ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079

কৃষির উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা কর ।

প্রশ্নঃ কৃষির উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা কর ।

উত্তর ৷ ভূমিকা : কৃষির উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব অনস্বীকার্য । বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গঠন করলে কৃষি জাত পণ্যের চাহিদা বাড়বে । শিল্পায়ন হলে কৃষি ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদনের জন্য কর্মসংস্থান বাড়বে । কৃষির উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব : কৃষির উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব অনেক । নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :

১. বৃহদায়তন খামার : এদেশে কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে হলে ছোট ছোট জোতগুলোকে ভেঙে বৃহদায়তন খামারে পরিণত করতে হবে । এসব বৃহদায়তন খামারগুলোতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে বিপুল পরিমাণ কৃষি শ্রমিক বেকার হবে । এসব বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে ব্যাপকভাবে শিল্প স্থাপন করতে হবে । সুতরাং বলা যায় শিল্পোন্নয়ন ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব নয় ।

২. কৃষির অগ্রগতি : বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের চেয়ে কৃষির অগ্রগতির হার কম । কারণ কৃষি উন্নয়ন কৃষক এবং কৃষি ভূমি এ দু’য়ের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে । এ দুটির উন্নয়ন দেশের সমস্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমির সাথে অঙ্গীভূত । সুতরাং কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে দেশের সামাজিক পটভূমির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করা প্রয়োজন ।

৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ : এদেশের কৃষি সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল । প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা মাঝে মাঝে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় । কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে তেমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই । তাই শিল্পকে বাদ দিয়ে শুধু কৃষির উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক ।

৪. কৃষি যান্ত্রিকীকরণ : কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কোন বিকল্প নেই । কৃষিকাজে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করার ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায় । কিন্তু শিল্পোন্নয়ন ছাড়া কৃষি আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক সার প্রভৃতি উৎপাদন করা অসম্ভব ।

৫. কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ : কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বাজারজাত করা হলে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ে । এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয় । সুতরাং শিল্পপ্রতিষ্ঠা ছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাত সম্ভব নয় ।

৬. কর্মসংস্থানের সুযোগ : এদেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে এবং এর প্রভাব কৃষিক্ষেত্রেও পড়ছে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ প্রভাব রোধ করতে হলে দেশে দ্রুত শিল্পায়ন অপরিহার্য । দেশে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পেলে এ বাড়তি জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এবং তা কৃষির জন্য মঙ্গলজনক হবে ।

৭. কৃষিক্ষেত্রে ত্রাসমান বিধি : বাংলাদেশে কৃষির তুলনায় শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা অনেক দূর প্রসারিত হয়েছে । কৃষিক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন বিধি প্রযোজ্য । আধুনিক চাষাবাদের দ্বারা এ বিধির কার্যকারিতা স্বল্পকালের জন্য রোধ করা সম্ভব হলেও এর খণ্ডন করা যায় না । কিন্তু শিল্পের ক্ষেত্রে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না ।

৮. কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ : এদেশের কৃষির উন্নতি কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল । কৃষিপণ্য সুষ্ঠু বাজার না পেলে পণ্যের বাজার মূল্য কমে যায় তাতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ফলে কৃষি উন্নয়ন ব্যাহত হয় । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় , কাঁচা পাট যদি শিল্পে ব্যবহারের নিশ্চয়তা না পায় তবে পাটের বাজার মূল্য ও চাহিদা উভয়ই কমে যায় । তাই কৃষিজাত পণ্যের চাহিদা ও বাজার মূল্য বৃদ্ধির জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন । সুতরাং বলা যায় , কৃষিভিত্তিক শিল্প কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করে কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে ।

৯. বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার : শিল্পোন্নয়ন না হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য শুধুমাত্র কৃষিপণ্যের উপর নির্ভরশীল থাকে । বিদেশের বাজারে কৃষিপণ্যের দাম উঠানামা করায় সবসময় ভালো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে । পক্ষান্তরে , শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা যদি শিল্পজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারি তাহলে বৈদেশিক বাণিজ্যে আমাদের এ রকম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হতে হবে না ।

১০. কৃষি উৎপাদন অধিক হারে বাড়ানো : বর্তমানে দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে । কিন্তু এক পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন আরো বাড়ানো ব্যয়বহুল হবে । কারণ ঐ স্তরে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা এলাকাকে চাষের অধীনে আনয়নের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে । এসব প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য যে ব্যয়ের প্রয়োজন হবে তাতে ঐ স্তরের কৃষির চেয়ে শিল্পের আপেক্ষিক সুবিধা বেশি হবে । ফলে কৃষির চেয়ে শিল্পে বিনিয়োগ অধিকতর লাভজনক হবে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে , কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেই কেবল কৃষির উপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতিকে উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় । আবার শুধুমাত্র শিল্পোন্নয়ন দ্বারা আমাদের জাতীয় আয়ের দ্রুত বৃদ্ধি সম্ভব নয় । তাই কৃষির সাথে সাথে শিল্পেরও গুরুত্ব দেয়া উচিত । মূলত কৃষি ও শিল্প একে অপরের উপর নির্ভরশীল । যেমন- কৃষি ছাড়া শিল্পোন্নয়ন সম্ভব নয় , তেমনি শিল্প ছাড়া কৃষির উন্নয়নও দ্রুততর হয় না । তবে দেশের দীর্ঘকালীন উন্নয়নের কথা চিন্তা করলে কৃষির তুলনায় শিল্পকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত । তাছাড়া ভূমির স্বল্পতা , কৃষি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও শ্রমের সহজলভ্যতার কারণে শ্রম প্রগাঢ় শিল্প প্রসারে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!