ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায়সমূহ আলোচনা কর ।

প্রশ্নঃ দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায়সমূহ আলোচনা কর ।

উত্তরা ভূমিকা : দাবিদা বাংলাদেশের একটি সরাবহ সামাজিক সমস্যা । এ সমস্যার ফলে কেবলমাত্র মানুষের মৌল চাহিদা পূরণ এবং মাত ও সামাজিক জীবনে বহু সমস্যা দেখা দিচ্ছে । অন্যভাবে বলা যায় , দারিদ্র্য নিজেই একটি সমস্যা নয় , বরং একই সাথে অন্যান্য বহু সমস্যার জন্মদাতা । সে কারণে যত দ্রুত সম্ভব দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় নিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।

১. প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার : আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ ও তার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে , যার আবিষ্কার , আরবণ ও পূর্ণ ব্যবহার আজওরা যদি এসব নিজ সম্পদকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আহরণ করি , তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্র সজল হবে এবং কিছুটা হলেও পরিদ্রতা লাঘব হবে ।

২. জন সংখ্যা নয়ন্ত্রণঃ জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বাংলাদেশের দারিদ্র্যের অন্যতম রোধকল্পে প্রচলিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সুবিবার পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ।

৩. জনশক্তিঃ জনশক্তি ও উন্নয়ন বাংলাদেশের দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বেকারত্ব । এদেশের বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে বেকার হয়ে আছে । এদের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদেরকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করা যায় । এদের কর্মসংস্থান হলেই দেশের দারিদ্র্য কমবে ।

৪. শিক্ষার উন্নয়ন : শিক্ষিত জাতি সচেতন ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী । চাহিদার সাথে সামন্তস্য রেখে পরিবেশ সৃষ্টি করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব । আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে জনগণের সং অদৃষ্টবাদিতা দূর করে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির অনুসারী করে তোলা যায় । বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে সম্পদে পরিণত করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় , যা দারিদ্র্য হ্রাসের সহায়ক হবে ।

৫. যোগাযোগ , যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নঃ সুষ্ঠু যোগাযোগ , যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবসায় বাণিতা , বাজারণ , দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করা সম্ভব নয় । বস্তুত পরিবহন , যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এদেশে নাহিদ লাঘব করা সব ।

৬. সম্পদের সুষম বণ্টন : যে কোন কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নীতিমালা অনুসারে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের সম্পদ ও আয়ের বৈষম্য হ্রাস করা হলে দেশের ৯০ % মানুষের দারিদ্র্য লাঘব হবে । এমনকি আমাদের দেশে এভাবেও দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব ।

৭. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : বাংলাদেশে দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলা তথা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে । কেননা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি ।

৮. কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন : বাংলাদেশের জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান খাত হচ্ছে কৃষি । ২০১০-২০১১ অর্থবছরে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ছিল ১৯.৯৫ শতাংশ । কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন বলতে বুঝায় লাগসই বীজ , উন্নত রাসায়নিক সার ও পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা গ্রহণ । তাছাড়া আমাদের দেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর । কাজেই এদেশের অর্থনীতিতে উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে এবং এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে । গ্রামবাংলায় খাদ্য ঘাটতি পূরণ হবে এবং এতে করে দারিদ্র্যের চাপ বহুলাংশে কমে যাবে ।

৯. নারীদের কর্মসংস্থান : ২০১১ সালের পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০০.৩ জন পুরুষের ক্ষেত্রে ১০০ জন নারী । অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায় , আমাদের দেশের জনসংখ্যার এক বিরাট অংশই হলো নারী । কিন্তু তাদের অধিকাংশই কোন উৎপাদনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত নয় । তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা , বিশেষ করে গৃহকর্মের অবসরে ঘরে বসেই করা যায় । তেমনি অর্থকরী কাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কাজের ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারের অসচ্ছলতা দূর হবে ।

১০. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা : বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরেকটি অন্যতম প্রতিবন্ধক এবং দরিদ্রতা প্রসারের প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ । দারিদ্র্য কবলিত এদেশে প্রতি বছর এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যায় । এজন্য বনায়ন , বন্যা নিয়ন্ত্রণ , নদীর নাব্যতা হ্রাস , পানি সেচ ব্যবস্থা , গণ আশ্রয় কেন্দ্র , খাল খনন প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে । না হয় এদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে ফসলের ক্ষতি ও অসংখ্য মানুষকে দরিদ্রতার কবল থেকে মুক্ত করা যাবে না ।

১১. গ্রামীণ উন্নয়ন : বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে তথা জাতীয় উন্নয়নে চাই গ্রামীণ উন্নয়ন । কেননা এদেশের শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে । অতএব সকল গ্রামে শিক্ষা , স্বাস্থ্য , চিত্তবিনোদন , অবকাঠামোগত উন্নয়ন , কর্মসংস্থান সৃষ্টি , কৃষি উন্নয়ন , ভূমি সংস্কার প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব ।

১২. বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস : প্রতিটি দেশকেই বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হয় বৈদেশিক সাহায্যের ভিত্তিতে । আমাদের দেশেও উন্নয়ন পরিকল্পনার ৬০ % অর্থ বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর । তাই এ বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণও এর উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে , আদর্শ ও বাস্তবতার দিক দিয়ে দারিদ্র্য হ্রাসের উপযুক্ত নীতি হচ্ছে বর্তমানের দাবি যথাসম্ভব পূরণ করে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ পাকাপোক্ত করা । এজন্য সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের পাশাপাশি সকল জনগণকেও সচেতন হতে হবে । জনগণ যদি নিজের আত্মোন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে তাহলে সফলতা না এসে উপায় থাকবে না ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!