ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

মার্কসের নারীবাদী রাজনৈতিক মতবাদ আলোচনা কর।

অথবা, নারীবাদ সম্পর্কে মার্কসের রাজনৈতিক দর্শন বর্ণনা কর।
অথবা, মাকর্সের নারীবাদী রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কে যা জান লিখ।
অথবা, মার্কসবাদের নারীবাদী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধর।
অথবা, নারীবাদী রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কে মাকর্সবাদে কী বলা হয়েছে? বিস্তারিত লিখ।
অথবা, মার্কসের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
মার্কসীয় সমাজতান্ত্রিক নারীবাদী প্রবক্তাগণ বিশ্বাস করেন যে, নারীনির্যাতন ব্যক্তির স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের ফল নয়, বরং ব্যক্তি যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বাস করে সে কাঠামোর ফলশ্রুতি। পরিবার ও কর্মস্থলে নারীর ভূমিকা যদি পুরুষের অধীন করে না রাখত, তাহলে তার মনমানসিকতা অন্যরকম হতো। নারীর বর্তমান অবস্থান ও কাজকর্ম যা তার মধ্যে হীনতার চেতনাবোধ সৃষ্টি করেছে। তার অস্তিত্ব ধনিকতন্ত্রের অন্তর্গত। নারীর বর্তমান অবস্থার মাধ্যমে হয়েছে পুঁজিবাদের জন্ম। কাজেই ধনিকতন্ত্র নারীর অবস্থান ও ক্রিয়াকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে হিনম্মন্য চেতনাবোধ সৃষ্টি করেছে। তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতবাদে ব্যাপকভাবে নারী স্থান পেয়েছে।
মার্কসের রাজনৈতিক মতবাদ ও নারী : মার্কস তাঁর দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নারীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. শ্রেণি সচেতনতার সৃষ্টি হবে : মার্কস বলেছেন যে, শ্রমিক পুরুষ ও নারী উভয় হতে পারে। শ্রমিক যখন নিজেদের শ্রমিক শ্রেণিতে সুসংগঠিত করবে তখন তাদের মধ্যে শ্রেণি সচেতনতার সৃষ্টি হবে। তখন নারী পুরুষ নির্বিশেষে শ্রেণিসংগ্রামের মাধ্যমে ধনিকতন্ত্রের কবর রচনা করবে। মানবসমাজের উত্তরণ ঘটবে প্রথমে সমাজতন্ত্র এবং সর্বশেষ,
সাম্যবাদে। ধনিকতন্ত্রের ধ্বংসাবশেষের উপর যে নতুন সমাজ গড়ে উঠবে, সেখানে মানুষের উপর মানুষের শোষণ থাকবে তাই কেবল সাম্যবাদই দিতে পারে নারীদের মুক্তি। না।
২. সব মানুষ সমান : সাম্যবাদের মূলমন্ত্র হলো সকল মানুষ ও সকল নারী পুরুষ হবে এক সম্প্রদায়। তারা সকলেই হবে স্বাধীন, সমতাপূর্ণ, পরস্পর সমান। এ প্রসঙ্গে Marx বলেছেন, “The Complete and conscious | return of man himself as a social, that is human being.” অর্থাৎ, মানুষ তার মানব প্রকৃতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। শোষণহীন, প্রাধান্যহীন, শ্রেণিহীন নতুন সমাজে, সামাজিক তথা মানবিক অস্তিত্বরূপে প্রতিটি মানুষের পরিপূর্ণ এবং সচেতন প্রত্যাবর্তন ঘটবে। তাই মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সমতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৩. মনমানসিকতার পরিবর্তন : নারীর মুক্তির জন্য মার্কস এক নতুন সমাজের কল্পনা করেছেন। এ নতুন সমাজব্যবস্থা নারীর প্রত্যাশা পূরণ করবে। এখানে নারী হবে মুক্ত ও স্বাধীন। নারীর উপর পুরুষের শাসন ও শোষণ বিলুপ্ত হবে। যেসব শক্তি নারী নির্যাতনের কারণ তারা পরাভূত হয়ে নিশ্চিহ্ন হবে, নারীমুক্তি পাবে। নতুন সমাজব্যবস্থায় মানুষের
মনমানসিকতায় পরিবর্তন আসবে। তাহলে প্রভু বা ক্রীতদাস বলে কিছু থাকবে না। নারী ও পুরুষ পরস্পরে মিলে এমন সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলবে, যেখানে নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না। ফলে নারী ও পুরুষ সকলে নিজ নিজ মানবিক সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনে সক্ষম হবে। মানবিক ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ পাবে নারীসমাজ। মানুষের উপর মানুষের, নারীর উপর পুরুষের প্রভুত্ব থাকবে না। প্রত্যেকের স্ব-স্ব ইচ্ছায় কাজ করার স্বাধীনতা থাকবে এবং প্রত্যেকে নিজে যা হতে চায়, তা হওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধক থাকবে না। গৃহকর্মে সামাজিক অধিগ্রহণ বা গৃহকর্মের মজুরি নির্ধারণ এ দু’প্রক্রিয়া নারীর ঐতিহ্যবাহী কর্মবিভাজনের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু মার্কসীয় নারীবাদীরা উদ্বেগের সাথে লম্ব করেছেন যে, যখন নারীকে বহিঃঅঙ্গনে, জন শিল্পে চাকরি দেয়া হয়, তখন এমন কাজ দেয়া হয়, যা গৃহকর্মের সম্প্রসারিত রূপ। যেমন- শিক্ষা, পরিসেবা, ব্যক্তিগত সহকারী, রান্না, সেলাই ইত্যাদি। উপরন্তু ঘর-গৃহস্থালির সাথে এগুলোকে এক করে দেখা হয় বলে এ কাজগুলোর অবমূল্যায়ন করা হয় এবং মজুরি কম দেয়া হয়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবারের অস্তিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবারের তথাকথিত আর্থিক ভিত্তি ধ্বংস করে প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসার ভিত্তিতে পরিবারের পুনর্গঠন করতে হবে। মার্কসবাদের মতে, নারীরা তাদের শ্রেণিস্বার্থ উদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধ হলে নির্যাতন কমবে। ফলে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রেণিস্বার্থ আদায় করতে হবে। নারীরা যত সচেতন হবে তত তাদের মুক্তির সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। নারীমুক্তির মাধ্যমে সমাজকাঠামোর পরিবর্তন, নতুন সমাজ গড়া এবং মনমানসিকতার পরিবর্তন আসবে। সমাজে সকলের মধ্যে সাম্য বিরাজ করবে। ধনী-গরিব বলে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্যই থাকবে না। ফলে কেউ মনিব, কেউ দাস বা ভৃত্য বলে সমাজে ভেদাভেদ থাকবে না। তাই সমাজতন্ত্রের আদর্শে নারীদের বিশ্বাসী হয়ে নিজেদের মুক্তি আনতে হবে, অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব হবে না।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!