ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

রাজনীতি বলতে কী বুঝ? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যাসমূহ আলোচনা কর ।

অথবা, গ্রামীণ রাজনীতি কী? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রধান প্রধান সমস্যাসমূহ কী কী? পর্যালোচনা কর।
অথবা, রাজনীতি কী? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অন্তরায়সমূহ তুলে ধর।
অথবা, রাজনীতি কাকে বলে? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যাসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, রাজনীতি কী? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বাধাগুলো কী কী? পর্যালোচনা কর।
অথবা, রাজনীতি বলতে কী বুঝ? গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা আলোচনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
গ্রামীণ রাজনীতি গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় অতি পরিচিত একটা প্রত্যয়। গ্রামীণ সমাজ কাঠামোর সাথে গ্রাম্য রাজনীতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। গ্রাম্য জনজীবনে ক্ষমতা চর্চায় গ্রামীণ রাজনীতিতে যারা প্রতিষ্ঠিত তারাই প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে। গ্রামীণ এলিট শ্রেণি, ধর্মীয় নেতা, উচ্চ বংশীয় মর্যাদা প্রভৃতিতে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ বা গোষ্ঠীবর্ণ গ্রামীণ রাজনীতির পুরোধা হিসেবে বিবেচিত হয়। আধুনিক বিশ্বায়ন গ্রামীণ রাজনীতির সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে সম্পৃক্ত করেছে।
রাজনীতি (Politics) : রাজনীতি শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Politics যা আমাদের সকলের কাছে পরিচিত। এই Politics -কে শাব্দিক অর্থে Art and science of government বা সরকারের কলা ও বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ সরকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত জনগণের জীবন ও কার্যাবলিই হচ্ছে রাজনীতি। সরকারের সকল ধরনের কার্যক্রম রাজনৈতিক ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত। স্বীকৃত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সরকারের বিভিন্নমুখী ক্রিয়াকলাপের উদ্ভব হয়। এ ধরেনর ক্রিয়াকলাপের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও জড়িত থাকে।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা রাজনীতিকে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে কয়েকজনের সংজ্ঞায়ন তুলে ধরা হলো :
সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Sociologist Max Weber) তাঁর ‘German Ideology’ গ্রন্থে বলেন, “রাজনীতি হচ্ছে একটি সাধারণ মানবীয় কর্মকাণ্ড যা সমাজের মধ্যে উদ্ভব হয়। বিভিন্ন আলোচ্যসূচির উপর নির্ভর করে এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ। বিভিন্ন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতায় এটি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।”
প্রফেসর অ্যালান আর. বল (Prof. Alan R. Ball) তাঁর ‘Modern Politics and Government’ গ্রন্থে বলেন, “রাজনীতি হচ্ছে একটা সক্রিয় বা সার্বিক ক্রিয়া। এখানে কোনোরকম নৈতিক নির্দেশ নয়, বরং সামগ্রিক ক্রিয়ার চর্চা হয়।”
প্রফেসর এস. ই. ফাইনার (Prof. S. E. Finer) তাঁর ‘Comparative Government’ গ্রন্থে বলেন,হলো আসলে এক ধরনের আচরণ বা কার্যাবলি। অর্থাৎ রাজনীতি বলতে রাজনৈতিক কার্যকলাপকে বুঝায়।”
এরিস্টটল (Aristotol) বলেন, “যে মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে না সে হয় পশু নয়ত দেবতা। তেমনি রাজনৈতিক বন্ধনহীনভাবে কোনো সচেতন মানুষ থাকতে পারে না।”
সুতরাং বলা যায় যে, রাজনীতি এমন একটি বা এক ধরনের কর্ম যার মধ্যে নৈতিকতার মানদণ্ডের বাধ্যবাধকতা নেই। এটি সর্বাত্মকভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে। আর এই ঐক্যবদ্ধ করতে গিয়েই রাজনীতিতে নৈতিকতার চর্চা হয়ে থাকে।
গ্রামীণ রাজনীতি (Rural politics) : সাধারণত গ্রামীণ রাজনীতি বলতে গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আচার-অনুষ্ঠানকে বুঝায়। প্রতিটি দেশের শাসন ক্ষমতা ও শাসনকার্য পরিচালনার গ্রামীণ ও শহর উভয় সমাজের রাজনীতিই সমাজভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং সম্পর্কযুক্ত। এদিক থেকে বিবেচনা করলে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গ্রামীণ রাজনীতি বলা হয়ে থাকে।
গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যা (Problems of participation in rural politics ) : গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা মানুষকে বাধাগ্রস্ত করে।নিম্নে শিরোনামের মাধ্যমে কিছু সমস্যা তুলে ধরা হলো :
i. অর্থনৈতিক অবস্থান : গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অর্থনৈতিক অবস্থান ভীষণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। অধিক আয়ের মানুষ অতি মাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ও অবসর গ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকে, যা তাদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করে। সম্পদশালী মানুষের সাথে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটা যোগসূত্র থাকে যা তাদের রাজনৈতিক পথকে প্রশস্ত করে। অন্যদিকে, গ্রামীণ অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র কৃষক। তারা তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে থাকে প্রকৃতির সাথে। তাদের কাছে অবসর নেই রাজনীতি করার জন্য। সুতরাং অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দারিদ্র্য গ্রামীণ জনগণকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
ii. শিক্ষার অভাব : রাজনীতি অংশগ্রহণের অন্যতম নিয়ামক বা পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে অতি মাত্রায় রাজনৈতিক তথ্য দিয়ে থাকে, যা তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে।এর পাশাপাশি শিক্ষা মানুষের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সৃষ্টি করে। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে শিক্ষার হার অতিমাত্রায় কম। এ অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে না এবং তাদের পক্ষে কার্যকর ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। সুতরাং শিক্ষার অভাবই গ্রামীণ জনগণের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করার অন্যতম কারণ।
