্প । মূলধনের অভাবে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না ।

৮. খনিজ সম্পদের অপ্রতুলতা : কয়লা , তেল , লৌহ প্রভৃতি খনিজ সম্পদ আমাদের নেই । অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের অভাব আমাদের উন্নয়নের পথে বাধার সৃষ্টি করেছে ।

৯. কারিগরি জ্ঞানের অভাব : স্বল্প আয় , জীবনযাত্রার নিম্নমান ও দেশে কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রের অভাবে বাংলাদেশের শ্রমিকের কারিগরি জ্ঞান অত্যন্ত কম । কুশলী শ্রমিকের অভাবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি মন্থর এবং মাথাপিছু আয়ও কম ।

১০. দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব : বাংলাদেশে দক্ষ উদ্যোক্তা শ্রেণীর একান্ত অভাব রয়েছে । মূলধন ও দক্ষ উদ্যোক্তা শ্রেণীর অভাবে আমাদের শিল্পোন্নয়নে গতি অত্যন্ত মন্থর ।

১১. প্রাকৃতিক বিপর্যয় : আমাদের দারিদ্র্যের পিছনে প্রকৃতির ভূমিকাও কম নয় । বাংলাদেশ মূল । কৃষিপ্রধান দেশ এবং আমাদের কৃষি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল । কিন্তু বন্যা , খরা , ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি কারণে প্রতিবছর আমাদের বিপুল পরিমাণ শস্যের ক্ষতি হয় ।

১২. শিল্পের অনুন্নতি : আমাদের দেশ শিল্পে অনগ্রসর । ব্রিটিশ আমলে এদেশে শিল্পোন্নতি হয় নি । পাকিস্তানি আমলেও এদেশে শিল্পোন্নয়নের গতি ছিল মন্থর । স্বাধীনতার পর অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে । শিল্পের অভাবে আমাদের কাঁচামালগুলো কম দামে বিদেশে বিক্রি করে দিতে হয় । শিল্পের অভাব বাংলাদেশে জনগণের স্বল্প মাথাপিছু আয়ের অন্যতম কারণ ।

১৩. অনুন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো : অনুন্নত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোও আমাদের স্বল্প মাথাপিছু আয়ের অন্যতম কারণ । আমাদের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো উন্নত হয় নি । বাংলাদেশ সড়ক ও রেলপথ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম । অনুন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায় ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত অবস্থা দূর না করতে পারলে আমাদের মাথাপিছু আয় কখনই বৃদ্ধি পাবে না ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!