উৎস : ব্যাখ্যেয় অংশটুকু খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বিরচিত ‘নয়নচারা’ শীর্ষক ছোটগল্প থেকে চয়ন
প্রসঙ্গ : এখানে শহরের একটি আধুনিকা যুবতীর চুলের তুলনা করা হয়েছে নয়নচারা গ্রামের মেয়ে ঝিরার মাথার চুলের সাথে।
বিশ্লেষণ : ময়ূরাক্ষী নদী তীরের নয়নচারা গ্রাম থেকে একদল বানভাসি মানুষ বাঁচার তাগিদে শহরে এসেছে। কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছে শহরের ফুটপাতে। খোলা আকাশের ছাদের নিচে তারা রাত কাটায়। সারাদিন খাবারের জন্য এরা শহরের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষার আশায় ঘোরে। কিন্তু ভিক্ষা মেলে না। দুপুরে লঙ্গরখানা থেকে যে দুটি খাবার তাদের দেওয়া হয় তাতে পেট ভরে না। এদের একজন আমু রাতের বেলায় নিদ্রাহীন চোখে শহরের মানুষগুলোর দুর্ব্যবহারের কথা ভেবে কষ্ট পায়। দিনের বেলা ভিক্ষা করতে গিয়ে আমু এক শহুরে যুবতীকে দেখে বিস্মিত হয়। লাল রঙের রক্ত ঝল্‌কানো শাড়ি পরা মেয়েটির গলার নিচটা ধধবে সাদা। এত সাদা যে মুগ্ধ আমুর মনটা তার স্পর্শ পাবার জন্য উতলা হয়ে ওঠে। মেয়েটি হঠাৎ দুটি পয়সা দিয়ে রক্ত ঝল্‌কিয়ে চলে যায়। আমু মেয়েটির মাথার চুল দেখে চোখ ফেরাতে পারে না। তার মনে হয় ওই চুল ওর নিজের না; ওই চুল নয়নচারা গ্রামের ঝিরার মাথার চুল। ভিক্ষা না পাওয়া ভুভ্নি কাছে এলে আমু তার কাছে ঘটনাটা বলে। সে বলে, একটা
মজা হয়েছে কি জানিস? কোত্থেকে একটা মেয়ে রক্ত ছিটাতে ছিটাতে এসে আমাকে দুটি পয়সা দিয়ে চলে গেল। তার মাথায় আমাদের ঝিরার মাথার চুল। নয়নচারার ঝিরার মাথার চুল যেমনি ঘন তেমনি কালো। আমু শহরের লাল শাড়িপরা মেয়েটির মাথার চুলকে নয়নচারা গ্রামের ঝিরার মাথার চুলের সাথে তুলনা করেছে।
মন্তব্য : আমুর ধারণা ঝিরার মাথা ছাড়া এমন ঘন ও কালো চুল শহরের মেয়েদের মাথায় থাকতে পারে না।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!