ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079

সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আলোচনা কর ।

অথবা, সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সমস্যা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আলোচনা কর।
অথবা, পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষাৎকার পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্ণনা কর।
উত্তরা ভূমিকা :
সমাজ গবেষণ পদ্ধতি বা কৌশল হিসেবে সমাজিক জরিপ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা, কোন তত্ত্ব যাচাই করা, কোন বিষয়ের সত্যাসত্য নিরূপণ করা, কোন বিষয়ের ব্যাপকতা পরিমাপ করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে একটি উত্তম কৌশল। সামাজিক জরিপে কোন একটি বিষয়ের অন্তর্গত সমগ্রক সম্পর্কে একটি সামাজিক চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সামাজিক যে জরিপে যে কয়টি পদ্ধতি রয়েছে সাক্ষাৎকার পদ্ধতি এবং পর্যবেক্ষণ কৌশল এগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার গ্রহণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা : তথ্য সংগ্রহের যে কয়টি পদ্ধতি রয়েছে সাক্ষাৎকার পদ্ধতি তন্মধ্যে অন্যতম। এ পদ্ধতিতে একটি সাক্ষাৎকারমালা বা প্রশ্নমালা ব্যবহার করে উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কোন বিষয়ে বা উত্তরদাতার নিজ অবস্থা বা পরিবার সম্পর্কে তথ্য বা মতামত নেয়া সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একজন উত্তরদাতার কাছ থেকে নির্ভুল, যথার্থ এবং পরিমাপযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সহজসাধ্য নয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী যোগ্যতা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উত্তরদাতার আগ্রহ, সামর্থ এবং প্রেষণা তথ্যসংগ্রহের ব্যাপারটিকে বিভিন্ন দিক থেকে প্রভাবিত করে। বস্তুত বাংলাদেশে সাক্ষাৎকার পদ্ধতির অনেকগুলো সুবিধা থাকলেও এর কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে এগুলো যথাপরিসরে তুলে ধরা হলো :
১. ব্যয়বহুল পদ্ধতি : সাক্ষাৎকার পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। কারণ এর জন্য প্রচুর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তি নিয়োগ, তাদের বেতন, ভ্রমণভাতা, নমুনা নির্বাচন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি করতে হয়।
২. সময় সাপেক্ষ : সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ উল্লিখিত সকল আয়োজন সম্পন্ন করার পর কেবল মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহের জন্য প্রেরণ করা হয়। ফলে তথ্য সংগ্রহের পর তা হাতে পেতে অনেক সময় লাগে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে নমুনাভুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা, আবার তাদের মতামত সাক্ষাৎকার নেওয়া অনেক
সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ।
৩. সাক্ষাৎকার পক্ষদুষ্টতা : তথ্যসংগ্রহকারীর ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা, মূল্যবোধ, উত্তরদাতার সাথে একান্ত আলোচনা ইত্যাদির সময় পক্ষপাতিত্ব সৃষ্টি হয়।
৪. সময়ের অভাব : অনেক সময় দেখা যায় যে, নমুনাভুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেলেও কিন্তু উত্তরদাতার কাছ থেকে সময় পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। কারণ উত্তরদাতা যখন সময় দিতে পারেন তখন হয়ত তথ্যসংগ্রহকারীর পক্ষে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
৫. ঝামেলাপূর্ণ : অনেক উত্তরদাতার জন্য সরাসরি সাক্ষাৎকার দেওয়া ঝামেলাপূর্ণ মনে হয়। কারণ তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজ রেখে তাকে এ সময় দিতে হয়। ফলে অনেকে তাদের সময় নষ্ট করে উত্তর দিতে চান না। তারা হয়ত ডাকযোগে প্রশ্নপত্র পাঠালে তার উত্তর দিতেন |
৬. আত্মপরিচয় গোপন করা যায় না : অনেক উত্তরদাতা আত্মপরিচয় গোপন করতে চান কিন্তু এ পদ্ধতিতে তা সম্ভব নয়। দেখা যায় যে, অনেকে হয়ত কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর তথ্যসংগ্রহকারী কাছে সরাসরি না দেওয়ার চেয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে দেওয়াকে শ্রেয় মনে করেন ।
৭. খুঁজে পাওয়ার সমস্যা : নমুনায়ন অন্তর্ভুক্ত অনেক ব্যক্তিকে তথ্যসংগ্রহকারী খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয় । যদি সে প্রশ্নমালা ডাকযোগে প্রেরণ করা যেত তাহলে এ ঝামেলা এড়ানো যেত ।
বাংলাদেশে উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা : বাংলাদেশে উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে এগুলো যথাপরিসরে আলোচনা করা হলো :
