অথবা, ভারতীয় দর্শনের সার্বিক ধারণাটি লেখ।
অথবা, ভারতীয় দর্শনের সামান্য বা সার্বিক প্রত্যয়টি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, সামান্য বলতে ভারতীয় দর্শনে কী বুঝায়?
উত্তরা৷ ভূমিকা :
বৈশেষিক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মহর্ষি কণাদ। মহর্ষি কণাদের প্রকৃত নাম উলুক । কণাদ ও উলুক—এই দুই নাম অনুসারে তাঁর প্রণীত দর্শন ‘কণাদ দৰ্শন’ বা ‘ঔলুক্য দর্শন’ নামে পরিচিত। এই দৰ্শনে ‘বিশেষ’ নামে একটি পদার্থ স্বীকার করায় এর নাম বৈশেষিক দর্শন হয়েছে। বৈশেষিক মতে, পদার্থ সাত প্রকারের এবং সব পদার্থই জ্ঞানের বিষয় বা প্রমেয়। বৈশেষিক সাত প্রকারের পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা : ক. ভাবপদার্থ এবং খ. অভাবপদার্থ। সকল অস্তিত্বশীল বস্তু ভাবপদার্থ। যেমন- দ্রব্য, গুণ ইত্যাদি। বৈশেষিক স্বীকৃত সাতটি পদার্থের দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ এবং সমবায় এ ছয়টি ভাবপদার্থ।
সামান্য সম্পর্কে ভারতীয় দর্শনের মত : যে সাধারণ প্রকৃতির জন্য এক জাতীয় অনেক দ্রব্যকে একই নামে ডাকা হয় সে সাধারণ প্রকৃতিকে বলা হয় সামান্য। যেমন- রহিম, করিম, শফিক, আজাদ প্রমুখ বিভিন্ন মানুষের একটি সাধারণ প্রকৃতি আছে এবং সেটি হলো মনুষ্যত্ব। সামান্য সম্পর্কে ভারতীয় দর্শনে তিন রকমের মতবাদ দেখা যায়। বৌদ্ধ দার্শনিকগণ বলেছেন, ‘সামান্য’ হলো নাম। সামান্যের ব্যক্তি বা বস্তু নিরপেক্ষ কোন সত্তা নেই। এক জাতীয় দ্রব্যকে একই নামে ডাকার অর্থ হলো তাদের ভিন্ন জাতীয় দ্রব্য হতে পৃথক করা। যেমন- কতকগুলো জন্তুকে গরু নামে অভিহিত করা হয় । এই জন্তুগুলোকে গরু নাম দেয়ার অর্থ এই নয় যে, এদের কোন একটি বা একাধিক সাধারণ প্রকৃতি আছে, যার জন্য এই গরু নামটি দেয়া হয়েছে। প্রকৃত কারণ এই যে, এরা অন্য নামধারী জন্তু (যেমন- বাঘ, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি) হতে পৃথক। পাশ্চাত্য তর্কশাস্ত্রে এই মতবাদকে নামবাদ (Nominalism) বলা হয়। জৈন ও অদ্বৈত বেদান্ত মতে, সামান্য এক জাতীয় দ্রব্যের নামও নয়, আবার দ্রব্যের অতিরিক্ত কোন পদার্থও নয়। সামান্য হলো একজাতীয় দ্রব্যে উপস্থিত কতকগুলো সমান গুণের সমষ্টি। যেমন- রহিম, করিম, শফিক, আজাদ প্রমুখ ব্যক্তি মানুষ হিসেবে এক অন্য হতে পৃথক হলেও তাদের মধ্যে এমন কতকগুলো গুণ আছে (যেমন- জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) যার জন্য তাদের একই জাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই মানুষ জাতির মনুষ্যরূপ সামান্য বলতে সকল মানুষের মধ্যে উপস্থিত সমান গুণের সমষ্টিকে বুঝায়। পাশ্চাত্য তর্কশাস্ত্রে এই মতবাদকে প্রত্যয়বাদ (Conceptualism) বলা হয় ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় দর্শনের সামান্য সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয়েছে তা দর্শনের আলোচনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!