ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

একজন সুফির সামাজিক জীবন কেমন হবে? সমাজে বাস করা ও সুফি হওয়ার মধ্যে কোন বিরোধ আছে কী?

অথবা, সুফির সামাজিক আচরণ কেমন হবে? সমাজে বাস করা ও সুফি হওয়ার মধ্যে কোন বিরোধ আছে কী?
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মরমিবাদ মুসলিম দর্শনে সুফিবাদ নামে খ্যাত। সুফিবাদ সমাজের প্রতিটি স্তরে কিছুসংখ্যক লোকের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। এ মতবাদ ইসলাম ধর্মের ‘বাতেনি’ দিকের পরিচায়ক। মুসলিম জাতির চিন্তাধারায় একজন সুফির শিক্ষা কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুফিবাদ অনুসারে আল্লাহ প্রেমময়, তিনি আমাদের প্রেমাস্পদ। আল্লাহর প্রেম লাভই মানবজীবনের পরম সম্পদ। সুতরাং আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার শূন্যতা সুফিবাদ পূর্ণ করেছে।
একজন সুফির সামাজিক জীবন : মানুষ সামাজিক জীব। স্বাভাবতই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে। মহামতি এরিস্টটলের মতে, যে সমাজে বাস করে না সে হয় (পাগল) অপ্রকৃতিস্থ না হয় অতি জাগতিক কোন সত্তা। একজন মানুষ হিসেবে সুফি সমাজের বাইরের কোন সত্তা নয়। তিনি সমাজেই বাস করেন। আর তাই সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেও তিনি সচেতন। কিন্তু তিনি সামাজিক রীতিনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। কেননা, লক্ষ্য এ নশ্বর পৃথিবীর নশ্বর জীবনযাপন নয়, বরং তার লক্ষ্য হলো আল্লাহময় হয়ে যাওয়া। তার পথ হলো আত্মশুদ্ধির কৃচ্ছ সাধনের। ভোগ তার উদ্দেশ্য নয়, বরং তিনি একে বর্জন করেন। সমাজে তাই তার অবস্থান ইহজাগতিক স্বার্থ ত্যাগকারী এবং তার পথ হলো আত্মবিনাশী।
প্রকৃত সুফির সামাজিক রীতি : সামাজিক এর বিপরীত শব্দ হলো অসামাজিক, যার মূল কথা হলো সমাজে বসবাস করেও সামাজিক দায়িত্ব পালন না করা। সুফিদের দৃষ্টিকোণ হতে বিচার করলে দেখা যায় যে, একজন প্রকৃত সুফি অসামাজিক নয়। তিনি সমাজবর্জিত জীবনযাপন করতে পারেন না। কেননা কুরআন ও হাদিসে এরূপ নির্দেশ নেই। একজন সুফি সমাজে বাস করে সামাজিক রীতিনীতি ও কাজকর্মে অংশগ্রহণ করেন। খানকাহ এ তিনি সারাজীবন কাটিয়ে দেন না। তবে সুফি শিক্ষণের অন্যতম একটি দিক হলো সমাজ ও পরিজন হতে সাময়িকভাবে আলাদা হয়ে একাকী বসবাস করা।
খালওয়াত বা নির্জন বাস : খালওয়াত বা নির্জন বাসের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Solitute. আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য সুফিকে সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুফি শিক্ষা সাধনা করতে হয়। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী বা সারাজীবনের জন্য নয়। সুফি শিক্ষার জন্য একজন সুফি পীরের কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। যিনি সুফি শিক্ষা করেন তিনি মুরিদ হিসেবে পরিচিত। সুফিদের মতে, সমাজে তিন ধরনের মানুষ বাস করেন। যথা :
