ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

সুফি নূরনবীতত্ত্ব আলোচনা কর।

অথবা, সুফি দর্শনের নূরনবীতত্ত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, নূরনবী তত্ত্ব কী?
অথবা, সুফি দর্শনের আলোকে নূরনবীতত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।
অথবা, সুফিবাদে বর্ণিত নূরনবীতত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মানুষের মরমি প্রবণতা তথা পরম সত্তার সাথে একাত্মবোধের বাসনা স্বাভাবিক প্রবৃত্তিজাত । ইসলাম ধর্মের এ মরমি দিকটিই তাসাউফ বা সুফিবাদ নামে পরিচিত। আর ইসলামের এ মরমি দিকটির অন্তর্ভুক্ত যেসব বিষয় বা তত্ত্বের আলোচনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তন্মধ্যে নূরনবীতত্ত্ব অন্যতম।
নূরনবীতত্ত্ব : সুফিবাদের মূলভিত্তি আল্লাহর একত্ব তথা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এ বিশ্বাসের মধ্যেই নিহিত। বলা যায় আল্লাহর একত্ব ইসলাম ধর্ম, সুফিবাদ ও বাংলার নব্য সুফিদের প্রাণস্বরূপ। তবে সুফিরা আল্লাহর একত্বের সাথে সাথে হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়তের স্বীকৃতি প্রদান করে। তাই তাঁরা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, “অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর প্রেরিত দূত এ
বিশ্বাসকে মনেপ্রাণে ধারণ করে। এ বিশ্বাসকে অন্তরে ধারণ করে পারস্য, ভারত, বাংলার কোন কোন যুক্তিবাদী দার্শনিক ও সুফি নবীর স্বরূপ উপলব্ধি ও বর্ণনার চেষ্টা করেন। তাঁদের নবীর স্বরূপ বর্ণনার এ প্রচেষ্টাই সুফিবাদে নূরনবীতত্ত্ব নামে খ্যাত ! বাংলার নবসুফীদের নিকট নূরনবীতত্ত্ব একটি প্রধান আলোচ্য ও অনুশীলিত বিষয়। নবী শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো আল্লাহর বাতী প্রচারক, আল্লাহর দূত, পয়গম্বর, আম্বিয়া, ধর্ম প্রবর্তক, সংবাদবাহক, সংবাদদাতা ইত্যাদি। ইসলাম ধর্ম অনুসারে দুনিয়ার প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদ (স) পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূলের আগমন ঘটেছে। এ সকল নবী-রাসূলদের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (স) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশেষ এবং সর্বগুণে গুণান্বিত। তিনিই ছিলেন আল্লাহর প্রিয়পাত্র বা দোস্ত। তিনি আফজালুর আম্বিয়া এবং নবীশ্রেষ্ঠ। তিনি মানবের জন্য আল্লাহর আশীর্বাদস্বরূপ এবং তিনিই মানবজাতির একমাত্র আদর্শ। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা মানুষের আবশ্যক, কর্তব্য এবং তাঁর আদর্শের মধ্যেই নিহিত আছে মুক্তির পথ। সকল প্রকৃত মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসীর মতো বাংলার সুফীরাও বিশ্বাস করেন যে হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, ইসলাম ধর্মের প্রচারক, আদর্শ মানব, সৎপথ প্রদর্শক, ন্যায় সত্যের বাহক। তাঁর উপরই জিবরাঈল (আ) মারফত কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তিনিই শেষ বিচারের দিন সকল মানুষের পাপমোচন ও মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। অতএব এককথায় বলা যায়, সুফীবাদে নূরনবী বা দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর স্বরূপ বর্ণনার যে তত্ত্ব তাই নূরনবীতত্ত্ব। বাংলার নব্য সুফিবাদে নূরনবীতত্ত্ব একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। বাংলার সুফি কাব্য ও গানে এ তত্ত্বের সুস্পষ্ট বর্ণনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর বাংলার সুফিদের এ বর্ণনা থেকে নূরনবীতত্ত্বের চারটি দিকের সন্ধান পাওয়া যায় । যথা :
১. নূরনবীর ধর্মতাত্ত্বিক দিক : মুসলিম জাহানের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ধর্মতত্ত্ববিদ ও সুফিরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। আল্লাহর দিদার লাভ করতে হলে নবীর পদকে অনুসরণ করতে হবে এবং তাঁর দ্বীনকে মেনে চলতে হবে।
২. নূরনবীর পরাতাত্ত্বিক দিক : নূরনবীর পরাতাত্ত্বিক দিকের বর্ণনা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। নূরনবীর এ দিক অনুসারে নূরনবী আল্লাহর সত্তাসারের প্রতিরূপে সৃষ্ট নূরসত্তা এবং এ সত্তা থেকেই জগৎ এবং যাবতীয় কিছুর সৃষ্টি। বাংলার নব্য সুফিরা মনে করেন আল্লাহ একমাত্র পরম সত্য ‘আল্লাহ্ নূরের শ্রেষ্ঠ নূর’। এ প্রসঙ্গে নবী বলেন “আমি নূর আল্লাহর নূর হতে সৃষ্ট’ নূরনবী সৃষ্টির কারণেই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়। নূরনবী সৃষ্টি না হলে বিশ্বজগতের এবং জগতস্থ কোন কিছুই সৃষ্টি হতো না। অর্থাৎ বাংলার সুফিরা নূরনবীর পরাতাত্ত্বিক দিকের মাধ্যমে সৃষ্টি তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
৩. নূরনবীর মরমি দিক : নূরনবীর মরমি পিক সুফিদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুফিবাসে আধ্যাত্মিক গুরু বা মুরশিদ আবশ্যিকভাবে স্বীকার্য। এদিক থেকে নূরনবী সুফি সিলসিলার সর্ব প্রধান আধ্যাত্মিক গুরু। বাংলার নব্য সুধিদের মতে ‘নূরনবী পীরের পীর দস্তগীর মুরশিদের মুরশিদা খোলার ছোট নবীর বড়। নূরনবী আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আধার। বাংলা নব্য সুফিরা তাই বলেন ‘তোমা হতে জ্ঞান পেয়েছি আমি সান্ত্বনা’।
৪. নূরনবীর মানবিক দিক : সুফিরা শুধু নূরনবীর আধ্যাত্মিক মহত্ত্বেই মগ্ন থাকেন তা নয়; বরং নূরনবীর মানবিক দিকের উপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে থাকেন। বাংলার নব্য সুফিদের মতে, নূরনবী ‘মানুষ’ সোনার মানুষ মানুষ রতন। সুফি পরিভাষায় ‘ইনসানুল জালেম বা পূর্ণমানব আর ইকবালের ভাষায় ‘মর্দে মুমিন’। সুফিরা বিশ্বাস করেন আল্লাহ বিশ্বের মানুষের মাঝে মানুষ রতনরূপে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই তাঁদের মতে, মানব দেহেই কাবা, গুপ্ত মক্কা নূরদিল মক্কা, এ দেহেই আল্লাহর অধিষ্ঠান উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, নূরনবীতত্ত্ব বাংলার নব্য সুফিবাদের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। সুফিরা এ নূরনবীর অনুসন্ধানের মাধ্যমেই পরমসত্তা তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় মগ্ন থাকেন।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!