অথবা, মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনার অবদান কিরূপ?
অথবা, সংক্ষেপে মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনার অবদান কি?
অথবা, মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনার অবদান সম্পর্কে যা জানা সংক্ষেপে লেখ।
অথবা, সংক্ষেপে মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনার অবদান উল্লেখ কর।
উত্তর৷৷ ভূমিকা :
মুসলিম দর্শনে যে সকল দার্শনিক মৌলিক চিন্তা ও গভীর প্রজ্ঞা দ্বারা অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ইবনে সিনা তাদের মধ্যে অন্যতম। দর্শনকে সঠিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ইসলামের সাথে সমন্বয়সাধন করে সমৃদ্ধ দর্শন রচনা করেন। দর্শনের বিভিন্ন শাখায় তিনি গভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন।
মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনার অবদান মূল্যায়ন : ইবনে সিনার দর্শনকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : যুক্তিবিদ্যা, মনোবিদ্যা, অধিবিদ্যা ও পদার্থবিদ্যা। ইবনে সিনা ছিলেন মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ। দর্শনশাস্ত্র ছাড়াও তিনি একাধারে বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইউরোপের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হিসেবে তার সুনাম ছিল। চিকিৎসা শাস্ত্রে তিনি ‘কানুস’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইবেল বলা হয়। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেছেন, “আরবি ভাষায় লিখিত ‘কানুস’ গ্ৰন্থখানি ১৫৯৩ সালে রোমে প্রথম মুদ্রিত হয় এবং এটি চিকিৎসা শাস্ত্রে লিখিত প্রথম গ্রন্থ । “বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি নানা বিষয়ের উপর ১২৫টি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তার দার্শনিক বিশ্বকোষ ‘কিতাবুস সিফা’ মধ্য ইউরোপে দর্শনশাস্ত্রের একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতো। সারাবিশ্বে আজও এটি একটি অন্যতম গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। সৈয়দ আমীর আলী বলেছেন, “ইবনে সিনা নিঃসন্দেহে তার যুগের প্রতিভূ ছিলেন, গোঁড়া স্বার্থান্বেষীদের বিরোধিতার মুখেও তিনি তার পরবর্তী যুগের চিন্তাধারার উপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তিনি এরিস্টোটলের দর্শনের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করেন এবং এরিস্টোটলের অপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ধারণার মধ্যে খোদা ও মানুষের মধ্যস্থিত শূন্যতা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে
জাগতিক বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কীয় মতবাদের সাহায্যে পূরণ করেন।” এরিস্টোটলের দর্শনের একজন অন্যতম ভক্ত ও ভাষ্যকার ছিলেন ইবনে সিনা। তিনি এরিস্টোটলের দর্শনের সাথে প্রাচ্যের দর্শনের সমন্বয় সাধন করেন। তাই পরবর্তীতে তার ধ্যানধারণার প্রতি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ দার্শনিক বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এ কারণে তাকে দার্শনিকদের যুবরাজ বলেও অভিহিত করা হয়। ডেকার্ট স্মিনোজা, ডারউইন, জালালউদ্দিন রুমী ও ইকবালের ন্যায় বহু পাশ্চাত্য দার্শনিকবৃন্দ তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ইবনে সিনার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে দান্তে বলেছেন, “প্রতিভার দিক দিয়ে ইবনে সিনা হিপোক্রেটিস ও গ্যালনের
মাঝামাঝি ছিলেন।”
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, মুসলিম দর্শনে ইবনে সিনা যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তিনি যে দর্শন রচনা করেছেন তা মুসলিম দর্শনকে আরো অধিক সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে তাঁর অধিবিদ্যা, মনোবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কীয় আলোচনা মুসলিম জ্ঞানভাণ্ডারে পরিপূর্ণতা
এনেছে। আর তাই তার অবদানের জন্য সমগ্র বিশ্ব তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!