১. সাপ-বিচ্ছুর মত : সমাজে এমনকিছু লোক বাস করে, যারা বাহ্যিকভাবে ভালো বলে মনে হলেও অভ্যন্তরীণ দিক দিয়ে ভালো নয়। Snake বা সাপ যেমন দেখতে সুন্দর কিন্তু তার প্রতিটি ছোবল বিষে (poison) ভরা। তেমনি এ ধরনের লোক সমাজে কেবল অনিষ্টই সাধন করে। এদের দ্বারা কোন প্রকার উপকার আশা করা যায় না।
২. ঘুমন্ত লোকের মত : সমাজে এমনকিছু লোক বাস করে তাদেরকে ঘুমন্ত লোকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এদের থেকে উপকার বা অপকার কোনকিছুই আশা করা যায় না। এ ধরনের লোক সামাজিক কোন কর্মকাণ্ডে কোন ভূমিকা বা প্রভাব রাখতে পারে না।
৩. ফেরেস্তার মত : এ ধরনের লোক সমাজে বসাবাসরত কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করে না। অর্থাৎ এ ধরনের লোকের কাছ হতে কোন প্রকার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তবে এ ধরনের লোকের সংখ্যা কম।
সুফির বৈশিষ্ট্য : একজন সুফি অবশ্যই প্রথম পর্যায়ের লোক হবে না। তবে অবশ্যই দ্বিতীয় শ্রেণির লোক হবে। কিন্তু তার Expectation বা আকাঙ্ক্ষা তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। তার সাধনা হবে এ শ্রেণিতে দাখিল হওয়া। তাই একজন সুফির সামাজিক মূলনীতি হবে অন্তত কাউকে উপকার না করতে পারলেও অপকার না করা। এ লক্ষ্যে সে দুটি সামাজিক নীতি মেনে চলবে। যথা :
১. ন্যায়বিচারের নীতি : শরিয়তে বলা হয়েছে যে, একজন ঈমানদার অন্য ঈমানদারের ক্ষতি করতে পারবে না। ন্যায়বিচার হলো To do what is due-is justice. যার যা পাওনা তাকে তা দেয়াই হলো ন্যায়বিচার। এটি এমন এক সামাজিক নীতি যা, সকলকেই মানতে হবে। একজন সুফি এ নীতিটি অবশ্যই মানবেন। তবে এটি একটি ‘আম’ বা সাধারণ শব্দ। এটি উচ্চস্তরের নীতি নয়।
২. পরোপকারের নীতি : পরোপকারের নীতি হলো এমন নীতি যা অপরের ক্ষতির কথাতো বলেই না, বরং উপকারের কথা বলে। তবে এটি ‘আম’ বা সর্বসাধারণের জন্য নয়। এটি অনুসরণ করতে পারলে উত্তম, তবে মানতেই হবে এমন নয়। এটি Highest good. তবে সুফি অবশ্যই এটি অর্জনে সচেষ্ট হবেন।
সুফি হওয়া ও সমাজে বাস করার মধ্যে বিরোধ আছে কী? : বস্তুত একজন সুফি পুরোদস্তুর সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করেই একজন সুফি তার শিক্ষাসমূহ বাস্তবায়ন করেন। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতার দ্বারা তিনি সীমাবদ্ধ নয় । মূলত একজন আদর্শ সামাজিক জীব সমাজের কাউকে ক্ষতি করতে পারেন না। তিনি কাউকে উপকার না করতে পারলেও অন্তত ক্ষতি করেন না। তাই একজন সুফি তার সামাজিক আদর্শ দ্বারা তার জীবনযাপন করে। তাই একজন সুফি হওয়া ও সমাজে বাস করার মধ্যে কোন বিরোধ থাকতে পারে না।
উপসংহার : পরিশেষে বলা চলে যে, মানুষ সামাজিক জীব। একজন সুফি সমাজে বাস করে। সমাজে বসবাসরত একজন সদস্য হিসেবে সে অব্যশই সামাজিক আচরণ করে। সুফি যেমন সমাজ হতে অনেক কিছু গ্রহণ করে তেমনি তাকে কিছু সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে তার কর্মপন্থা সাধারণ মানুষ হতে ব্যতিক্রম। নিম্নতম আদর্শ হিসেবে সুফি ন্যায়বিচারের নীতি গ্রহণ করে। আর উচ্চতর আদর্শ হিসেবে সে পরোপকারের নীতি গ্রহণ করে। এ থেকে সুফির সামাজিক জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্যের আভাষ পাওয়া যায়।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!