১. সবসময় সব অবস্থায় পর্যবেক্ষকের ইন্দ্রিয়জাত প্রত্যক্ষণ সঠিক হয় না ।
2.পর্যবেক্ষণ ও অধিঅনুমিতি এক জিনিস নয়। পর্যবেক্ষণকে বিচ্ছিন্ন বৈসাদৃশ্যমূলক, অর্থহীন মনে হবে যদি তা কোন ধারণা কাঠামোর আলোকে প্রত্যক্ষ করা না হয়। আবার নির্দেশনা কাঠামোকে যদি কঠোরভাবে অনুকরণ করা হয় তবে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়াবে নিজেদের পূর্ব ধারণাসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করা।
৩.পর্যবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণকৃতের মধ্যে সম্পর্ক কি পর্যায়ে থাকলে যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মান অর্জন করা সম্ভব তা নির্ধারণ করা একটি কঠিন কাজ। সমাজবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ মৌলিক প্রকৃতির উপাত্ত সংগ্রহের একটি প্রধান পদ্ধতি । কিন্তু পর্যবেক্ষণ একজন মানুষ হওয়া বিষয়ী মানুষের সাথে তাঁর আন্তক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন।
৪. যেহেতু সমাজীবন গবেষণাগারের মধ্যে আব্ধ করার মতো বিষয় নয় সেহেতু জীবনের স্বাভাবিক, সচল ও মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সৃষ্টি কঠিন হয়ে পরে। এছাড়া গবেষণা চলাকালীন সময়ে একটি সম্প্রদায়ে, ধারাবাহিকভাবে রেকর্ডকৃত পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ে।
৫. বিষয় যখন ব্যাপক ও নিবিড় প্রকৃতির হয়ে থাকে তখন তাকে রেকর্ড করা খুব সহজ কাজ নয়। একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করলে একাধিকভাবে পর্যবেক্ষণ হতে পারে আবার এককভাবে সবকিছু রেকর্ড করাও মুশকিল ।
৬. সবধরনের তথ্যই সংখ্যাত্মক নয়। গভীর পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেই গুণাত্মক বিষয় বেশি পর্যবেক্ষণে আসে । এসব গুণাত্মক বিষয়কে সংখ্যায়নের ফলে বিকৃতি ঘটা স্বাভাবিক । সবক্ষেত্রে সংখ্যায়নও কঠিন ।
৭. সাধারণত পর্যবেক্ষণ ছোট নমুনার উপর পরিচালিত হয়, যদিও বিরাট আকারর নমুনাকে বহুসংখ্যক পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করতে পারেন । কিন্তু নমুনা আকার যখন ছোট হয়, উপাত্ত যখন গুণাত্মক নয়, পর্যবেক্ষণ যখন গভীর হয়, সাধারণীকরণ তখন নিরাপদ হবে এমন ভাবা ঠিক নয় ।
৮. এমন অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠান, দল, গোপন সংঠন বা সরকারি- বেসরকারি সংস্থা আছে যেখানে সামাজতাত্ত্বিক গবেষণা প্রয়োজন । কিন্তু পর্যবেক্ষকের পক্ষে প্রবেশাধিকার লাভ কঠিন হয়ে পড়ে ।
৯. সংবেদনশীল বিষয় যেমন যৌন আচরণ, প্রজনন আচরণ, দাম্পত্য সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকরণ সম্ভব হয় না। এরকম ক্ষেত্রে অনুসূচির ব্যবহার ও জরিপ হয়ত অনেক বেশি সাফল্য দিতে পারে । তবে বয়স, লিঙ্গ, মর্যাদা, সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়কে বিবেচনা করে যদি বিষয়ীর জন্য সহজ গ্রহণীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা যায় তবে হয়ত কিছু কিছু বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অংশগ্রহণ ও অ-অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের উপযোগিতা পরিস্থিতি সাপেক্ষে বিবেচনা করা উচিত ।
১০. বড় ধরনের দল বা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে অথবা বিস্তারিত তথ্যসংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা সর্বজন স্বীকৃত ।
১১. সাধারণভাবে পর্যবেক্ষকের পক্ষপাত, পছন্দসই, প্রত্যক্ষণ ও বিশেষ স্মৃতি পর্যবেক্ষণের বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট করে ।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক জরিপে উপাত্ত সংগ্রহের অনেকগুলো উৎস রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎস থেকে উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ কৌশল গুরুত্বপূর্ণ দুটি কৌশল । যদিও বাংলাদেশে এ দুটি পদ্ধতির মাধ্যমেই একজন গবেষক বেশি পরিমাণে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে । তবে বাংলাদেশে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে এ দুটি পদ্ধতির কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয় ।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমাদের এই প্রশ্ন উত্তর গুলো কালেক্ট করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যদি আমাদের পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু অর্থ প্রদান করে আমাদের সহযোগিতা করতে চান আমাদের হোয়াটস্যাপ নাম্বারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যাতে করে আমরা আরো দ্রুততার সাথে আপনাকে সাহায্য করতে পারি আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। Whatsaap Number 01979786079

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!