ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

গ্রিসে এথেন্সের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর ।

অথবা , গ্রিসে এখেলের সমাজব্যবস্থায় ধারণা দাও ।

অথবা , গ্রিসে এথেলের সমাজব্যবস্থার কাঠামো বর্ণনা কর । অথবা , গ্রিসে এখেলের সমাজব্যবস্থার পরিচিতি দাও ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনের ইতিহাসে প্রাচীন গ্রিসের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমান সমাজ ও সভ্যতার উৎপত্তি , ভিত্তি ও বিকাশ জানতে হলে প্রাচীন গ্রিসের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন । গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হলেও এগুলোর সামাজিক স্তর বিন্যাস বা বিভাজন ছিল প্রায় অভিন্ন । সামাজিক শ্রেণীগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকলেও প্রকৃতিগত পার্থক্য তেমন ছিল না ।

এথেলের সমাজব্যবস্থা : এথেন্সের সমাজব্যবস্থা তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল । এ তিনটি শ্রেণী রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ছিল । নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :

১. নাগরিকগণ : এথেন্সের জনসমাজের সর্বোচ্চ স্তরে ছিল নাগরিকগণ অর্থাৎ যারা নগরের সদস্য হওয়ার এবং নগরের রাজনীতিতে যারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারত । নাগরিক হওয়ার সুযোগ তারা জন্মসূত্রেই লাভ করতো । কারণ তাদের পিতামাতা যে নগরের নাগরিক সন্তানগণও সে নগরের নাগরিক বলে গণ্য হতো । নাগরিকতার অর্থই হলো নগরের সদস্যপদ লাভ । নগরের সদস্যপদ লাভের ন্যূনতম কাজ হলো শহরের সভায় উপস্থিত থাকা । এ নাগরিকগণ আবার দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল । যথা : নোবলস এবং কমন্স । নোবলসরা নিজেদের উচ্চ বংশীয় বলে মনে করত এবং রাষ্ট্র শাসনের ভার তাদের উপরই ছিল । এরা সামাজিক , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করতো ।

২. মেটিক্স বা বিদেশিগণ : প্রাচীন গ্রিসের সমাজব্যবস্থায় দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে মেটিক্স্ বা বিদেশিগণ । এরা দাসদের উপরের স্তরের । এথেন্সের মতো বাণিজ্য প্রধান নগরে তাদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি । দাসদের মতো বিদেশিদেরও নগরের রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ ছিল না । তবে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করত ।

৩. দাস ( Slave ) : সমাজের সর্বনিম্নস্তরে ছিল দাসগণ । এ দাসদের সংখ্যা ছিল প্রায় এক – তৃতীয়াংশ । দাস প্রথা প্রাচীন গ্রিসে সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল । দাসগণ সমাজের কোন প্রকার সামাজিক বা রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করত না । সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণার্থে এথেন্সের জনগণ কোন প্রকার প্রচেষ্টা চালায় নি , বরং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য তারা দাসপ্রথাকে অপরিহার্য মনে করত ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , প্রাচীন গ্রিসের দুটি নগররাষ্ট্রের মধ্যে এথেন্সের সমাজব্যবস্থা ছিল মূলত পাস নির্ভর । অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে অতিমাত্রায় দাস নির্ভর ছিল । তাদের প্রয়োজনীয় সকল কাজ দাসদের মাধ্যমেই সম্পাদিত হতো । মূলত দাস ব্যবস্থা ছিল সর্বজনীন ও সমাজ ব্যবহার অবিচ্ছেদ অংশ । যার বেশি সংখ্যক দাস ছিল সে সমাজে বেশি সম্মানিত বলে বিবেচিত হতো ।

প্রশ্ন ॥ গ্রিসের স্পার্টার সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর ।

অথবা , গ্রিসের স্পার্টার সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দাও ।

অথবা , গ্রিসের স্পার্টার সমাজব্যবস্থা বর্ণনা কর ।

অথবা , গ্রিসের স্পার্টার সমাজব্যবস্থা কাঠামো বর্ণনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্পার্টা ছিল সবচেয়ে উন্নত ও সুন্দর । এর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামো তৎকালে চিন্তাবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল । প্লেটো , এরিস্টটল ও অন্যান্য দার্শনিক স্পার্টার রাষ্ট্রব্যবস্থা , সমাজব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন তাদের রচনায় এ সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায় । নিম্নে স্পার্টার সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :

স্পার্টারের সমাজব্যবস্থা : এথেন্সের ন্যায় স্পার্টাও প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নগররাষ্ট্র । এ রাষ্ট্রেও তিন শ্রেণীর লোক বাস করতো । নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :

১. ডোরিয়ান ( Dorian ) : ডোরিয়ান বংশোদ্ভূত লোকেরা ছিলেন স্পার্টার সর্বোত্তম শ্রেণীর লোক । তারা ভূসম্পত্তি রাখতে পারলেও কোন ব্যবসায় বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারতেন না । প্রকৃতপক্ষে তারাই ছিল স্পার্টার যথার্থ নাগরিক । শৈশবকাল থেকে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু হতো এবং পরিণত বয়স পর্যন্ত চলতো । তরুণ বয়সে তারা দেশের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকতেন এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যখন তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিপূর্ণতা আসত তখন তাদেরকে দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করা হতো । তারপর তারা দেশ শাসন করতেন , পাশাপাশি তারা জ্ঞানেরও চর্চা করতেন ।

