ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

শালিস বলতে কী বুঝ? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে আলোচনা কর।

অথবা, শালিস কী? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের প্রকৃতি বর্ণনা কর।
অথবা, শালিস কী? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের প্রভাব তুলে ধর।
অথবা, শালিস কাকে বলে? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের প্রকৃতি আলোচনা কর।
অথবা, শালিস বলতে কী বুঝ? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের প্রভাব বর্ণনা কর।
অথবা, শালিস কী? গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ভূমিকা :
বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যগত বিচার প্রথা হচ্ছে শালিস।শালিস প্রধানত গ্রাম ও পাড়াভিত্তিক স্থানীয় লোক সমাজের বিচারব্যবস্থা। অতি প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের পল্লি এলাকায় দুই ধরনের বিচারব্যবস্থা প্রচলিত। একটি হচ্ছে সুনির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগের কার্যক্রম,অন্যটি হচ্ছে শালিসি ব্যবস্থা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ববর্গ, গ্রাম প্রধান, মাতব্বর প্রভৃতি লোকের নেতৃত্বে শালিসি ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। শালিসি ব্যবস্থার কার্যক্রম গ্রাম, সমাজ, মহল্লা প্রভৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
শালিস (Salish) : শালিস গ্রামের পুরনো প্রথাজাত প্রতিষ্ঠান। শালিস শব্দের উৎপত্তি আরবি ভাষা থেকে যায় আভিধানিক অর্থ মধ্যস্থতা। শালিসের ইংরেজি প্রতিশব্দ Arbitration অর্থাৎ মধ্যস্থতার দ্বারা নিষ্পত্তি। শালিস গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা একটি বিচারিক ব্যবস্থা।শালিস গ্রামীণ দ্বন্দ্ব, সংঘাত, বিরোধ, মনোমালিন্য ইত্যাকার যাবতীয় অসহযোগিতা ও বিরুদ্ধবাদিতা মীমাংসার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে পরিগণিত হয়। বিশেষত কোনো অভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অমীমাংসের অবস্থার সৃষ্টি হলে কিংবা সামাজিক অপরাধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত ইত্যাদি দেখা দিলে তা প্রতিরোধ করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয় গ্রামীণ শালিস ব্যবস্থাকে যা গ্রামের স্থিতিশীলতা আনয়ন করে থাকে। শালিস সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, শালিস মধ্যস্থতার কাজ করে, বিচারসভার মাধ্যমে মধ্যস্থতা সম্পন্ন হয়ে থাকে। বিচারসভা অনেক বেশি মাত্রায় আনুষ্ঠানিক।প্রত্যেকেই গ্রাম বা পাড়ার সদস্য, তাই এটি গ্রামভিত্তিক হয়ে থাকে। এখানকার বিচার সভায় সদস্য পদ সীমিত যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে মাতব্বর বা গ্রাম প্রধান।সুতরাং শালিসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করা। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে
শালিসের ব্যাপক অপব্যবহার করা হচ্ছে। কেননা এর পিছনে ক্ষমতা সংহতিকরণ, ধর্মের অপব্যাখ্যা প্রভৃতি কাজ করছে।
গ্রামীণ শালিসে নেতৃত্বের ধরন (Pattern of leadership in rural arbitration) : গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর উপাদানসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো গ্রাম পর্যায়ের শালিস সমাজ প্রভৃতির মতো অনানুষ্ঠানিক সংগঠন এবং অন্যটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটি, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির মতো আনুষ্ঠানিক সংগঠন। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর উল্লিখিত উপাদানসমূহের মধ্যে ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা প্রকাশের মুখ্য উপায়সমূহের মধ্যে গ্রামীণ শালিস অন্যতম। সাধারণত গ্রামের প্রভাবশালী এবং বংশীয় নেতৃবর্গ শালিস পরিচালনা বা শালিসে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। তাদের নেতৃত্বের ধরন নিম্নে তুলে ধরা হলো i.গ্রামের প্রভাবশালীদের নেতৃত্ব (Leader of rural influentials) : গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি, ধনী কৃষক,মহাজন প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ গ্রামীণ শালিস পরিচালনা করে থাকেন। এরা সাধারণ গ্রামের হর্তাকর্তা গোছের লোক। বিচারে বিবাদীর পক্ষে/বিপক্ষে একটা রায়ে পৌঁছানো হয়। কিন্তু শালিসে দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিস্বার্থের কথা মনে রেখে উভয়পক্ষ আপসরফায় পৌছাতে চেষ্টা চালায়। শালিস এবং বিচার প্রত্যেকটিই সকলের সামনে আলাপ আলোচনা মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ii. বংশীয় নেতৃবর্গের নেতৃত্ব (Leaderslip of clan leader) : বংশের ভিতরকার যে কোনো দ্বন্দ্ব, বিবাদ ও সমস্যার সমাধান করার জন্য ডাকা শালিসে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে বংশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু তাদের রায় যদি কোনো পক্ষই না মেনে নেয় তবে তারা অন্যান্য বংশের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গকে ডেকে পুনরায় শালিসের ব্যবস্থা করে থাকেন। বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে শালিসে গ্রামীণ ধনী অভিজাত শ্রেণিই নেতৃত্ব দিতেন দাতা গ্রহীতা সম্পর্ক ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্তি দেখার মাধ্যমে যা ধনী অভিজাত শ্রেণিকে তাদের শ্রেণি স্বার্থ দেখে শালিস পরিচালিত করতে উৎসাহিত করতো।