ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079

সামাজিক জরিপের পদ্ধতি বলতে কী বুঝ? সামাজিক জরিপের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা কর ।

অথবা, সামাজিক জরিপ পদ্ধতি কী? সামাজিক জরিপ পদ্ধতির সবল ও দুর্বল দিকসমূহ আলোচনা কর।
অথবা, সামাজিক জরিপ পদ্ধতি কাকে বলে? সামাজিক জরিপ পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরা৷ ভূমিকা :
আধুনিক সমাজ গবেষণায় জরিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত তথ্যানুসন্ধানের পদ্ধতি। এটি কোন একটি বিশেষ বিষয়ে তথা সমাজের প্রয়োজনে কোন সামাজিক সমস্যার উপর তথ্যসংগ্রহের জন্য চালানো হয়। এর মাধ্যমে কোন বিশেষ স্থানের জনসাধারণের জীবনযাপন প্রণালি ও কার্যের শর্ত সম্পর্কিত তথ্য জানা সহজ হয়।
সামাজিক জরিপ : জরিপ পদ্ধতি পূর্বানুমান গঠন ও তত্ত্ব উন্নয়নের এবং যাচাইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সমাজের ঘটনাবলি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি একটি পদ্ধতি বলে সমাজবিজ্ঞানীগণ মনে করেন।
আধুনিক সমাজ গবেষকগণ সামাজিক জরিপকে তথ্যসংগ্রহের প্রকাশ করে থাকেন। যেমন- কোন কোন সমাজ গবেষকের মতে, এটি সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি। কারো মতে, এটি তথ্য সংগ্রহের কৌশল । আবার অনেকে এটিকে গবেষণার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : সামাজিক জরিপ সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন সময় তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেছেন। নিম্নে তাদের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মতামত তুলে ধরা হলো:
জেরি এবং জেরি (Jary and Jary) এর মতে, “Social survey is a comprehensive collection of dat and information about people living in a specific area or administrative unit.” অর্থাৎ, কোন প্রশাসনিক একক বা কোন সুনির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসরত মানব গোষ্ঠী সম্পর্কে সর্বাত্মক উপাত্ত সংগ্রহই হলো সামাজিক জরিপ।
মার্ক আব্রাহাম (Mark Abraham ) এর মতে, “A social survey is a process by which quantitative facts are collected about the social aspects of a community composition and activities.” অর্থাৎ, কোন একটি সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ডে সামাজিক দিক সম্পর্কে সংখ্যাত্মক উপাত্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে জরিপ বলা হয়।
ই. এস. বোগারডাস (E. S. Bogardus) এর মতে, “A social survey is the collection of data concerning the living and working conditions, broadly speaking the people in a given community.” অর্থাৎ, কোন সম্প্রদায়ে বসবাসরত মানবগোষ্ঠী যারা একত্রে বসবাস এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত উপাত্তকে জরিপ বলে।
চ্যাপম্যান (Chapman) এর মতে, “Social survey is the systematic collection of facts about people living in a specific geographic, cultural or administrative area.” অর্থাৎ, কোন সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক অথবা প্রশাসনিক এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নিয়মতান্ত্রিক উপাত্ত সংগ্রহকে সামাজিক জরিপ বলে ।
জরিপ পদ্ধতির সুবিধাসমূহ : জরিপ পদ্ধতি কোন সমস্যার বর্ণনা এবং কিভাবে এ সমস্যাকে সমীক্ষা করা যেতে পারে তার উপায় বা পন্থা নির্ধারণ করে। এ পদ্ধতির বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। যে কারণে উন্নত এবং অনুন্নত উভয় দেশেই এটি বেশ জনপ্রিয় পদ্ধতি। নিম্নে এ পদ্ধতির সুবিধাসমূহ বিধৃত করা হলো :
১. সমস্যা নিরূপণ : জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে যে গবেষণা পরিচালনা করা হয় তাতে করে সহজেই কোন সমাজের বিদ্যমান সমস্যাকে চিহ্নিত করা যায়। যেমন- বাংলাদেশে ‘যৌতুক প্রথা’ একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে এর ভয়াবহতা, এর ধরন, কারা এর শিকার হচ্ছে, যৌতুকের কারণে নারীনির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়।
২ নমনীয়তা : তথ্যসংগ্রহের ক্ষেত্রে জরিপ একটি নমনীয় পদ্ধতি। কেননা এর বিভিন্ন কৌশল রয়েছে, যেমন- পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নমালা, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি। গবেষণার উদ্দেশ্য অনুযায়ী যে কোন এক বা একাধিক কৌশল প্রয়োগ করে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়।
৩. কম খরচ : সামাজিক গবেষণার কাজে জরিপ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব কম খরচে এবং স্বল্প সময় ও পরিশ্রমে অধিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ডাকযোগে প্রেরিত প্রশ্নমালার ক্ষেত্রে ব্যয় খুবই কম হয়।
৪. নির্ভুল সাধারণীকরণ : সমগ্রক জরিপে বিরাট সংখ্যক জনসংখ্যা থেকে করা হয়। আবার সমগ্রকে প্রতিনিধিত্বশীল অংশ তথা নমুনা জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ফলে এ থেকে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বা সাধারণীকরণ করা হয় তা অত্যন্ত নির্ভুল হয়।
