ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

প্রশ্নঃ আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে মন্টেক্ষুর অবদান বর্ণনা কর ।

অথবা , আধুনিক রাষ্ট্রমতবাদে মন্টেস্কুর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর ।
অথবা , আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে মন্টেক্ষুর মূল্যায়ন কর ।
উত্তর ভূমিকা : আধুনিক যুগের অন্যতম রাষ্ট্রদার্শনিক মন্টেস্ক ১৬৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসের উপকণ্ঠে লা – ব্রিডি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর মেধা ছিল অসাধারণ । আর জ্ঞানার্জনের স্পৃহা ছিল প্রবল । স্টোয়িকবাদের উপর ছিল তাঁর প্রচণ্ড দুর্বলতা । তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে পার্সিয়ান লেটার্স , কনসিডারেশন অন দি কজেস অব দ্যা গ্রেটনেস , ডিক্লাইন অব দ্যা রোম ও দি স্পিরিট অব লজ অন্যতম । তবে তাঁর Spirit of Laws তাঁকে সর্বাধিক খ্যাতির আসনে বসিয়েছে ।

রাষ্ট্রদর্শনে মন্টেক্ষুর অবদান : মন্টেস্কুর রাষ্ট্রদর্শনে নানাপ্রকার অবদান রয়েছে । নিম্নে তাঁর রাষ্ট্রদর্শনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো আলোচনা করা হলো :

১. আইন সংক্রান্ত ধারণা : মন্টেস্কু পূর্ববর্তী লেখকগণ আইনকে হয় যুক্তিসঙ্গত বিধান কিংবা সার্বভৌমের আদেশ হিসেবে গণ্য করেছেন । কিন্তু এগুলোর কোনটিতেই আইনকে তাঁর যথার্থ কার্যকারণ সম্পর্কের সাধারণ নীতির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয় নি । এদিক থেকে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুই প্রথম ব্যক্তি যিনি আইনকে কার্যকারণ নীতির উপর ভিত্তি করে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন ।

২. আইনের সংজ্ঞা : The Spirit of Laws ‘ গ্রন্থে তিনি বলেছেন , ‘ সাধারণভাবে বলতে গেলে আইন যে কোন জিনিসের প্রকৃতির ফলে উদ্ভূত স্বাভাবিক সম্পর্কের ফল । ” জড়বাদী জগৎ যেমন কতকগুলো সুনির্দিষ্ট আইনের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কোথাও আইনের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না , মনুষ্য সমাজও তেমনি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । হঠকারিতা বা খামখেয়ালির স্থান কোথাও নেই । সধারণভাবে আইন হচ্ছে মানুষের যুক্তিবাদিতা । তিনি আইনকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বলে স্বীকার করেন নি । মানুষের আচরণের নিয়মগুলোই হলো আইন । মানুষ সমাজবদ্ধ জীব বলে নিজেদের মধ্যে নানাভাবে সম্পর্কযুক্ত । তাই যেখানেই সম্পর্ক সেখানেই আইন । আইন সম্পর্ককে পরিচালিত করে ।

৩. আইনের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা : তিনি বলেছেন , সমাজের সর্বত্র আইন এক নয় । কারণ সমাজের গঠন , মানুষের প্রকৃতি এবং আচরণ সর্বত্র এক নয় । এ বিভিন্নতাই আইনের বৈচিত্র্যের অন্যতম কারণ । মন্টেস্কু বলেছেন , বিভিন্ন জড়বাদী পরিবেশ আইনের মূলনীতি স্থির করে । এটিই তাঁর আইনের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হিসেবে মনে করা হয় । ৪. আইনের প্রকারভেদ : মন্টেস্কু তিন প্রকার আইনের কথা বলেছেন । যথা :

ক . আন্তর্জাতিক আইন : বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক এ আইন দ্বারা স্থির হয় ।

খ . রাজনৈতিক আইন : একটা বিশেষ সমাজের শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক এ আইন দ্বারা স্থিরীকৃত হয় ।

গ. পৌর আইন : এ আইন দ্বারা নাগরিকরা পরিচালিত হয় ।

৫. স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর ধারণা : মন্টেস্কু ছিলেন স্বাধীনতার একনিষ্ঠ ভক্ত । তিনি স্বাধীনতার প্রকৃতি বিশ্লেষণ শুরু করেছেন রাজনীতির স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে পার্থক্য টেনে , আইনের বিধান অনুযায়ী কাজ করাকে তিনি স্বাধীনতা বলেছেন । তাঁর মতে , ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য সংবিধানের প্রয়োজন নেই । তবে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংবিধানের প্রয়োজন রয়েছে ।

৬. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ : তিনি মানুষের স্বাধীনতা , এর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের জন্য সরকারি ক্ষমতাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন । এ তিনটি বিভাগ হলো – আইন বিভাগ , শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ । আইন বিভাগের কাজ আইন প্রণয়ন করা , শাসন বিভাগের কাজ কূটনীতিক ও সামরিক কার্যাদিসহ অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম পরিচালনা করা ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব হলো অপরাধীর শাস্তি বিধান ও বিরোধের মীমাংসা করা । ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসারে প্রতিটি কাজের দায়িত্ব থাকবে ভিন্ন বিভাগের উপর ।

৭. সরকারের শ্রেণীবিভাগ : তিনি সরকারকে প্রধানত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন । যথা : প্রজাতন্ত্র , রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র । কিন্তু প্রজাতন্ত্রকে আবার তিনি গণতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্র এ দু’ভাগে ভাগ করেছেন । তিনি প্রকৃতি ও নীতির উপর ভিত্তি করে সরকারের শ্রেণীবিভাগ করেছেন । তাঁর সরকারের শ্রেণীবিভাগের ধরন