Kristen Westerguard বলেন, “কেবল ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই শালিসের সদস্য হয়। শালিসের মাধ্যমে সমাজে তারা প্রভাব খাটাতো এবং প্রভাব বৃদ্ধির জন্য ধনী কৃষকেরা নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো।” মাতব্বরি প্রথা সম্পর্কে জাহাঙ্গীর তার “Rural Society, Power Structure” গ্রন্থে বলেছেন, “মাতব্বরি ব্যবস্থা বহু কাজ একত্রিত করে এবং কর্তৃত্বময় কাঠামোর ভূমিকা রাখে। ব্যক্তি মাতব্বর সমাজ জীবনে সম্পত্তি সম্পর্কের কর্তৃত্ব এবং গ্রামে কর্তৃত্বের প্রধান ভূমিকায় সমন্বয়সাধন করে থাকেন।”
iii. স্থানীয় সরকারের নেতৃত্ব (Leadership of local government) : স্থানীয় প্রয়োজনে মানুষ স্থানীয় সরকারের শরণাপন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। সামান্য ব্যাপারেই মানুষ রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগের কাছে যায় না। এখানে গরিবের প্রবেশের সুযোগ অনেক কম। শুধু গরিব নয়, নিম্নবিত্তের অধিকাংশ মামলাই বিচার বিভাগ এড়াতে চায়।সেজন্য তারা এলাকার স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে সালিশি ব্যবস্থায় অংশ নেয়। কিন্তু সালিশি ব্যবস্থায়ও স্থানীয় মাতব্বরদের আধিপত্য এবং তাদের শ্রেণি স্বার্থকে তারা বড় করে দেখে। ফলে এখানেও গরিব মানুষের সুবিচার পাওয়া অনেকটাই অনিশ্চিত
iv. শালিসে নেতৃত্ব দানকারীদের শিক্ষা ও পেশা নির্ভর একটি জরিপ (A survey related to education and occupation of leader) : আতিউর রহমান ৯৩ জন ক্ষমতাবান, যারা শালিসে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তাদের উপর পরিচালিত এক জরিপে দেখিয়েছেন যে, তাদের ৩০% এর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা (S.S.C বা তার উপর) রয়েছে। তবে বয়সে যারা নবীন (৩০-৪০) তাদের প্রায় সকলেরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ২৬.৮৮% স্বাক্ষর করতে পারেন এবং ৩২.২% নিরক্ষর; ভূমি মালিকানার দিক থেকে ৫৮.৩৮% এর জমির পরিমাণ ৭.৫ একরের বেশি,
২.৬১-৭.৫০ একর জমি রয়েছে ৪৩.০১ এর এবং ২.৬০ একর পর্যন্ত জমি রয়েছে ৮.৬০% ক্ষমতাবানের। পেশার দিক থেকে ৪৯.১৪% এর পেশা কৃষি। ২৯.৮৮% ব্যবসায়, ৩.২৩% ঠিকাদারি এবং ১০.৭৫% অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।ক্ষমতাবানদের শতকরা ৭৫ জনের বাবাও মাতব্বর ছিলেন।
শালিসের রায় (Judgement of arbitration) : শালিসের রায়ের পুরোপুরি নির্ভর করে নেতৃত্বের প্রকৃতির উপর। শালিসে নেতৃত্বদানকারী অভিজাতরা তাদের শ্রেণি স্বার্থের দিকটির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু দরিদ্ররা দুর্বল ও অসংগঠিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে রায় গেলেও তাদের কিছুই করার থাকে না; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেকে প্রতিবাদ করলেও তাদের প্রচেষ্টা সফল হয় না। কারণ গ্রামীণ কৃষকরা কাজের জন্য, ঋণের জন্য, বর্গাচাষ ও সরকারি সাহায্যের জন্য আভিজাত শ্রেণির মানুষের উপর নির্ভরশীল। শালিসে ঋণী কৃষক বাদি আর দরিদ্র কৃষক বিবাদী হলে রায় যায় বাদীর পক্ষেই। ধনী কৃষকদের মধ্যে বিরোধী থাকে, কিন্তু যদি কখনো কোনো ধনী কৃষক শালিসে আসামি হিসেবে হাজির হয়; সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে আর শত্রুতা থাকে না, বরং তারা এক হয়ে যায়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার নিরিখে বলতে পারি যে, গ্রাম্য শালিসের নেতৃত্বের ধরন গ্রামের প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানদের দ্বারা নির্ধারিত ও পরিচালিত হয়। সাধারণত গ্রামের প্রভাবশালীর শালিসের নেতৃত্ব দিয়ে থাকলেও মাঝে মাঝে বাইরের গ্রামের মাতব্বরদের ডাকা হয়। মাতব্বররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাদি-বিবাদিকে গোপনে মন্ত্রণা দিয়ে বিরোধ বজায় রেখে ফায়দা নিতে চায় এবং নিয়েও থাকে। শালিসে বাদী বিবাদী যেই ক্ষমতাবান হোক না কেন মাতব্বররা ক্ষমতাবানদের পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রায় দিয়ে থাকে। অর্থ, আত্মীয়তা, দাতা-গ্রহীতা প্রভৃতি সম্পর্কের কারণে প্রভাবশালী বা মাতব্বররা নিরপেক্ষ রায় দিতে পারে না।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!