তথ্য সংগ্রহ
৫. পরিকল্পনা প্রণয়ন : কোন দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা
প্রণয়নে জরিপ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী। অর্থাৎ জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক ও কল্যাণকর পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজতর হয়।
৬. পূর্বানুমান গঠন : পূর্বানুমান গঠনের ক্ষেত্রে জরিপ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণার পূর্বে গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে যে পূর্বানুমান গঠন করা হয়, জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে সংগৃহীত উপাত্তের ভিত্তিতে তা যাচাই করা হয়। অর্থাৎ পূর্বানুমান গঠন ও যাচাইয়ে
জরিপ পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম : জরিপ পদ্ধতির অসুবিধাগুলো সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে জরিপ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়, কার্যকরী এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। তথাপি এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো :
১. ব্যয়বহুল পদ্ধতি : যেখানে ব্যাপক পরিসরে জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়, সেখানে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে জরিপের সাহায্যে তথ্যসংগ্রহের জন্য গবেষণা চালানো উন্নত দেশে সহজ হলেও বাংলাদেশের মতো তৃতীয়বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে যথেষ্ট অসুবিধাজনক।
২. অশিক্ষিত জনগণ : অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে জরিপ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা যথেষ্ট অসুবিধাজনক। যেমন- বাংলাদেশের শিক্ষিত জনগণের চেয়ে অশিক্ষিত জনগণ বেশি হওয়ায় তারা গবেষণা ও জরিপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবনে অক্ষম। তাই তারা সঠিক তথ্য প্রদান করে গবেষণায় সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়।
৩. ভুল তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা : অজ্ঞতা, অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ইত্যাদি কারণে উত্তরদাতাদের নিকট থেকে জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে উত্তরদাতা ভুল উত্তর দিয়ে গবেষণার কাজকে জটিল করে তুলতে পারে। তাছাড়া নিরুত্তরজনিত সমস্যা তো রয়েছেই।
৪. পক্ষপাতিত্ব : জরিপ পদ্ধতির ক্ষেত্রে যিনি তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। ফলে এক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের একটা সম্ভাবনা থেকে যায়।
৫. দরিদ্রতা : দরিদ্রতা সামাজিক জরিপের অন্যতম প্রতিবন্ধক। যেমন- দরিদ্র ব্যক্তি সবসময় কিছু প্রাপ্তির আশায় কাজ করে। তাই যেসব ক্ষেত্রে প্রাপ্তির আশা থাকে না সেখানে তার উৎসাহ কম থাকে। ফলে সঠিক উত্তর তার কাছ থেকে অনেক সময় পাওয়া যায় না।
৬. উত্তরদাতার আবেগ অনুপস্থিতি: জরিপ পদ্ধতিতে যখন কোন গবেষক উত্তরদাতার নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তখন উত্তরদাতার মনোভাব সঠিকভাবে ব্যক্ত হয় না। অর্থাৎ উত্তরদাতার আবেগের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না।
৭. নমুনায়নের সমস্যা : নমুনায়নের সফলতা ও নির্ভরযোগ্যতার উপরই নির্ভর করে জরিপ পদ্ধতির সাফল্য। কিন্তু আধেয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানামুখী সমস্যার কারণে সঠিক নমুনায়ন কষ্টকর এবং সম্পাদিত নমুনায়ন প্রায়শই প্রতিনিধিত্বশীল হয় না ।
৮. ক্ষণস্থায়ী : জরিপ পদ্ধতির ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষণস্থায়ী হয়। কেননা অধিকাংশ সময়ই পরিবর্তনশীল বিষয় নিয়ে জরিপ কার্য পরিচালনা করা হয়। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সংগৃহীত তথ্য খুব বেশি সময় কার্যকর থাকে না।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জরিপ পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা থাকলেও এই পদ্ধতির মাধ্যমে কোন একটি বিষয়ের অন্তর্গত সমগ্রক সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মানব সভ্যতার অতি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠীভিত্তিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তা কার্যকর অবদান রেখে আসছে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমাদের এই প্রশ্ন উত্তর গুলো কালেক্ট করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যদি আমাদের পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু অর্থ প্রদান করে আমাদের সহযোগিতা করতে চান আমাদের হোয়াটস্যাপ নাম্বারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যাতে করে আমরা আরো দ্রুততার সাথে আপনাকে সাহায্য করতে পারি আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। Whatsaap Number 01979786079

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!