ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

সুফিবাদ ও বাউলবাদের পার্থক্য তুলে ধর।

অথবা, সুফিবাদ ও বাউলবাদের মধ্যকার বৈসাদৃশ্যসমূহ কী কী?
অথবা, সুফিবাদ ও বাউলবাদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
অথবা, সুফিবাদ ও বাউলবাদের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে?
অথবা, সুফিবাদ ও বাউলবাদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে তোমার অভিমত দাও।
উত্তর৷। ভূমিকা :
পরমসত্তাকে জানার ও পাওয়ার ভাবনা মানুষের চিরন্তন ও প্রবৃত্তিজাত। আর এ প্রবৃত্তিজাত বাসনা চরিতার্থ করার অনুশীলিত পথ বা পদ্ধতিটিই দার্শনিক চিন্তার জগতে মরমিবাদ নামে খ্যাত। বাংলাকে বলা হয় মরমিবাদী চিন্তা বিকাশের উর্বর ভূমি। এ ভূমিতে একদিকে বিকশিত হয়েছে বাইরে থেকে আগত মরমি চিন্তাদর্শ অন্যদিকে তেমনি উদ্ভাসিত হয়েছে একেবারেই নিজস্ব চিন্তা প্রসূত মরমি আদর্শের, সুফিবাদ ও বাউলবাদ বাঙালির মনন সাধনায় বিকশিত তেমনি দুটি উল্লেখযোগ্য মতবাদ।
সুফিবাদ : সুফিবাদ ইসলামি ভাবাদর্শের সর্বোচ্চ স্তরে বিকশিত ধ্যান অনুধ্যানমূলক মরমি চিন্তাধারা, ইসলামের অভ্যন্তরীণ বা বাতেনি দিকই সুফিবাদের মূল আদর্শ, সংক্ষেপে বলা যায় ধ্যান অনুধ্যানমূলক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে পরম একক ও অদ্বিতীয় সর্বময় সত্তা। আল্লাহর সান্নিধ্য ও প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ লাভই সুফিবাদের মর্মকথা। অর্থাৎ সাধারণভাবে সুফিবাদ বলতে আধ্যাত্মিকপূর্ণতা লাভের উপায়কেই নির্দেশ করা হয়। আর যিনি এ পূর্ণতা লাভের পথে নিজকে উৎসর্গ করেন তিনিই হলেন সুফি। যাহোক সুফিবাদের একটি গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন সম্মত সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে সুফিকুল শিরোমণি আল-গাজালি বলেছেন, “আল্লাহ ব্যতীত আর সবকিছু থেকে হৃদয়কে পবিত্র করে সতত আল্লাহর আরাধনায় নিমজ্জিত থাকা এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহতে নিমগ্ন হওয়ার অপর নামই সুফিবাদ।”
বাউল দর্শন : বাউল দর্শন বা বাউলবাদ বাংলার নিজস্ব আবহে বিকশিত বাঙালির নিজস্ব দর্শন। অর্থাৎ বাউলবাদ বাঙালির নিজস্ব মরমি চিন্তাধারা। খুব সংক্ষেপে বললে বাউলবাদ এমন একটি মরমি চিন্তাধারা যার সাধনা পদ্ধতি কিছু নির্দিষ্ট যোগমূলক ক্রিয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত। তাদের এ সাধনা হলো প্রকৃতি পুরুষের মিলনের মধ্য দিয়ে নিজের আনন্দ স্বরূপের উপলব্ধির সাধনা। বাউল মতে, মানব দেহই সব তত্ত্ব ও সত্যের ভিত্তি, দেহই সকল জ্ঞান ও কর্মের উৎস, দেহেই কৈলাস বৃন্দাবন, দেহেই মক্কা মদিনা। মানবাত্মার মধ্যেই পরমাত্মা, আলেক সাঁই বা মনের মানুষের অধিষ্ঠান। তাই বাউলরা মানব দেহের মধ্যেই তাঁকে খুঁজে বেড়ান, অর্থাৎ দেহ তত্ত্বের সাধনা করেন। আর এ লক্ষ্য অর্জনেই বাউলরা জগৎসংসারকে উপেক্ষা করে আধ্যাত্মিক ধ্যানে মগ্ন থাকেন এবং সামাজিক আচার আনুষ্ঠানিকতাকে এড়িয়ে চলেন। বাউল মতের সাধকদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম প্রভৃতি কোন জাতিভেদ নেই। হিন্দু মুসলমান উভয় সাধকই একই সত্যাবলম্বী।
সুফিবাদ ও বাউলবাদের পার্থক্য : সুফিবাদ ও বাউলবাদ একই মরমি চিন্তাদর্শের মূল উৎস থেকে উৎসারিত হলেও অদর্শিক বিশ্বাস, সাধন পদ্ধতি এবং বাহ্যিক আচরণের দিক থেকে উভয় মতবাদের মধ্যে ব্যাপক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। নিম্নে উভয় মতবাদের বৈসাদৃশ্যের দিকসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো :
