ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি’ গল্প অবলম্বনে এর কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্রটি বিশ্লেষণ কর। বর্ণনা কর।

অথবা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি’ গল্পের নায়ক চরিত্রের ট্রাজিক পরিণতি বর্ণনা কর।
উত্তরঃ ভূমিকা :
বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাধারণ একটি ছোটগল্প ‘একরাত্রি’। নায়কের জীবনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এ গল্পে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। গল্পটি নায়কের নিজ জবানিতে সৃষ্ট হওয়ায় এ গল্পে নায়ক চরিত্রটি বেশ স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল। তার জীবনের সুখদুঃখ, চাওয়া-পাওয়া, সাফল্য-ব্যর্থতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ‘একরাত্রি’ গল্পের কাহিনি।
‘একরাত্রি’ গল্পের নায়কের পরিচয় : ‘একরাত্রি’ গল্পে নায়কের পরিচয় নির্দিষ্ট কোনো নামে নয়; তাঁর পরিচয় তাঁর কর্মে ও চিন্তার মধ্যে নিহিত। নায়কের পিতা চৌধুরী জমিদারের নায়েব ছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল ছেলেকে জমিদারি সেরেস্তার কাজ শিখিয়ে গোমস্তাগিরিতে লাগিয়ে দেবেন। নায়কের ইচ্ছা ছিল ভিন্ন।
নায়কের বাল্যকাল : নায়ক বাল্যকালে গ্রামের পাঠশালায় গড়াশোনা করেছে। সুরবালা নাম্নী প্রতিবেশিনীর সাথে বউ বউ খেলেছে। সুরবালাদের পরিবারে নায়কের বিশেষ আদর ছিল।
সুরবালার সাথে নায়ক : নায়কের সঙ্গে সুরবালার একটি মধুর সম্পর্ক ছিল। তারা একত্রে পাঠশালায় যেত এবং অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশা করতো। সুরবালাদের বাড়িতে নায়কের অবাধ যাতায়াত ছিল। সুরবালার মা দুটিকে একত্রে দেখে বলাবলি করতেন ‘আহা দুটিতে বেশ মানায়।’ সুরবালার প্রতি নায়কের একটা আলাদা মানসিকতা কাজ করতো। সে সুরবালাকে শাসন করতো। সুরবালাও তা নির্দ্বিধায় মেনে নিতো। নায়কের ধারণা ছিল সুরবালা শুধু তার প্রভুত্ব স্বীকার করবার জন্য পিতৃগৃহে জন্ম গ্রহণ করেছে।
নায়কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা : নায়কের পিতা ছেলেকে জমিদারির সেরেস্তার কাজ শিখিয়ে গোমস্তাগিরিতে লাগাতে চাইলেও নায়ক তা মোটেই পছন্দ করেনি। নায়ক ছিল যথেষ্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তাই সে ঠিক করে রেখেছিলো লেখাপড়া শিখে- “কালেক্টারের নাজির না হইতে পারিতো জজ আদালতের হেডক্লার্ক হইব। নায়কের কলকাতা গন উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য নায়ক কলকাতা পালিয়ে আসে। তার তখন চিন্তাভাবনা নীলরতনের মতো লেখাপড়া শিখে নাজির অথবা ভাল আদালতের হেডক্লার্ক হবে। কিন্তু শহরে এসে তার সমস্ত উদ্দেশ্য অন্য পায়। দেশোদ্ধারের জন্য সে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
শিক্ষালাভ: শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসে নায়ক প্রথমে অসুবিধায় পড়লেও পরে বাবার আর্থিক সাহায্যে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে লাগলে। এভাবেই এক্ট্রেস (মাধ্যমিক) পাস করল। ফার্স্ট আর্টস পরীক্ষা দেবার সময় হঠাৎ করে পিতারn মৃত্যুর জন্য তার লেখাপড়ায় ইতি টানতে হলো। নায়কের দেশপ্রেম কলকাতায় গিয়ে নায়কের শুরু হয় এক নতুন জীবন। দেশের জন্য কাজ করা তার কাছে সর্বগণ বলে মনে হলো। নিয়মিত সভাসমিতিতে যোগ দিতে থাকলো। মাটনীনি