অথবা, ইবনে সিনার দর্শনের সাথে কান্ট ও বার্গসোঁর দর্শনের সাদৃশ্য কী?
অথবা, ইবনে সিনার দর্শনের সাথে কান্ট ও বার্গসোর দর্শনের সাদৃশ্য দেখাও।
অথবা, ইবনে সিনার দর্শন কিভাবে কান্ট ও বার্গসোঁর দর্শনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
উত্তর৷ ভূমিকা :
ইবনে সিনা মুসলিম দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম একজন চিন্তাবিদ। সমগ্র ইউরোপে যখন জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো পৌছায় নি, তখন তিনি রচনা কেেরছেন দর্শন, বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর কালজয়ী গ্রন্থ। তাঁর চিন্তা ও কর্ম দ্বারা পরবর্তীতে বহু মনীষী প্রভাবিত হয়েছেন কান্ট, বার্গ সোঁ ও ডেকার্ট প্রমুখ বিখ্যাত পাশ্চাত্য দার্শনিকদের দর্শনে ইবনে সিনার চিন্তাধারার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। ইবনে সিনা, কান্ট ও বার্গসোঁর দর্শনের তুলনামূলক আলোচনা : ইবনে সিনা একজন উল্লেখযোগ্য মুসলিম চিন্তাবিদ। তিনি দর্শনশাস্ত্রে যে শ্রেণিবিন্যাস করেন তা মধ্যযুগের ইউরোপীয় দর্শনে বহুল পরিমাণে অনুসৃত হয়েছিল। ইবনে সিনার দর্শনে আধুনিক অনেক বিখ্যাত মতবাদের পূর্বাভাস রয়েছে। ডেকার্ট, কান্ট ও বার্গসোঁর মতবাদের সাথে তাঁর যথেষ্ট মিল রয়েছে। নিম্নে ইবনে সিনা, কান্ট ও বার্গসোঁর দর্শনের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো :
ইবনে সিনা ও কান্ট : ইমানুয়েল কান্ট একজন আধুনিক দার্শনিক। তিনি পাশ্চাত্য দর্শনচিন্তাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছেন। তিনি তাঁর দর্শনে বুদ্ধিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদের সমন্বয় করেছেন। কান্ট বিশুদ্ধ প্রজ্ঞার মধ্যকার বিরোধিতাকে চার ভাগে ভাগ করেছেন, যা ইবনে সিনার মতবাদের পূর্বাভাস বলা যায়। কান্ট পৃথিবী চিরন্তন ও সৃষ্ট বলে
ইবনে সিনার অনুরূপ ধর্মতত্ত্বের সাথে দর্শনের সমন্বয় সাধন করেন। কাণ্ট ও ইবনে সিনা দু’জনই পরম সত্তা ঈশ্বর বা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করেন। জগতের মূল সত্তা সম্পর্কিত আলোচনাতেও তাদের মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
ইবনে সিনা ও বার্গসো : ইবনে সিনার সাথে বার্গসোঁর দর্শনের সাদৃশ্য নির্দেশ করে এম সাঈদ শেখ “Muslim philosophy” গ্রন্থে বলেছেন, আমরা যদি তাঁর দর্শনের সাথে আধুনিক চিন্তার সাদৃশ্য খুঁজি, তাহলে, সহজেই আমরা বার্গসোঁর মতের সাথে মিল খুঁজে পাব। ইবনে সিনার বিবর্তনবাদের সাথে বার্গসোঁর সৃজনমূলক বিবর্তনবাদের পূর্বাভাস
লক্ষ্য করা যায়। ইবনে সিনা বলেছেন ইশকের আকর্ষণে বিশ্বজগৎ নব নব সৃষ্টির পথে নিম্নস্তর থেকে উচ্চ স্তরে ছুটে চলছে। ক্রমবিকাশের উর্দ্ধগতি ইবনে সিনার বিবর্তন প্রক্রিয়াকে বুদ্ধিগত রূপ দিয়েছেন। বার্গসোঁর বিবর্তন প্রক্রিয়া ও উচ্চ থেকে উচ্চতর সৃষ্টির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ইবনে সিনার মতো অধিক সুনিয়ন্ত্রিত ও
সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু বার্গসোঁর মতো তদ্রূপ নয়
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, কান্ট ও বার্গসোঁর দর্শনের সাথে তাদের বহু পূর্বে প্রদত্ত ইবনে সিনার মতের সাদৃশ্য রয়েছে। ইবনে সিনা যেমন গ্রিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তেমনি তিনি আধুনিক পাশ্চাত্য দার্শনিকদেরকেও প্রভাবিত করেছেন। তাঁর মতবাদের পাশ্চাত্য বিখ্যাত মতবাদসমূহে পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরবর্তী দার্শনিকদের দর্শনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!