২. পেরিঅয়কয় ( Perioikoi ) : দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকদেরকে বলা হতো পিরিঅয়কয় বা মধ্যবিত্তশ্রেণী । এরা ছিল প্রধানত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী । এদের সামাজিক অধিকার ছিল বটে কিন্তু কোন রাজনৈতিক অধিকার ছিল না ।

৩. হেলটস ( Helots ) : স্পার্টার সর্বনিম্ন শ্রেণীর লোকদেরকে হেলটস বলা হতো । তারা ছিল মূলত দাসশ্রেণীভুক্ত । কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রভু শ্রেণীর সেবা করাই ছিল তাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য । রাজনৈতিক জীবনে তাদের কোন অধিকার ছিল না ; এমনকি সামাজিক জীবনেও তারা ছিল অবহেলিত ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় . গ্রিসের স্পার্টাতে তিনটি শ্রেণীর অস্তিত্ব পাওয়া যায় । এদের মধ্যে ডোরিয়ান বংশোদ্ভূত লোকেরা ছিলেন স্পার্টার সর্বোত্তম শ্রেণীর লোক । মূলত এদের উপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনের চালনার পাশাপাশি দেশের কলও আচরণে ও বাস্ত থাকত ।

প্রশ্ন ॥ প্লেটোর দার্শনিক রাজার উৎস আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর দার্শনিক রাজার শাসন আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর দার্শনিক রাজার প্রকৃতি আলোচনা কর ।

অথবা , প্লেটোর দার্শনিক রাজার তাৎপর্য আলোচনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর রাষ্ট্রচিন্তার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা , যার শাসক হবেন তাঁর শিক্ষাগুরু সক্রেটিসের ন্যায় জ্ঞানী । সমসাময়িক কালের রাষ্ট্র নায়কদের অশিক্ষাকেই তিনি নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনৈক্য , বিশৃঙ্খলা , যুদ্ধবিগ্রহ এবং পতনের জন্য দায়ী বলে মনে করতেন । এ কারণেই তিনি তাঁর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্য , সংহতি , শান্তি , প্রগতি ও উন্নয়ন ঘটাতে এমন একজন শাসক সৃষ্টি করতে চেয়েছেন যিনি হবেন পরম জ্ঞানী । তিনি তার দর্শনের জ্ঞান ও সত্যের আলোকে আইন তৈরি করবেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন ।

দার্শনিক রাজার উৎস : প্লেটো প্রদর্শিত দার্শনিক রাজার শাসন সক্রেটিসের ‘ সৎ গুণই জ্ঞান ‘ এ নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত । এর ‘ অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো , যে ব্যক্তি প্রকৃত ও পূর্ণ জ্ঞানের সন্ধান পেয়েছেন , তিনি জানেন যথার্থ সততা বা পুণ্য কি ? প্লেটোর মতে , “ যিনি দার্শনিক , কেবল তিনি এসব জ্ঞানের অধিকারী । ” তাছাড়া আদর্শ রাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোত্তম নাগরিক ও সর্বোত্তম মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । সুতরাং কোন রাষ্ট্রের যথার্থ আদর্শ রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে হলে শাসনের ভার দার্শনিক শাসকের হাতে অর্পণ করা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই । অধ্যাপক সেবাইন বলেছেন , “ যারা সত্যিকার জ্ঞানী অর্থাৎ যারা জানেন যে , আদর্শ রাষ্ট্রের প্রয়োজন কি এবং কোন পদ্ধতিতে শিক্ষা দান করলে এ প্রয়োজন মিটানোর উপযোগী নাগরিক গঠন করা যায় তাদের হাতে শাসনের ক্ষমতা ন্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের পরিত্রাণের কোন আশাই নেই ।

প্লেটোর দার্শনিক রাজা : বিষয়ভিত্তিক সঠিক ও সুনির্দিষ্ট বিষয়াবলি নির্ধারণের মাধ্যমে প্লেটো শিক্ষাতত্ত্বকে প্রাথমিক ও উচ্চ পর্যায় এ দু’ভাগে ভাগ করেছেন । উভয় পর্যায় থেকে যারা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হবেন , তাদেরকে তার পরিকল্পিত আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে অভিভাবক শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন । অভিভাবক শ্রেণীর সবচেয়ে যোগ্য ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে দার্শনিক রাজা বলে আখ্যায়িত করেছেন ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , সামগ্রিকভাবে প্লেটোর চিন্তাধারা ও দর্শনের পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে , তাঁর সমসাময়িক কালের অপরাপর দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাব পড়েছে তাঁর উপর । আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজা সকল আইনের ঊর্ধ্বে । প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনায় দার্শনিক রাজাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন । দার্শনিক রাজা তার প্রজ্ঞা দ্বারা রাষ্ট্র শাসন করার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ ক্ষমতাশালী হবেন ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!