ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।

অথবা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের কোন কোন বৈশিষ্ট্য রয়েছে?
অথবা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
অথবা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।
ভূমিকা :
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলতে একটি দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকার জনসাধারণের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত স্ব-স্ব এলাকার শাসনব্যবস্থাকে বুঝায়। কেন্দ্রীয় শাসনের নিম্নস্তরে গ্রাম ও শহর এলাকার নানাবিধ স্থানীয় সমস্যা থাকে। প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধি দ্বারা গঠিত স্থানীয় সংস্থা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সমস্যাবলি সমাধানকল্পে বহুবিধ কাজ সম্পাদন করে। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখযোগ্য। যথা :
১. নির্বাচিত প্রতিনিধি : স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার গঠিত হয়। কাজেই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের প্রতিনিধিদের শাসনব্যবস্থা।
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও জনসমষ্টি : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের একটা নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক জনসমষ্টি থাকে। কাজেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও জনসমষ্টি এর অন্য আর একটি বৈশিষ্ট্য।
৩. স্থায়ী সংগঠন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার একটা স্থায়ী সংগঠন। এটাকে সরকার ইচ্ছা করলেই বিলুপ্ত করতে পারে না।
৪. জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের আওতাধীন এলাকার জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা ও বাস্তবায়ন করা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. বিধিবদ্ধ সংস্থা : এটা একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এর চুক্তি করার ক্ষমতা থাকবে। এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে, অথবা এটি নিজেও মামলা করতে পারবে।
৬. আর্থিক ক্ষমতা : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের এলাকার কল্যাণার্থে কর আদায় করা, ব্যয় করা এবং বাজেট তৈরি করার অধিকার থাকবে।

৭. আইন তৈরি : আইন তৈরি করা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ জাতীয় আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও উপবিধি তৈরি করতে পারবে।
৮. নিজস্ব কর্মচারী : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের নিজস্ব কর্মচারী থাকবে। অর্থাৎ এলাকার প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে।
৯. কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার তার নিজস্ব কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অনেকটা প্রভাবমুক্ত।
১০. গণতান্ত্রিক চর্চার সূতিকাগার : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার গণতান্ত্রিক চর্চার সূতিকাগার। গণতান্ত্রিক চর্চা ও বিকাশের সূতিকাগার হলো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার। এখানে নিয়মিত নির্বাচন হয়, জনগণ এতে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটা আদর্শ নমুনা।
১১. রাজনৈতিক শিক্ষার মূল কেন্দ্র : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটা রাজনৈতিক শিক্ষার মূল কেন্দ্র। এ সরকারের মাধ্যমে জনগণ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। এখান থেকে রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জন করে অনেকেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে।
১২. জাতীয় সরকারের বোঝা লাঘব করা : জাতীয় সরকারের বোঝা লাঘব করা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জাতীয় সরকারের একার পক্ষে সমগ্র দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কাজেই সে কিছু কিছু কাজ স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে জাতীয় সরকারের বোঝা অনেকটা লাঘব করে।
১৩. নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারগুলো ছোট ছোট থাকে। এখানে নেতৃত্ব দেয়ার পরে অনেকেই জাতীয় সরকার পরিচালনার মত নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। হঠাৎ করে জাতীয় নেতা হওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায় নেতৃত্ব দিয়ে, অভিজ্ঞতা অর্জন করে জাতীয় পর্যায় নেতৃত্ব দিলে সহজে সফল হওয়া যায়।
১৪. আমলাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার যেহেতু স্থানীয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করে সেহেতু আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা থাকে না।
১৫. মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই প্রতিষ্ঠান নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে। যেহেতু নিজেরাই ব্যয় করে সেহেতু এই সরকার অনেকটা মিতব্যয়ী হয়ে থাকে। নিজস্ব সম্পদের দিকে খেয়াল রেখেই কম ব্যয় সাপেক্ষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। “অপচয় রোধ” এবং “অর্থ সাশ্রয়” নীতি অবলম্বনে তারা তাদের আর্থিক বাজেট তৈরি করে।
১৬. জবাবদিহিতা : স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা সহজেই নিশ্চিত হয়। ফলে স্থানীয় প্রয়োজন ও সেবা অধিকতর সুষ্ঠু ও কার্যকর হয়।
১৭. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা ক্ষমতার বিভাজন এই ব্যবস্থার অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্যই স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সৃষ্টি। বিকেন্দ্রীকরণের ফলে প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়ে।
১৮. সমষ্টিগত কাজের শিক্ষাদান : ইহা সমষ্টিগত কাজের শিক্ষাদান করে। এতে জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ এক সাথে বসে আঞ্চলিক সমস্যাবলি সমাধানের সুযোগ পান।
১৯. পরিকল্পনা প্রণয়নে কেন্দ্রকে সাহায্যকরণ: কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণীত হলে তা জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে সঠিক উপকরণ সরবরাহ করতে পারে, কেননা স্থানীয় পরিকল্পনার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য, উপাত্ত ও উপকরণ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা সম্ভব।
২০. সমন্বয়সাধন : স্থানীয় ও জাতীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়সাধন করা এই ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সরকারি আদেশ নির্দেশ এই সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। অনেক সময় জনগণের সমস্যার কথা ও এরা সরকারকে অবহিত করে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার আঞ্চলিক জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত সরকার। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণমুক্ত। আমাদের দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!