অথবা, ইউনিয়ন পরিষদের গঠন প্রকৃতি বর্ণনা কর।
অথবা, ইউনিয়ন পরিষদের গঠন প্রক্রিয়া লিখ।
অথবা, ইউনিয়ন পরিষদের গঠন বর্ণনা কর।
অথবা, ইউনিয়ন পরিষদের গঠন আলােচনা কর।
অথবা, ইউনিয়ন পরিষদের গঠন কাঠামাে উল্লেখ কর।
ভূমিকা :
গ্রামীণ পর্যায়ে দায়িত্বশীল স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গড়ে তােলার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। গ্রামীণ সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে পল্লির শ্রীবৃদ্ধি, গণচেতনা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ অনবদ্য ভূমিকার অধিকারী।

ইউনিয়ন পরিষদের গঠন : ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবরে প্রবর্তিত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত প্রতি ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হবে। ইউনিয়নের প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভােটে নির্বাচিত ১ জন চেয়ারম্যান, প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মােট ৯ জন সদস্য এবং তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে নয়টি ওয়ার্ড হতে ভােটারদের প্রত্যক্ষ ভােটে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত তিনজন মহিলা সদস্যসহ মােট ১৩ (তেরাে) জন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হবে। সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নকে নির্বাচিত নিয়মে নয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক ওয়ার্ড হতে একজন করে সদস্য, প্রতি তিন ওয়ার্ড হতে একজন করে। তিনজন মহিলা সদস্য এবং সমগ্র ইউনিয়নের ভােটারদের ভােটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকাল পাঁচ বছর। এই কার্যকালে পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক ভাতা পাবেন। পরিষদের কাজে সাহায্য করবার জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন সচিব কর্মরত থাকবেন। তাছাড়া শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়ােজনীয় সংখ্যক গ্রাম পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদের কাজে সাহায্য করবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পরিষদের কর্ম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিম্নে বর্ণিত স্থায়ী কমিটি গঠন করবে ।
ক অর্থ এবং সংস্থাপন;
গ, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য এবং মহামারী নিয়ন্ত্রণ ।
ঘ, নিরীক্ষা এবং হিসাবরক্ষণ ।
উ, কৃষি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক কর্ম।
চ, সামাজিক কল্যাণ এবং কমিউনিটি কেন্দ্র এবং
ছ, কুটিরশিল্প এবং সমবায়।

তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কমিটি গঠন করতে পারবে। প্রত্যেকটি স্থায়ী কমিটি তার সদস্য নির্বাচন করবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৫,৫৫৪ টি। জেলা প্রশাসক কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারিত হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলাে গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং সরকারের এজেন্সি হিসেবে গঠিত হয়েছে।

admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!