ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

অর্থনেতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন কার্যক্রম আলোচনা কর ।

[ad_1]

✍️অর্থনেতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন কার্যক্রম আলোচনা কর ।

উত্তর ভূমিকা : বাংলাদেশে অকৃষিখাতে বিনিয়োগ , উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প , মূলত বেসরকারি খাতে বিস্তৃত । বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন ( বিসিক ) বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করছে । এ লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক উদ্যোক্তাদেরকে বিভিন্ন সহায়ক সেবা ও সুযোগ সুবিধাদি প্রদান করা হচ্ছে । ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের কার্যক্রম : বিসিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় ২০১০-১১ অর্থবছরের জানুয়ারি ১১ পর্যন্ত দেশে স্থাপিত মোট ১,২৫০ টি ক্ষুদ্র শিল্প ও ২,৪৮৫ টি কুটির শিল্পে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে বিনিয়োগকৃত ১২৮.৪৫ কোটি টাকাসহ মোট ২৭১.০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে । উল্লিখিত বিনিয়োগের মধ্যে এককভাবে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাপই বেশি ।

এছাড়া এ বিনিয়োগের ২৪.২৮ শতাংশ ব্যাংক , বিসিক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সহায়তা এবং ২৮.৩৩ শতাংশ উদ্যোক্তাদের ইক্যুইটি । উল্লিখিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে মোট ৩০,৯৩৭ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে , যার একটি বড় অংশ হচ্ছে নারী । শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সারা দেশে অবস্থিত বিসিকের ৭৪ টি শিল্প নগরীতে জানুয়ারি ১১ পর্যন্ত ৫,৫১৪ টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ৯,৪৭৮ টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । গত ( ২০০৯-১০ ) পর্যন্ত স্থাপিত শিল্প ইউনিটসমূহে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১৪,১৯৯.৪৯ কোটি টাকা । গত অর্থবছরে এ সকল শিল্প কারখানাতে মোট ২৭,৩৬০.৫৪ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়েছিল , যার মধ্যে প্রায় ১৫,২০৩.৫৭ কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে । এ সময়ে এ সকল শিল্প কারখানা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ১,৮৪৯.১৮ কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে ।

২০১০-১১ অর্থবছরের জ্যানুয়ারি ১১ পর্যন্ত বিসিকের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট , নকশা কেন্দ্র , ১৫ টি নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্র , ৬৪ টি শিল্পকেন্দ্র এবং অন্যান্য কার্যালয় ও প্রকল্পের আওতায় ৫,১১৬ জন উদ্যোক্তা , কারিগর , ব্যবস্থাপক ও অনুরূপ পর্যায়ের লোককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে । ২০১০-১১ অর্থবছরে সমুদ্র তীরবর্তী কক্সবাজার চট্টগ্রাম , খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭০ হাজার একর জমি লবণ চাষের আওতায় আনা হয়েছে । এ সময়ে প্রায় ৪৫ হাজার জন লবণ চাষি , লবণ চাষের সাথে সরাসরি জড়িত হয়েছেন । ২০১০-১১ লবণ মৌসুমের ফেব্রুয়ারি ১১ – পর্যন্ত ২.৪০ মেট্রিক টন লৰণ উৎপাদিত হয়েছে এবং ২৬৭ টি লবণ মিলে সমসংখ্যক আয়োডিন মিশ্রণ প্লান্ট ( এসআইসি ) সরবরাহ করা হয়েছে ।

এছাড়া লবণ মিল মালিকগণ তাঁদের নিজস্ব বিনিয়োগে ৩৯ টি এসআইপি স্থাপন করেছেন । ঢাকা মহানগরীর হাজারিবাগের ট্যানারি শিল্পসমূহকে পরিবেশ বান্ধব স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাভার ও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর আয়তনের একটি চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন করা হয়েছে । এ শিল্প নগরীতে ২০৫ টি প্লান্ট ১৫৪ টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । এসব শিল্প কারখানায় প্রায় ১ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায় । ২০১১-১২ অর্থবছরে উক্ত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯৫.০০ কোটি টাকা ।

ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিসিকের উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন গজারিয়া উপজেলায় ২৩৩.৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০০ একক জমিতে ওষুধ শিল্প পার্ক স্থাপিত হচ্ছে । এ শিল্প পার্কে ৪২ টি ইউনিটে প্রায় ২৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে । প্রকল্পটির অনুকূলে ২০১১-১২ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০.০০ কোটি টাকা । বিসিক জামদানি শিল্প নগরীর আদলে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২৩৭.৭২ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১১ মেয়াদকালে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ বেনারসি পল্লি উন্নয়ন রংপুর ‘ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্চি শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ‘ বিসিক শতরঞ্চি শিল্প উন্নয়ন নিশবেতগঞ্জ , রংপুর ‘ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন উপর্যুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করছে ।

✍️বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্পোন্নয়নকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার কারণগুলো বর্ণনা কর ।

উত্তর : বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্পোন্নয়নকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার কারণগুলো নিম্নরূপ :

১. শিল্পের ক্ষেত্রে মূলধন গঠন ও মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ক্রমে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব । অর্থাৎ শিল্পের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী উপকরণ নেই । আমরা জানি কৃষির ক্ষেত্রে ভূমির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব নয় । কিন্তু শিল্পের ক্ষেত্রে সেরূপ কোন সীমাবদ্ধতা নেই । এ কারণেই সকল উন্নত দেশ শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে । ইংল্যান্ড ও জাপানের মতো স্বল্প ভূমিসম্পন্ন দেশেই শুধু নয় , যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল ভূমির অধিকারী দেশেও শিল্পোন্নয়নই ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলমন্ত্র ।

২. ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে না । ভূমির সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশকে খাদ্য আমদানি করতেই হবে এবং তার জন্য শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত ।

৩. শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদার আয় স্থিতিস্থাপকতা একের চেয়ে বেশি বিধায় ক্রমে শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে । উন্নয়নের জন্য এ বিস্তৃত বাজার সুযোগ গ্রহণ করা আবশ্যক । পক্ষান্তরে , কৃষিজাত দ্রব্যের আয় স্থিতিস্থাপকতা সাধারণত একের চেয়ে কম বিধায় কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত ।

৪. বাংলাদেশে ভূমি সম্পদ অতি সীমিত বিধায় কৃষিতে বাংলাদেশের আপেক্ষিক সুবিধা নেই । বরং বাংলাদেশে মানব সম্পদ প্রচুর বিধায় শ্রমনিবিড় শিল্পে বাংলাদেশের আপেক্ষিক সুবিধা আছে । তাই শিল্পোন্নয়নই হবে উন্নয়নের প্রধান উপায় ।

৫ . বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র দেশ বিধায় উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করতে হবে । আর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন শিল্পোন্নয়ন ।

৬ . উন্নত দেশগুলো ক্রমে জটিলতর প্রযুক্তির শিল্পে বিশেষায়ন করছে এবং সহজ প্রযুক্তির শিল্পক্ষেত্র নতুন শিল্পায়িত দেশগুলোর জন্য ছেড়ে দিচ্ছে । বাংলাদেশকে এ সুযোগ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে ।

উপসংহার : উপর্যুক্ত কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষি উন্নয়নের ও শিল্পোন্নয়ন উভয়ই যদিও উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হবে শিল্পোন্নয়ন । কৃষি প্রদান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের অবকাশ নেই বরং বাংলাদেশকে একটি শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে । এদেশের বিকাশ জনসংখ্যা মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি একমাত্র উপায় শিল্পোন্নয় । বাংলাদেশে আশির দশকে সার – সেচ – বীজ প্রযুক্তির প্রয়োগে কৃষি উন্নয়নের বা উৎপাদনে যে দর্শনীয় প্রবৃদ্ধি ঘটেছিল তা ইতোমধ্যে স্তিমিত হয়ে এসেছে । সীমিত ভূমির কারণে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে । অতএব অদূর ভবিষ্যতে শিল্পোন্নয়ই হবে বাংলাদেশের আয় বৃদ্ধির একমাত্র উপায় ।

বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের কৌশল হিসেবে বেসরকারিকরণ নীতির পক্ষে যুক্তি দাও ।

উত্তর ভূমিকা : ১৯৭৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের কৌশল হিসেবে বেসরকারিকরণ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে । ফলে ক্রমে পুঁজি প্রত্যাহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় খাতকে সংকুচিত করে বেসরকারি খাতের অগ্রণী ভূমিকার মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে । বেসরকারিকরণ নীতির পক্ষে যুক্তি : শিল্পখাতের এই বেসরকারিকরণ নীতির পক্ষে প্রধান যুক্তিগুলো নিয়ে বর্ণনা করা হলো ।

. রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা : বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় সবকটি নিয়মিত বছরের পর বছর লোকসান দিয়েছে । ফলে সম্প্রতি প্রতি বছর সরকারকে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৭ শত কোটি টাকা লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে । রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর এ অচল অবস্থা মারাত্মক অদক্ষতার পরিচয় বহন করে । অতএব রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরাষ্ট্রীয়করণ ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগে শিল্পোন্নয়ন যুক্তিযুক্ত মনে করা হয় ।

২. রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে আপেক্ষিক সুবিধার অভাব : রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অর্থনীতির আপেক্ষিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না । ফলে এগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না । পক্ষান্তরে , বেসরকারি খাতে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান আপেক্ষিক সুবিধার ভিত্তিতে স্থাপিত হয় । যেমন – বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার পর দ্রুত তৈরি পোশাক শিল্পে প্রসার লাভ করছে । বাংলাদেশে সস্তা মহিলা শ্রমিক পাওয়া যায় বলে পোশাক শিল্পের আপেক্ষিক সুবিধা আছে । তাই আন্তর্জাতিক বাজারে এ শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ।

৩. রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত লোকবল : বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা ও লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ মাত্রাতিরিক্ত লোকবল । এগুলোতে শ্রমিকের তুলনায় দাপ্তরিক কর্মচারীর সংখ্যা বেশি । ফলে এ বিরাট বছরের বেতন দিতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় । পক্ষান্তরে , বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে অনেক কম লোকবল ব্যবহার করা হয় । তাই আশা করা যায় যে বেসরকারি খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক দক্ষ হবে ।

৪. ব্যক্তি উদ্যোক্তার গতিশীলতা : ব্যক্তি উদ্যোক্তার যে উদ্যোগ নিপুণতা ও গতিশীলতা থাকে তা একজন সরকারি আমলার ক্ষেত্রে সাধারণত আশা করা যায় না । তাই বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা হলে শিল্পোন্নয়ন দ্রুত হবে বলে আশা করা যায় ।

৫. আমদানি বিকল্পনের পরিবর্তে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন : বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত আমদানি বিকল্পন নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । পক্ষান্তরে , বেসরকারি খাতে সাধারণত রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে । সম্প্রতি পূর্ব এশীয় কিছু দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের ফলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে । অতএব বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন হলে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার আশা করা যায় ।

৬. সরকারি চাকরিজীবীদের মানসিকতা : সরকারি চাকরিজীবীদের মন – মানসিকতা ব্যবসার জন্য উপযুক্ত নয় । ব্যবসায় জগতে শুধু দক্ষতার ভিত্তিতে একজন টিকে থাকতে পারে । কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের চাকরি ও পদোন্নতি দক্ষতার উপর ততটা নির্ভরশীল নয় । তাদের চাকরির নিশ্চয়তা অদক্ষার জন্ম দেয় । পক্ষান্তরে বেসরকারি খাতে প্রতি মুহূর্তে দক্ষতা দেখিয়ে চাকরি বজায় রাখতে হয় । তাই বেসরকারি খাতে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন আশা করা যায় ।

৭. রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ : রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকার অহরহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য হস্তক্ষেপ করে থাকে । বাংলাদেশে দেখা গেছে রাষ্ট্রীয় খাতে সরকার শ্রমিকদের বেতন স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে । কিন্তু এ ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক দক্ষতার পরিপন্থী হয়ে থাকে । পক্ষান্তরে , ব্যক্তি খাতে শিল্পে প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাভক্ষতির নিরীখে শ্রমিকের সংখ্যা , বেতনভাতা ইত্যাদি নির্ণীত হয় । অতএব ব্যক্তি খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বেশি থাকে ।

৮. সমাজদর্শন : বাংলাদেশে কোন সময়ই সমাজতন্ত্রের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয় নি । বরং এদেশে নব্বই – এর দশকের প্রথম দিকে সকল বড় রাজনৈতিক দল মুক্ত বাজার অর্থনীতির ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করেছে । অতএব রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সংকোচন এবং বেসরকারিকরণ এদেশের সমাজদর্শনের সাথে সংগতিপূর্ণ ।

উপসংহার : বাংলাদেশে শিল্পখাতের বেসরকারিকরণের পক্ষে প্রধান যুক্তিগুলো উপরে বর্ণনা করা হলো । আশা করা যাচ্ছে যে উপযুক্ত কারণে বেসরকারিকরণের ফলে শিল্পখাতের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ।

[ad_2]

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!