১. সুফিবাদ ইসলামের অভ্যন্তরীণ বা বাতেনি দিকের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই সুফিসাধক তাঁর সাধনায় ইসলামের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিককেই ধারণ করেন। অর্থাৎ কালেমা নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত, ইসলামের এ পাঁচটি মূলস্তম্ভের উপরই সুফিবাদ প্রতিষ্ঠিত। তবে সুফিরা শরিয়তের বিধান ছাড়াও আরো কিছু কঠোর কৃচ্ছতা সাধন করেন যা সাধারণ মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। অপরদিকে, বাউল সাধক বেচক, পূরক ও কুম্বের মাধ্যমে দেহ সাধনা করে। এগুলোর অনেকটাই রতি শাস্ত্রে উল্লিখিত কলাকৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. সুফিবাদ অবতারবাদে বিশ্বাস করে। সুফিরা হযরত মুহাম্মদ (স) কে অবতার বা আল্লাহর প্রেরিত দূত বলে মনে করে এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে পরমসত্তার সাধনায় নিমজ্জিত হন। কিন্তু বাউলবাদ অবতারবাদে বিশ্বাস করে না। তবে তাঁরা গুরুকে সাধনার ক্ষেত্রে উচ্চতর আসনে স্থান দেন।
৩. বাউল সাধনা প্রকৃতি পুরুষের যুগল মিলনের সাধনা। দেহকে কেন্দ্র করে বাউল সাধনার শুরু হলেও তাদের লক্ষ্য দেহাতীত পরমসত্তার প্রাপ্তি। পক্ষান্তরে, সুফিগণ দেহ সাধনা করে আত্মগতভাবে। এ দেহের মধ্যে ছয় লতিফা আছে যথা : কলব, নফস, রুহ, ছের, খফি ও আখফা। সুফিরা দেহের এ ছয় লতিফাকে কেন্দ্র করে দেহাতীত সাধনা করে। তাঁদের এ সাধনা সম্পূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক।
৪. সুফিরা হারাম হালাল সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। সুফিরা শরিয়তের বিধান মেনে হারামকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেন। কেননা, কোনো হারাম খেয়ে ইবাদত বা উপাসনা আল্লাহ্ গ্রহণ করেন না।অপরদিকে, বাউলদের কাছে হারাম-হালাল বলে কিছু নেই। মল, মূত্র, বর্জ্য, বীর্য প্রভৃতি নিষিদ্ধ হারাম দ্রব্যও বাউলরা সাধন অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া স্ত্রীর ঋতুস্রাবের প্রথম বিন্দু পান করা বাউল সাধনার বিশেষ অংশ। বীর্য পানও তাদের সাধনার অংশ। এমনকি স্ত্রীর ঋতুকালীন সময়ে সহবাস করাকে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে
করে। তাঁদের মতে, এ তিনদিন অধর মানুষকে ধরার উপযুক্ত সময় কিন্তু সুফিরা এসব বিষয়কে ঘৃণার চোখে দেখে।
৫. সুফি সাধনার জন্য নারী পুরুষের বিপরীত দেহ অবশ্যক নয়। সুফিদের নিকট বিবাহ ব্যতীত পর নারীর দেহ ভোগ হারাম ও অবৈধ। অপরপক্ষে, বাউল সাধনায় নারী পুরুষের মিলনই মূল সাধনা, বাউলরা পরকীয়া প্রেম বা অন্য নারী দেহ ভোগের উপরই অধিক গুরুত্বারোপ করে থাকেন। পরকীয়া দেহ ভোগ ব্যতীত বাউল সাধনা পূর্ণ হয় না।
৬. সুফিরা ভিক্ষাবৃত্তি সমর্থন করে না। মহানবীর আদর্শ অনুযায়ী তাঁরা ভিক্ষাবৃত্তিকে ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু, বাউলরা ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবনধারণ করেন। ভিক্ষাবৃত্তি তাঁদের সাধনার অঙ্গস্বরূপ।
উপসংহার : অতএব, সুফিবাদ ও বাউলবাদ দুটিই মরমি চিন্তাধারা হলেও উভয়ের লক্ষ্য অর্জনের উপায় ও পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতর।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!