iii. প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুপস্থিতি : গ্রামীণ সমাজ কাঠামো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই সীমিত। এখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজ জীবনের অন্যান্য সিদ্ধান্তকে আচ্ছাদিত করে না। তাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গৌণ থেকে যায়। শান্তিপ্রিয় গ্রামীণ মানুষ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘর্ষ পছন্দ করে না। সুতরাং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিনষ্ট করে পৃথক পৃথক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া তাদের জন্য স্বাভাবিক নয়। তাছাড়া একই গ্রামে বসবাসকারী মানুষের ভোট প্রদানে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে পছন্দের পার্থক্য ততটা লক্ষণীয় নয়। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে না। এ অবস্থা গ্রামীণ জনগণের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে হ্রাস করে।
iv. সচেতনতার অভাব : সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক।সচেতন ব্যক্তিরা অসচেতন ব্যক্তির তুলনায় বেশি মাত্রায় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। রাজনীতি বিষয়ে গ্রামীণ এলাকার লোকজনের সচেতনতা খুবই কম। এমনকি তারা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়।গ্রামীণ জনগণ অন্তর্মুখী এবং নিজেদেরকে চারপাশের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। তাই গ্রামের মুষ্টিমেয় এলিট শ্রেণি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ পেয়ে থাকে। সুতরাং সচেতনতার অভাব অন্যতম আরেকটি কারণ যা সাধারণ জনগণকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখে।
v. নৈরাশ্যবাদী মনোভাব : গ্রামীণ সমাজের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত। কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অদৃষ্টবাদী ও নৈরাশ্যবাদী।গ্রামীণ জনগণের এই সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাদেরকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। গ্রামীণ জনগণ মনে করে রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ তাদের বর্তমান পরিবর্তনে কানো প্রভাব রাখবে না। এই মনোভাব ব্যক্তিকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখে। তাদের এরূপ নৈরাশ্যবাদী মনোভাবের কারণে যুক্তিও নিহিত আছে। কেননা তারা গ্রামীণ এলিট শ্রেণি দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়ে থাকে যা তাদেরকে মানসিক দিক দিয়ে দুর্বল করে তোলে।
vi. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অভাব : বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী চেতনা নেই বলে চলে এবং মুষ্টিমেয় ব্যক্তি প্রভুত্বকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সমাজে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী চেতনা বিকাশে শিক্ষা, সচেতনতা ও ব্যক্তি নির্ভর অর্থনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ সমাজে শিক্ষা ও গণমাধ্যমের প্রচার প্রচারণা তেমনভাবে বিস্তৃতি লাভ করেনি, যার ফলে সচেতনতাও তেমনভাবে প্রতীয়মান হয় না। পরিবার কেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবনে পরিবার প্রধানের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যক্তিত্ববাদী চেতনা বিকাশের অন্যতম অন্তরায়।
vii. ঐতিহ্যের অভাব : বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের রাজনীতিতে সফলতার তেমন স্বাক্ষর আমরা দেখতে পাই না। জাতীয় রাজনীতি তো দূরের কথা স্থানীয় রাজনীতিতেই তাদের সফলতা নেই বললেই চলে। স্বাধীনতা পূর্ব সময় থেকে গ্রামীণ রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে মুষ্টিমেয় এলিটদের দ্বারা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ উঁকি দিলেও তা বাধাগ্রস্ত হয় সামরিক শাসনের দ্বারা। সুতরাং এমন কোনো সুখকর ঐতিহ্য বা অভিজ্ঞতা নেই যা গ্রামীণ মানুষকে রাজনীতিতে আকর্ষণ করে। তাই ঐতিহ্যের অভাবও অন্যতম একটি কারণ।
viii. যোগাযোগ ও পরিবহন সমস্যা : অবকাঠামোগত উন্নয়ন মানুষকে রাজনীতিতে উৎসাহিত করে।বিশেষ করে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে,থাকে। অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতারূপে প্রতীয়মান হয়। গ্রাম এলাকার পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় জনগণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
ix. রাজনৈতিক পরিবেশ : যে কোনো ব্যক্তির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ তার রাজনৈতিক পরিবেশ দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত। অংশগ্রহণের অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা অংশগ্রহণকে বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, প্রতিকূল পরিবেশ অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ কাঠামোতে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অনুকূলে নয়। কেননা এখানে যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল,রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণমূলক নয় এবং সামাজিক জীবনে সংগঠিত সন্ত্রাস এই অংশগ্রহণের মাত্রাকে আরো বেশি বাধাগ্রস্ত করে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার নিরিখে বলা যায় যে, রাজনীতির সকল পর্যায়ের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে। মৌসুমি অংশগ্রাহক হিসেবে পরিচিত গ্রামীণ জনগণ নির্বাচনের মতো বিশেষ বিশেষ মৌসুমে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে থাকে এবং বাকি সময় তারা রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। এমনকি নির্বাচনের মৌসুমেও গ্রামীণ জনগণের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!