ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

সোনালী কাবিন : ৫’ কবিতায় কবি আল মাহমুদের যে মানস চেতনা ও জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা কর।

উত্তর ভূমিকা : আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রেম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত দেহহীন হয়ে উঠে এসেছে। কিন্তু আধুনিক কবি আল মাহমুদ তাঁর কাব্যে দেহজ প্রেমকে স্থান দিয়েছেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ‘সোনালী কাবিন : ৫’ কবিতায়। এ কবিতায় লক্ষ করা যায় কবির প্রেম দেহজ; দেহহীন প্রেম কবির কাম্য নয়।
কবির জীবন-ভাবনা : কবি জীবনের প্রথম ধাপে বাম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সোনালী কাবিন : ৫’ কাব্যে সে চিন্তাধারা লক্ষ করা যায়। এখন কবির চিন্তালোক বিপরীত ধারায় প্রবহমান। ফলে কবির কাব্যে বস্তুবাদী চিন্তাভাবনা প্রকাশমান। কেননা, কবি বর্তমানে বস্তুনিষ্ঠ চিন্তাধারাকে বাদ দিয়ে আস্তিকবাদী ধ্যানধারণায় উজ্জীবিত।
ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণ : আধুনিক কাব্যজগতে বিচরণ করার পরও কবি বাঙালি ঐতিহ্যকে ভুলতে পারেননি। কবি ফিরে গেছেন চর্যাপদের যুগে, বাঙালির আঁতুড় ঘরে। শবর-শবরীর প্রেম সেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা দেহজ ভোগে উন্মাতাল গলায় গুঞ্জার মালা পরেছে। সম্ভোগবাদী প্রেমকে সম্বোধন করে কবি বলেছেন-


“আমার ঘরের পাশে ফেটেছে কি কার্পাসের ফল?
গলায় গুপ্তার মালা পরো বালা, প্রাণের শবরী।


অশরীরী প্রেমকে অস্বীকার : আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত দেহহীন প্রেম লক্ষ করা যায়। কিন্তু কবি সম্ভোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। যৌনতার উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন। এতে নর-নারীর প্রেম পূর্ণতা পেয়েছে।
লোকজ জীবনের গন্ধ : লোকজ গার্হস্থ্য জীবনের আঙ্গিকে প্রেমানুভূতিকে ‘সোনালী কাবিন : ৫’ কবিতায় কবি প্রকাশ করেছেন। নগর জীবনের প্রেমকে উপেক্ষা করে কবি তাঁর প্রিয়াকে নিয়ে এসেছেন নিসর্গের কোলে। নিসর্গ প্রেমের কাছে নগর জীবনের প্রেমের তুলনা করা যায় না। কবি হাজার বছরে নিসর্গের প্রেমের নিকট আত্মসমর্পণ করেছেন। কৃষিভিত্তিক লোকজ সমাজে ‘খনা’র অনিবার্য উপস্থিতি কবি অস্বীকার করেননি-


প্রকৃতির ছদ্মবেশে সে মন্ত্রেই খুলে দেন খনা
একই যাদু আছে যেনো কবিদের আত্মার ভিতরে।
মহুয়ার নির্যাস পানে শরীরী প্রেমে বুঁদ হয়ে কবি বলেছেন,


‘কোথায় রেখেছো বলো মহুয়ার মাটির বোতল
নিয়ে এসো চন্দ্রলোকে তৃপ্ত হয়ে আচমন করি।


প্রকৃতির কাছে শিক্ষা : নিসর্গের কাছ থেকে কবি তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় করেছেন। জীবনে যা কিছু সম্ভোগ যা কিছু বিকাশ তা নিসর্গের সংস্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠে। নিসর্গকে জীবনের দীক্ষা মেনে তাই কবি বলেছেন-


‘নিসর্গের গ্রন্থ থেকে, আশৈশব শিখেছি এ পড়া
প্রেমকেও ভেদ করে সর্বভেদী সবুজের মূল ‘


ইতিহাসের ভিতর দেখা : জগতের সবকিছু পরিবর্তনশীল। তাই মানব ইতিহাস এক অনন্ত প্রবাহ। ইজিপ্ট, গ্লিস ইত্যাদি সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। নতুন নতুন সভ্যতা সৃষ্টি হচ্ছে, আবার ধ্বংসোনন্মুখ হচ্ছে। কিন্তু নর-নারীর দেহজ আকর্ষণ কাল থেকে কালান্তরে প্রবহমান। তবুও কালোত্তীর্ণ প্রেমে অবগাহন করে কবি বলেছেন-


“চিরস্থায়ী লোকালয় কোনো যুগে হয়নি তো গড়া
পারেনি ইজিপ্ট, গ্রিস, সেরাসিন শিল্পীর আঙুল।’


কবির চিরচেনা প্রেমভাবনা : মানব-মানবীর প্রেম-আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। চিরন্তন প্রেমভাবনার ফলে মানব-মানবী পারস্পরিক স্বরূপকে শনাক্ত করে নিতে পারে। পুরুষের শরীরী আহ্বানে নারী সাড়া না দিয়ে পারে না। জৈবিক নগ্নতার মধ্য দিয়ে নর-নারী একে অপরকে গভীরভাবে চিনতে পারে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আল মাহমুদের কবিপ্রতিভার এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর ‘সোনালী কাবিন’। সোনালী কাবিনের প্রেমভাবনা শিল্পোত্তীর্ণ ও রীতিমত বিস্ময়কর। এখন যদিও কবির প্রেমভাবনার পরিবর্তন হয়েছে। আত্মসমৃদ্ধির সাধনায় ধর্মকেই শেষপর্যন্ত গ্রহণ করেছেন কবি।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!