অথবা, যৌতুক প্রথার সংজ্ঞা দাও।
উত্তরায় ভূমিকা :
বাংলাদেশে যৌতুক একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। যদিও সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম। পরে পাত্রী পক্ষ কর্তৃক পাত্রপক্ষকে অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ প্রদান করে। যৌতুক নারীর মর্যাদাকে খর্ব করে।
যৌতুক প্রথা : ইসলাম ধর্মে বিবাহকে কেন্দ্র করে পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রপক্ষকে যৌতুক দেয়ার কোন বিধান নেই। বিবাহকে ফলপ্রসূ করার জন্য পাত্র বা পাত্রী যে কোন পক্ষ থেকে অপরপক্ষকে অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ প্রদানকে
যৌতুক বলে। যদিও দেনমোহর এর অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশে যৌতুকের প্রচলন ঘটেছে হিন্দুরীতি অনুসরণের মাধ্যমে। বিরাজমান। যৌতুক মূলত একটি প্রাচীন কুপ্রথা। এ কুপ্রথার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়। কালক্রমে এটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চলে আসে। একটি সামাজিক কুপ্রথা হিসেবে এটি বর্তমান বিশ্বের সর্বত্ ২০০৩ সালে যৌতুক নিরোধ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বাংলাদেশের আইনে যৌতুক দেয়া এবং নেয়া
উভয়ই দণ্ডনীয় অপরাধ অধিকার না থাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিবাহের সময় বা পরে কন্যাকে অর্থ বা সম্পদ প্রদান করে।
যৌতুক নানাবিধ সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। কন্যাপক্ষ যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারলে কন্যা এবং কখনো কখনো কন্যাপক্ষের লোকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। যৌতুকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বিবাহ ভেঙে যায়, কনে নির্যাতনের কারণে মৃত্যুবরণ করে, অঙ্গহানি, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদির ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এভাবে যৌতুক মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনকে বিষিয়ে তুলে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মূলত কুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তিরা যৌতুক নামক অন্যায় দাবি উত্থাপন করে। যৌতুক একটি সামাজিক সমস্যা। আইন প্রণয়ন করে এ সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। যৌতুকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে এটি দূর করা সম্ভব।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%85/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!