অথবা, মুসলিম দর্শনে আল কিন্দির অবদান কিরূপ?
অথবা, মুসলিম দর্শনে আল কিন্দির অবদান সংক্ষেপে লিখ।
অথবা, মুসলিম দর্শনে আল কিন্দির অবদান কী?
অথবা, মুসলিম দর্শনে আল কিন্দি কী অবদান রেখেছেন? সংক্ষেপে উল্লেখ কর।
অথবা, মুসলিম দর্শনে আল কিন্দির অবদান সম্পর্কে যা জান সংক্ষেপে লিখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
যে কয়জন মুসলিম চিন্তাবিদগণের চিন্তা দ্বারা মুসলিম চিন্তার ও মানস ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল তাদের মধ্যে আল-কিন্দি অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রথম আরব দার্শনিক। তার চিন্তার মাধ্যমে মুসলিম চিন্তাধারার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠে ও বিকাশলাভ করে। মুসলিম দর্শনে তার অবদান অনস্বীকার্য।
মুসলিম দর্শনে আল-কিন্দির অবদান : মুসলিম দর্শনে আল-কিন্দির অবদান যে গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি চেষ্টা করেছেন কিভাবে মুসলিম ধর্মতত্ত্বকে দার্শনিক যুক্তি ও পদ্ধতির উপর দাঁড় করানো যায়। নিে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচিত হলো :
ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় : মুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের অন্যতম প্রচেষ্টা ছিল কিভাবে ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়। আল-কিন্দি এ দার্শনিক ধারায় অন্যতম চিন্তার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি বলেছেন, ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোন বিরোধ নেই। বিরোধ যাই থাক তা নিতান্ত গৌণ। তবে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য তা হলো ধর্ম ও দর্শনের মূল লক্ষ্য থাকে সত্তা ও সত্য সম্পর্কে উত্তীর্ণ লাভ। তাই ধর্ম ও দর্শন কখনও পরস্পরবিরোধী হতে পারে না।
নির্গমন মতবাদ : মুসলিম দর্শনের যে অবদানের জন্য আল-কিন্দি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়, সেটি হলো নির্গমন মতবাদ। এ মতবাদ অনুসারে, প্রকৃত সত্তা হতে অন্যান্য সত্তা নির্গমিত হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহর জাত ও সিফাত হতে এ পৃথিবীতে এবং বিশ্বচরাচরে যা কিছু সৃষ্ট সবকিছুই সৃষ্টি হয়েছে।
Theory of Five Essence : আল-কিন্দি হলেন প্রথম মুসলিম চিন্তাবিদ, যিনি প্রথম মুসলিম চিন্তায় আধিবিদ্যক চিন্তার সূচনা করেন। তিনি তার ‘On the Five Essence’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেছেন, এ জগতের মূল উপাদান হলো পাঁচটি। সেগুলো হলো :
১. জড় : জড় নিজে সারধর্ম তবে কোনভাবে সারধর্মের গুণ হিসেবে অবস্থান করে না। থাকবে, ততদিন থাকবে প্রাথমিক গুণ ।
তিনি বলেছেন, যতদিন জড়
২. আকার : আল-কিন্দি আকারকে দুইভাগে ভাগ করেন। একটি হলো জড়ের গুণ, যা জড়ের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে বর্তমান আর অন্যটি হলো সে গুণসমষ্টি, যা দ্বারা জড়কে বর্ণনা করা হয়।
গতি : কিন্দি গতিকে ছয়ভাগে ভাগ করেছেন, সেগুলো হলো : গুণগত, স্থানগত, উপাদানগত, বিলোপকারী, বৃদ্ধি এবং হ্রাস, গতি বহুমুখী।
কাল : কাল ও গতি প্রায় সমধর্মী তবে কাল যেখানে একই দিকে ধাবিত হয়, সেখানে গতি বিভিন্ন দিকে ধাবিত হয়।
দেশ : দেশ হলো এমন কাঠামো যা বস্তুকে পরিবেষ্টন করে থাকে। দেশ ছাড়া বস্তুকে কল্পনা করা যায় না। বস্তু না থাকলেও দেশ থাকে।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, মুসলিম চিন্তাকে যুক্তির উপরে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে আল- কিন্দির অবদান অনস্বীকার্য। তিনি প্রথম আরব দার্শনিক, যিনি গ্রিক চিন্তাকে মুসলিম দর্শনে প্রবাহিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!