গ্যারিনাপডি তার আদর্শ নেতা হয়ে গেলো। দেশের কাছের জন্য নিজের প্রাণটুকু বিসর্জন দেওয়া তার কাছে গর্বের মনে হলো দেশের কাজের জন্য সে বাল্য প্রণয়িনী সুরবালার সাথে বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করল। বিয়ের জন্য পিতার পীড়াপীড়িতে তার আন্তরিক অভিলায় এভাবে ব্যক্ত হয়েছে। “কিন্তু এ দিকে আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিয়াছি আজীবন বিবাহ না করিয়া স্বদেশের জন্য মরিব।” দেশপ্রেম নায়ক চরিত্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হিসে প্রকাশ পেয়েছে এ পর্বে।
জীবন সান : হঠাৎ পিতার মৃত্যুতে এ পর্বে নায়ক সমস্ত ভাবকল্পনা এবং উচ্চাশা অপাগুলি দিয়ে নোয়াখালী অঞ্চলের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। বাস্তবতার নিরীখে সে স্কুল শিক্ষকের পদ গ্রহণ করে। কেননা বাড়িতে সে ছাড়াও তার মা এবং দুটি ভগিনীর তার তার কাঁধে এসে পড়ে। শিক্ষকতা জীবনের প্রথম দিকে তার ভিতরে দেশপ্রেমের রঙিন স্বপ্ন ছিল শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সে কাজ শুরু করে। কিন্তু হেডমাস্টারের অনীহা এবং ছাত্রদের উদাসহীনতায় সে হতাশ হয়। ‘দেখিলাম, ভাবী ভারতবর্ষ অপেক্ষা আসন্ন একজামিনের তাড়া ঢের বেশি। আবদিগকে আমার অ্যালজেব্রার বহির্ভূত কোন কথা বলিলে হেডমাস্টার রাগ করেন।’
নায়ক চরিত্রের অদূরদর্শীতা : পিতার মৃত্যুতে তার সকল উচ্চাশা দূরীভূত হলে আত্মসমালোচনায় সে দক্ষ হতে থাকে। সুরবালাকে অবহেলা করা এবং দেশপ্রেমের রঙিন স্বপ্ন তার কাছে বাতুলতা মনে হয়। যে সুরবালাকে সে সহজেই পাত করতে পারত আজ তার সাথে একটি কথা বলার অধিকারও তার নেই। সুরবালাকে সে হারিয়েছে নিজের খামখেয়ালীর জন্য অধ্য আজ নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে ক্ষতবিক্ষত হয়। সুরবালা তার কী না হতে পারত। নায়কের আত্মোপলব্ধি স্কুল মাস্টারের চাকরি নিয়ে নোয়াখালী আসার পর নায়ক আবার সুরবালার কাছাকাছি হলো।
রামলোচন রায়ের সাথে বিবাহ সুরে সুরবালা এখন এখানেই বাস করে। একদিন রামলোচন রায়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে পরোক্ষভাবে সে সুরবালার উপস্থিতি টের পায়। সেদিন রামলোচন বাবুর বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর নিজের ভিতর একটি পরিবর্তন লক্ষ করে। সুস্তপ্রেম তার ভিতরে আবার উজ্জীবিত হয়ে উঠে। কল্পনা এবং বাস্তবতার ফারাকটুকু তার কাছে ধরা পড়ে এভাবে-‘মনুষ্যসমাজ একটি জটিল ভ্রমের জাল। ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করতে কাহারও মনে পড়ে না, তার পরে বেঠিক সময়ে বেঠিক বাসনা নিয়ে অস্থির হয়ে মরে।’ অবশেষে এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাতে সুরবালাকে কাছে পাওয়ার স্মৃতি নিয়েই নায়ককে সম্ভা থাকতে হয়।
উপসংহার : আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে, মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারটা যেন বিধাতা প্রদত্ত। সে চায় এক; আর হয় আর এক। ‘একরাত্রি’ গল্পে নায়কের জীবনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জীবন বাস্তবতার কাছে সমস্ত ভাবকল্পনা এখানে পরাজিত। নায়কের জীবনের ট্রাজিক পরিণতি কল্পনাবিলাসী মানুষকে বাস্তবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করবে সন্দেহ নেই।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!