ক . প্রজাতন্ত্র : এ ব্যবস্থায় সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতা জনসাধারণের হাতে ন্যস্ত থাকে ।

খ . রাজতন্ত্র : এ ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা মাত্র একজনের হাতে ন্যস্ত থাকে ।

গ . স্বৈরতন্ত্র : এ ব্যবস্থায়ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী থাকে একজন । তবে তিনি তা নির্ধারিত আইনের অনুসারী হয়ে প্রয়োগ করেন না , বরং তিনি এটা প্রয়োগ করেন নিজের খেয়ালখুশিমতো ।

৮. আমেরিকার সংবিধান ও মন্টেস্কু : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের রচয়িতারা মন্টেস্কুর ক্ষমতা বিভাজন নীতির দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন । মন্টেস্কুকে অনুসরণ করে তাঁরা ক্ষমতা বিভাজন নীতিকে সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত করেছেন ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , মন্টেস্কুর দর্শনের হয়ত কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল । তাই অষ্টাদশ শতাব্দীর রাষ্ট্রচিন্তাকে তিনি নিজের পক্ষে আনতে পারেন নি । কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে , তার রাষ্ট্রচিন্তা আধুনিকতার আলোয় উদ্ভাসিত । বিশেষ করে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পাথেয় হিসেবে কাজ করে । সম্ভবত এজন্যই বার্কি বলেছেন যে , “ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মন্টেস্কুর বিশেষ নীতি হলো ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি ।

প্রশ্ন ২০ স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেক্ষুর ধারণা আলোচনা কর ।
অথবা , আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর বক্তব্য বিশ্লেষণ কর । অথবা , আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেক্ষুর মতবাদ ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর ভূমিকা : ফরাসি জ্ঞানালোকের যুগে ( Age of Enlightenment ) যে সকল দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে রুশোর পরেই মন্টেস্কুর স্থান । মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এ দার্শনিক স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়াদি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন । তিনি তাঁর The Spirit of the Laws গ্রন্থে স্বাধীনতা সম্পর্কে বলেন , রাষ্ট্র ও ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক যখন ব্যক্তিকে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার অধিকার দেয় তখনই স্বাধীনতার সূচনা হয় । অর্থাৎ শুধু অধিকারই যথেষ্ট নয় , নিরাপত্তার সাথে সে অধিকার চর্চা করার সুযোগ ও সুবিধাই হলো স্বাধীনতা । তিনি মনে করতেন , স্বাধীনতার দুটি অপরিহার্য শর্ত হলো আইন ও ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ । আইন স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় আর ক্ষমতা স্বতন্ত্রকরণ অন্যের হস্তক্ষেপ নিবারণ করে । এভাবেই স্বাধীনতা রক্ষিত হয় । ইতিহাসে মন্টেস্কু এমতামতের জন্য সর্বজনের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন ।

স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর ধারণা : স্বাধীনতা সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রচার করে তিনি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন । মন্টেস্কুর মতে , ব্যাপক অর্থে মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকার রয়েছে , তখন তার স্বাধীনতা আছে বলে ধরে নেয়া হয় । কিন্তু তিনি বলেছেন আইনের বিধান অনুযায়ী কাজ করাকে স্বাধীনতা বলে । তিনি ইংল্যান্ডের জনগণের স্বাধীনতা দেখে মাতৃভূমির জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতি মনোযোগী হন ।

স্বাধীনতার শ্রেণীবিভাগ : মন্টেস্কু স্বাধীনতাকে দু’ভাগে ভাগ করেন । যথা :

১. রাজনৈতিক স্বাধীনতা : মন্টেস্কু মনে করেন যে , রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংবিধান থেকে আসে । আইন অনুযায়ী যা করার অধিকার আছে এবং যখন সে নিরাপত্তার সাথে তা সম্পন্ন করতে পারে তখন সে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে । প্রকৃত আইন জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে ।

২. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা : মানুষের সাথে মানুষের যে সম্পর্ক বিরাজ করে তা থেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্ম হয় । এটি দাসপ্রথার বিরোধী । ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য সংবিধানের কোন প্রয়োজন নেই । ব্যক্তির আচার আচরণ ইত্যাদির উপর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নির্ভর করে । একমাত্র সংবিধানের মাধ্যমেই জাতীয় আইন প্রণয়ন করা সম্ভব ।

সমালোচনা : মন্টেস্কু প্রদত্ত আইন ও স্বাধীনতার ধারণা বিভিন্নভাবে সমালোচনার সম্মুখীন হয় । আবার অনেকে তাঁর পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন । সেবাইন বলেছেন , “ মন্টেস্কুর আইনের সংজ্ঞার মধ্যে অস্পষ্টতা বিদ্যমান এবং এ অস্পষ্টতা দূর করার জন্য তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি । ” অন্যদিকে , স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয় , তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন । তবে মন্টেস্কুর আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে দেয়া মতবাদ বর্তমানে আধুনিক রাষ্ট্রে প্রতিফলন দেখা যায় ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , মন্টেস্কু তাঁর “ The Spirit of Laws ‘ গ্রন্থে আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে যে ধারণা দিয়ে গেছেন তা আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে অন্যতম স্থান দখল করে আছে । Dunning বলেছেন , আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর ধারণা কতখানি ত্রুটিহীন সে ষয়ে না গিয়ে একথা বলা চলে যে , তিনি আইনকে স্বৈরচারিতা ও খামখেয়ালির হাত থেকে মুক্ত করতে পেরেছেন । এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ধরনের কৃতিত্ব ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!